শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলাবাসীর দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষা যেন ফুরোচ্ছেই না। কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ভাষাসৈনিক ডা. গোলাম মাওলা সেতুর কাজ ৯ বছরেও শেষ হয়নি। দফায় দফায় ঠিকাদার পরিবর্তন আর দীর্ঘসূত্রতার কারণে জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন-কবে শেষ হবে এই সেতুর নির্মাণ? তবে তৃতীয় দফায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর আবারও কাজ শুরু হওয়ায় এবার অন্তত আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পূর্ব প্রান্তে ভায়াডাক্টের সেন্টারিং ও রড বাঁধার কাজ চলছে। শ্রমিকেরা পাইপ ওয়েল্ডিং ও কাঠামোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে নড়িয়া-জাজিরা-ঢাকা সড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত ৯ বছরে দুই দফা ঠিকাদার বদল করা হলেও কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি।
প্রথম ও দ্বিতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যাওয়ায় শুরুতে ১৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকায়। বর্তমানে জান্নাত কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও রেজাউল করিম জেভি যৌথভাবে প্রায় ২১ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় অবশিষ্ট কাজ শেষ করার দায়িত্ব পেয়েছে।
২০২৩ সালে পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলার পর থেকে নড়িয়া-জাজিরা সড়কে চলাচলকারী কয়েক লাখ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ট্রলারই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
জান্নাত কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আরাফাত রহমান জনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই নদীর মাঝের অংশের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করতে পারব।’
এলজিইডি শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, ‘আগের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নতুন ঠিকাদারের কাজ আমরা নিয়মিত তদারকি করছি যাতে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হয় এবং মানুষের ভোগান্তি দূর হয়।’
আপনার মতামত লিখুন