সংবাদ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায়ও থামছে না অপরাধ


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায়ও থামছে না অপরাধ
ছবি : এআই

  • ৬ মাসে ১,৭৭৫টি খুন, ১০ হাজার নারী ও শিশু নির্যাতন
  • প্রতিহিংসা, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে হত্যাকাণ্ড
  • নেপথ্যে পুলিশের মাঠপর্যায়ের স্থবিরতা

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া; দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিদিন ঝরছে রক্ত। কখনো পরকীয়া, কখনো পারিবারিক কলহ, আবার কখনো স্রেফ প্রতিহিংসার জেরে নিভে যাচ্ছে তাজা সব প্রাণ। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এই অপরাধের জাল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতা আর প্রযুক্তির ব্যবহারের পরও যেন কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না খুনের উৎসব, নারী-শিশু নির্যাতন এবং মাদকের নীল দংশনের।

পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাসেই দেশজুড়ে সংঘটিত হয়েছে হাজার ৭৭৫টি নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। একই সময়ে নারী শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১০ হাজার ১০৪ জন মানুষ। এই পরিসংখ্যান কেবল নথিবদ্ধ মামলার হিসাব, এর বাইরে আড়ালে থেকে যাওয়া অপরাধের খতিয়ান আরও দীর্ঘ, যা ভাবিয়ে তুলছে সমাজবিজ্ঞানীদের।

আইসক্রিমের প্রলোভনে বছরের জান্নাতুলকে হত্যা

পৈশাচিকতার চরম রূপ দেখা গেছে গত ২৪ মার্চ খুলনার লবণচরা এলাকায়। চার বছরের এক নিষ্পাপ শিশু জান্নাতুল মাওয়া। যার দুনিয়াটা ছিল কেবলই খেলাধুলা আর আবদারের। সেই শিশুকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় এক আত্মীয়। এরপর নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় গহীন জঙ্গলে। ২৫ মার্চ রাতে স্বজনরা যখন সেই জঙ্গল থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন, তখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন নিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, "গত ২৪ মার্চ খুলনার লবণচরা এলাকার একটি বাসা থেকে এক আত্মীয় বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে বাসা থেকে বের করে নিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পর তার লাশ জঙ্গলে ফেলে রেখে পরিবারকে খবর দিয়েছে। ২৫ মার্চ রাতে পরিবারের সদস্যরা জঙ্গল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন আসামি তোতা মিয়াকে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্যমতে, তোতা মিয়া এক ভয়ংকর খুনি। সে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে বলেছে, "সে প্রথম স্ত্রীকে হত্যার দায়ে প্রায় ১৯ বছর জেল খেটেছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার ময়না নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। ওই শিশুটির পরিবার ময়নাকে বিয়ে করতে তাকে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর তার সংসার ভেঙে যায়। এতে ময়নার স্বামী তোতা মিয়ার সন্দেহ ওই শিশুটির পরিবার ময়নাকে তার কাছ থেকে নিয়ে গেছে। এরপরই প্রতিশোধ নিতে সন্দেহজনক অভিযুক্ত ওই শিশুটির বাড়িতে বেড়াতে যায়। কিছুক্ষণ পর আদর করে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে খুলনার লবণচরা হরিণাঘাট এলাকার মহাসড়কের জঙ্গল এলাকায় শিশুটিকে নিয়ে হত্যা করেছে।"

মাসের পর মাস লাশের মিছিল অপরাধের গ্রাফ

পুলিশ সদর দপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে গা শিউরে ওঠে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে হত্যা করা হয়েছে ২৮৭ জনকে। ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৫০। মার্চ মাসে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১৭টিতে। এপ্রিল মাসে ২৮৮ জন, মে মাসে ৩১০ জন এবং জুন মাসে সর্বোচ্চ ৩২৩ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

কেবল খুন নয়, অন্যান্য অপরাধের গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে মোট ১৪ হাজার ৫৮টি মামলা রেকর্ড হয়, যার মধ্যে ৫২টি ডাকাতি, ১৬৩টি দস্যুতা এবং হাজার ২৮১টি নারী শিশু নির্যাতনের ঘটনা। ফেব্রুয়ারিতে মামলার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৭৫টি, যার মধ্যে দস্যুতা ১৩৪টি এবং মাদক সংক্রান্ত মামলা হাজার ৩৫৯টি।

মার্চ মাসে অপরাধের সংখ্যা একলাফে বেড়ে হয় ১৬ হাজার ১৫৭টি, যেখানে মাদক সংক্রান্ত মামলাই ছিল হাজার ৬২টি। এপ্রিল মাসে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ হাজার ১৮০টি, যার মধ্যে নারী শিশু নির্যাতন ছিল হাজার ১১টি। মে মাসে মোট ১৮,১৪৯টি মামলার মধ্যে মাদক সংক্রান্ত মামলাই ছিল হাজার ৯২টি। আর জুন মাসে অপরাধের সব রেকর্ড ভেঙে ১৮ হাজার ৭৪৯টি মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে নারী শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল হাজার ১৯৪টি এবং মাদক মামলা ছিল হাজার ৫৮৫টি।

মাঠপর্যায়ে পুলিশের স্থবিরতা ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ

কাগজে-কলমে অপরাধের এই বিশাল চিত্র থাকলেও বাস্তবে এর চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশ প্রশাসনে এক বড় ধরনের রদবদল ঘটে।

বহু দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, গ্রেপ্তার কিংবা ওএসডি করা হয়। এই শুদ্ধি অভিযানের পর মাঠপর্যায়ের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এখনো এক ধরনের অজানা আতঙ্ক স্থবিরতা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে বা ডাকাতি-চুরির ঘটনা ঘটলে পুলিশকে খবর দিলেও তারা আগের মতো আর দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় না। অনেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিরুদ্ধেও রয়েছে উদাসীনতার অভিযোগ। ফলে ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে মামলা করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং অনেক বড় বড় অপরাধের ঘটনাও থানা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি: অপরাধী যেই হোক ছাড় নেই

মাঠপর্যায়ের স্থবিরতার অভিযোগ থাকলেও মামলার তদন্তকারী সংস্থাগুলো দাবি করছে, তারা শতভাগ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে। পিবিআইয়ের তদন্ত তদারকি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি হত্যার ঘটনার পরপরই রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায় এবং অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের সোপর্দ করে। অনেক ক্ষেত্রে ক্লুলেস মামলার আসামিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা নারী শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো আপোস নেই। আসামিদের চিহ্নিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সার্বিক পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "অপরাধ সংঘটিত হলে প্রত্যেকটির ঘটনার মামলা নেওয়া, আসামি গ্রেপ্তারসহ আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দরকার হলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেওয়াও হচ্ছে। আর অপরাধ দমনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায়ও থামছে না অপরাধ

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

  • ৬ মাসে ১,৭৭৫টি খুন, ১০ হাজার নারী ও শিশু নির্যাতন
  • প্রতিহিংসা, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে হত্যাকাণ্ড
  • নেপথ্যে পুলিশের মাঠপর্যায়ের স্থবিরতা

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া; দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিদিন ঝরছে রক্ত। কখনো পরকীয়া, কখনো পারিবারিক কলহ, আবার কখনো স্রেফ প্রতিহিংসার জেরে নিভে যাচ্ছে তাজা সব প্রাণ। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এই অপরাধের জাল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতা আর প্রযুক্তির ব্যবহারের পরও যেন কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না খুনের উৎসব, নারী-শিশু নির্যাতন এবং মাদকের নীল দংশনের।

পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাসেই দেশজুড়ে সংঘটিত হয়েছে হাজার ৭৭৫টি নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। একই সময়ে নারী শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১০ হাজার ১০৪ জন মানুষ। এই পরিসংখ্যান কেবল নথিবদ্ধ মামলার হিসাব, এর বাইরে আড়ালে থেকে যাওয়া অপরাধের খতিয়ান আরও দীর্ঘ, যা ভাবিয়ে তুলছে সমাজবিজ্ঞানীদের।

আইসক্রিমের প্রলোভনে বছরের জান্নাতুলকে হত্যা

পৈশাচিকতার চরম রূপ দেখা গেছে গত ২৪ মার্চ খুলনার লবণচরা এলাকায়। চার বছরের এক নিষ্পাপ শিশু জান্নাতুল মাওয়া। যার দুনিয়াটা ছিল কেবলই খেলাধুলা আর আবদারের। সেই শিশুকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় এক আত্মীয়। এরপর নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় গহীন জঙ্গলে। ২৫ মার্চ রাতে স্বজনরা যখন সেই জঙ্গল থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন, তখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন নিয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, "গত ২৪ মার্চ খুলনার লবণচরা এলাকার একটি বাসা থেকে এক আত্মীয় বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে বাসা থেকে বের করে নিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পর তার লাশ জঙ্গলে ফেলে রেখে পরিবারকে খবর দিয়েছে। ২৫ মার্চ রাতে পরিবারের সদস্যরা জঙ্গল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন আসামি তোতা মিয়াকে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্যমতে, তোতা মিয়া এক ভয়ংকর খুনি। সে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে বলেছে, "সে প্রথম স্ত্রীকে হত্যার দায়ে প্রায় ১৯ বছর জেল খেটেছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার ময়না নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। ওই শিশুটির পরিবার ময়নাকে বিয়ে করতে তাকে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর তার সংসার ভেঙে যায়। এতে ময়নার স্বামী তোতা মিয়ার সন্দেহ ওই শিশুটির পরিবার ময়নাকে তার কাছ থেকে নিয়ে গেছে। এরপরই প্রতিশোধ নিতে সন্দেহজনক অভিযুক্ত ওই শিশুটির বাড়িতে বেড়াতে যায়। কিছুক্ষণ পর আদর করে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে খুলনার লবণচরা হরিণাঘাট এলাকার মহাসড়কের জঙ্গল এলাকায় শিশুটিকে নিয়ে হত্যা করেছে।"

মাসের পর মাস লাশের মিছিল অপরাধের গ্রাফ

পুলিশ সদর দপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে গা শিউরে ওঠে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে হত্যা করা হয়েছে ২৮৭ জনকে। ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৫০। মার্চ মাসে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১৭টিতে। এপ্রিল মাসে ২৮৮ জন, মে মাসে ৩১০ জন এবং জুন মাসে সর্বোচ্চ ৩২৩ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

কেবল খুন নয়, অন্যান্য অপরাধের গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে মোট ১৪ হাজার ৫৮টি মামলা রেকর্ড হয়, যার মধ্যে ৫২টি ডাকাতি, ১৬৩টি দস্যুতা এবং হাজার ২৮১টি নারী শিশু নির্যাতনের ঘটনা। ফেব্রুয়ারিতে মামলার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৭৫টি, যার মধ্যে দস্যুতা ১৩৪টি এবং মাদক সংক্রান্ত মামলা হাজার ৩৫৯টি।

মার্চ মাসে অপরাধের সংখ্যা একলাফে বেড়ে হয় ১৬ হাজার ১৫৭টি, যেখানে মাদক সংক্রান্ত মামলাই ছিল হাজার ৬২টি। এপ্রিল মাসে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ হাজার ১৮০টি, যার মধ্যে নারী শিশু নির্যাতন ছিল হাজার ১১টি। মে মাসে মোট ১৮,১৪৯টি মামলার মধ্যে মাদক সংক্রান্ত মামলাই ছিল হাজার ৯২টি। আর জুন মাসে অপরাধের সব রেকর্ড ভেঙে ১৮ হাজার ৭৪৯টি মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে নারী শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল হাজার ১৯৪টি এবং মাদক মামলা ছিল হাজার ৫৮৫টি।

মাঠপর্যায়ে পুলিশের স্থবিরতা ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ

কাগজে-কলমে অপরাধের এই বিশাল চিত্র থাকলেও বাস্তবে এর চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশ প্রশাসনে এক বড় ধরনের রদবদল ঘটে।

বহু দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, গ্রেপ্তার কিংবা ওএসডি করা হয়। এই শুদ্ধি অভিযানের পর মাঠপর্যায়ের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এখনো এক ধরনের অজানা আতঙ্ক স্থবিরতা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে বা ডাকাতি-চুরির ঘটনা ঘটলে পুলিশকে খবর দিলেও তারা আগের মতো আর দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় না। অনেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিরুদ্ধেও রয়েছে উদাসীনতার অভিযোগ। ফলে ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে মামলা করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং অনেক বড় বড় অপরাধের ঘটনাও থানা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি: অপরাধী যেই হোক ছাড় নেই

মাঠপর্যায়ের স্থবিরতার অভিযোগ থাকলেও মামলার তদন্তকারী সংস্থাগুলো দাবি করছে, তারা শতভাগ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে। পিবিআইয়ের তদন্ত তদারকি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি হত্যার ঘটনার পরপরই রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায় এবং অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের সোপর্দ করে। অনেক ক্ষেত্রে ক্লুলেস মামলার আসামিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা নারী শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো আপোস নেই। আসামিদের চিহ্নিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সার্বিক পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "অপরাধ সংঘটিত হলে প্রত্যেকটির ঘটনার মামলা নেওয়া, আসামি গ্রেপ্তারসহ আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দরকার হলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেওয়াও হচ্ছে। আর অপরাধ দমনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত