সংবাদ

প্যারাগুয়ের দেয়াল ভেঙে ফ্রান্সকে শেষ আটে তুললেন এমবাপে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ এএম

প্যারাগুয়ের দেয়াল ভেঙে ফ্রান্সকে শেষ আটে তুললেন এমবাপে

​প্যারাগুয়ের কঠিন রক্ষণভাগ ভেঙে শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের একমাত্র গোলে লাতিন আমেরিকার দলটিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে ৭০ মিনিটের গোলটি ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্যারাগুয়ের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোলটি করলেন এমবাপে, যেখানে তার চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল লিওনেল মেসি।
​ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ফ্রান্স। জুল কুন্দের পাস থেকে উসমান দেম্বেলে বক্সে নিচু ক্রস বাড়ালেও কিলিয়ান এমবাপে শট নেওয়ার আগেই প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা তা ক্লিয়ার করেন।
১১ মিনিটে প্যারাগুয়ের এনসিসো একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উইলিয়াম সালিবা নিখুঁত ট্যাকলে বল কেড়ে নেন। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখল থাকলেও তারা প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের কারণে চূড়ান্ত সুবিধা করতে পারছিল না।
এর মধ্যে ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে ফাউলের শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমবাপে। তিনি প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবাসকে হালকা ধাক্কা দিলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মুহূর্তের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান।
রেফারি অবশ্য দ্রুত এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং কাউকে কোনো কার্ড দেখাননি। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে। ৫১ মিনিটে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মেইনিয়ান লম্বা কিকে এমবাপেকে বল বাড়িয়ে দিলে প্যারাগুয়ের কাসেরেস কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন। অবশেষে ম্যাচের ৭০ মিনিটে ভাঙন ধরে প্যারাগুয়ের রক্ষণে। বক্সের ভেতরে দুয়ে ফাউলের শিকার হলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পরীক্ষা করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান। পেনাল্টি নিতে এসে এমবাপে রান-আপের গতি কমিয়ে গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে নিখুঁত শটে বল জালের ডান কোণে জড়ান। গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে তাদের দলে একাধিক পরিবর্তন এনে সমতায় ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালায়।

​ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি চলাকালীন দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আবারও মাঠের ভেতরে কথার লড়াই ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপে। ৮৬ মিনিটে প্যারাগুয়ের আলোনসো বক্সের বাইরে থেকে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ১০ মিনিটের অষ্টম মিনিটে আবারও ওলিসের থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে গোলমুখে এমবাপে পরপর দুটি শট নিলেও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল দারুণ দক্ষতায় তা প্রতিহত করেন। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


প্যারাগুয়ের দেয়াল ভেঙে ফ্রান্সকে শেষ আটে তুললেন এমবাপে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

​প্যারাগুয়ের কঠিন রক্ষণভাগ ভেঙে শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের একমাত্র গোলে লাতিন আমেরিকার দলটিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে ৭০ মিনিটের গোলটি ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্যারাগুয়ের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোলটি করলেন এমবাপে, যেখানে তার চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল লিওনেল মেসি।
​ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ফ্রান্স। জুল কুন্দের পাস থেকে উসমান দেম্বেলে বক্সে নিচু ক্রস বাড়ালেও কিলিয়ান এমবাপে শট নেওয়ার আগেই প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা তা ক্লিয়ার করেন।
১১ মিনিটে প্যারাগুয়ের এনসিসো একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উইলিয়াম সালিবা নিখুঁত ট্যাকলে বল কেড়ে নেন। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখল থাকলেও তারা প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের কারণে চূড়ান্ত সুবিধা করতে পারছিল না।
এর মধ্যে ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে ফাউলের শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমবাপে। তিনি প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবাসকে হালকা ধাক্কা দিলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মুহূর্তের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান।
রেফারি অবশ্য দ্রুত এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং কাউকে কোনো কার্ড দেখাননি। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে। ৫১ মিনিটে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মেইনিয়ান লম্বা কিকে এমবাপেকে বল বাড়িয়ে দিলে প্যারাগুয়ের কাসেরেস কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন। অবশেষে ম্যাচের ৭০ মিনিটে ভাঙন ধরে প্যারাগুয়ের রক্ষণে। বক্সের ভেতরে দুয়ে ফাউলের শিকার হলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পরীক্ষা করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান। পেনাল্টি নিতে এসে এমবাপে রান-আপের গতি কমিয়ে গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে নিখুঁত শটে বল জালের ডান কোণে জড়ান। গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে তাদের দলে একাধিক পরিবর্তন এনে সমতায় ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালায়।

​ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি চলাকালীন দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আবারও মাঠের ভেতরে কথার লড়াই ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপে। ৮৬ মিনিটে প্যারাগুয়ের আলোনসো বক্সের বাইরে থেকে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ১০ মিনিটের অষ্টম মিনিটে আবারও ওলিসের থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে গোলমুখে এমবাপে পরপর দুটি শট নিলেও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল দারুণ দক্ষতায় তা প্রতিহত করেন। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত