সংবাদ

আজই ইরানে মার্কিন হামলার জোরালো ইঙ্গিত ট্রাম্পের


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

আজই ইরানে মার্কিন হামলার জোরালো ইঙ্গিত ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই রোববার (২৫ অক্টোবর) যেকোনো সময় ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র–এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বড় কোনো কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এই মুহূর্তে সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট সময় বা পরিকল্পনা তিনি আগেভাগে প্রকাশ করতে চান না। ইরান শেষ পর্যন্ত কোনো আপস বা চুক্তিতে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে নিজের সংশয়ের কথা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি যেদিকেই মোড় নিক না কেন, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে।

এদিকে চলমান এই সামরিক হুমকির মুখে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অভ্যন্তরীণ ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এই স্থবির অবস্থার অবসান দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধাবস্থার কারণে সাধারণ নাগরিকদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তেল রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশটির অর্থনীতি এখন মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে।

সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবিয়া’র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে তারা।

তবে এই খবরের সত্যতা নাকচ করে দিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’। তেহরানের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নতুন কোনো প্রস্তাব দেওয়ার তথ্য সঠিক নয়। হরমুজ প্রণালি চালুর বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাবও তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এর আগে জানানো পূর্বের সাতটি শর্তেই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে দেশটি।

এর আগে গত জুনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, মার্কিন নৌঅবরোধ প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বৃহত্তর চুক্তির বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে একদিকে মার্কিন সামরিক হামলার তীব্র আশঙ্কা এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা–সব মিলিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


আজই ইরানে মার্কিন হামলার জোরালো ইঙ্গিত ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই রোববার (২৫ অক্টোবর) যেকোনো সময় ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র–এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বড় কোনো কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এই মুহূর্তে সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট সময় বা পরিকল্পনা তিনি আগেভাগে প্রকাশ করতে চান না। ইরান শেষ পর্যন্ত কোনো আপস বা চুক্তিতে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে নিজের সংশয়ের কথা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি যেদিকেই মোড় নিক না কেন, শেষ পর্যন্ত জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে।

এদিকে চলমান এই সামরিক হুমকির মুখে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের অভ্যন্তরীণ ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এই স্থবির অবস্থার অবসান দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধাবস্থার কারণে সাধারণ নাগরিকদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তেল রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশটির অর্থনীতি এখন মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে।

সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবিয়া’র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে তারা।

তবে এই খবরের সত্যতা নাকচ করে দিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’। তেহরানের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নতুন কোনো প্রস্তাব দেওয়ার তথ্য সঠিক নয়। হরমুজ প্রণালি চালুর বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাবও তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এর আগে জানানো পূর্বের সাতটি শর্তেই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে দেশটি।

এর আগে গত জুনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, মার্কিন নৌঅবরোধ প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বৃহত্তর চুক্তির বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে একদিকে মার্কিন সামরিক হামলার তীব্র আশঙ্কা এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা–সব মিলিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত