সংবাদ

‘ছেলেটা থাকলো তুই দেখিস’, ছোট ভাইকে বলে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা


জেলা বার্তা পরিবেশন, কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশন, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

‘ছেলেটা থাকলো তুই দেখিস’, ছোট ভাইকে বলে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা
ছবি : সংগৃহীত

‘আমার ছেলেটা থাকলো, তুই দেখিস’ - ছোট ভাইকে মুঠোফোনে এই শেষ কথাটি বলেই আত্মহননের পথ বেছে নিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮)। সোমবার (২৪ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত খালেক বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে। তিনি এলাকায় ধান, পাট ও পেঁয়াজের বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্বজনদের ভাষ্যমতে, খালেক গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান গুনছিলেন। চলতি বছরে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পচে যায়। ব্যবসা সচল রাখতে তিনি ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের এই বিশাল বোঝা সইতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মালেক জানান, সোমবার রাত একটার দিকে খালেক তাকে ফোন করে বলেন, ‘আমার ছেলেটা থাকলো, তুই দেখিস।’ মালেক তখন তার অবস্থান জানতে চাইলে খালেক উত্তর দেন, ‘শফিউল্লাহর আমবাগানে সকালে পাবি।’ এ কথা শুনেই পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাগানে গিয়ে দেখেন, একটি আমগাছের ডালে রশিতে ঝুলছে খালেকের দেহ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিরিকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খালেকের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। ঋণের চাপে এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেকের এক বন্ধু জানান, খালেক তার নিজের নামে ছাড়াও অনেকের নামে ব্যাংক ঋণ তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে তার দেনার পরিমাণ তিন থেকে চার কোটি টাকা হতে পারে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


‘ছেলেটা থাকলো তুই দেখিস’, ছোট ভাইকে বলে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

‘আমার ছেলেটা থাকলো, তুই দেখিস’ - ছোট ভাইকে মুঠোফোনে এই শেষ কথাটি বলেই আত্মহননের পথ বেছে নিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮)। সোমবার (২৪ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত খালেক বিরিকয়া গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে। তিনি এলাকায় ধান, পাট ও পেঁয়াজের বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্বজনদের ভাষ্যমতে, খালেক গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান গুনছিলেন। চলতি বছরে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পচে যায়। ব্যবসা সচল রাখতে তিনি ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের এই বিশাল বোঝা সইতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মালেক জানান, সোমবার রাত একটার দিকে খালেক তাকে ফোন করে বলেন, ‘আমার ছেলেটা থাকলো, তুই দেখিস।’ মালেক তখন তার অবস্থান জানতে চাইলে খালেক উত্তর দেন, ‘শফিউল্লাহর আমবাগানে সকালে পাবি।’ এ কথা শুনেই পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাগানে গিয়ে দেখেন, একটি আমগাছের ডালে রশিতে ঝুলছে খালেকের দেহ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিরিকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খালেকের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। ঋণের চাপে এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেকের এক বন্ধু জানান, খালেক তার নিজের নামে ছাড়াও অনেকের নামে ব্যাংক ঋণ তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে তার দেনার পরিমাণ তিন থেকে চার কোটি টাকা হতে পারে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত