সংবাদ

‘সরবরাহে বিরুপ প্রভাব নেই’

ইস্টার্ন রিফাইনারির বিকল্প ব্যবস্থায় জ্বালানি বিভাগ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

ইস্টার্ন রিফাইনারির বিকল্প ব্যবস্থায় জ্বালানি বিভাগ
রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে লো-ফিডে (ধীর গতিতে) চালু থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বুধবারের (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্চ মাসে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ক্রুড অয়েল না পৌঁছানোয় ইআরএলকে সীমিত সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে মার্চে ২ লাখ টন এবং এপ্রিলে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা সম্ভব হয়নি।

সৌদি আরব থেকে মার্চের শুরুতে ১ লাখ টন তেলবাহী জাহাজ নরডিক্স পোলাক্স রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে জাহাজটি হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসার কথা থাকা আরেকটি জাহাজও স্থগিত করা হয়েছে।

তবে বিকল্প পথে সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ ২০ এপ্রিল রওনা দিয়ে ২ থেকে ৩ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া মে মাসে আরও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল সরবরাহের জন্য সৌদি আরবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, ইআরএল মূলত সৌদি আরব থেকে এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধন করে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। বাকি চাহিদা পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ১৫ শতাংশ, পেট্রলের প্রায় ১২ শতাংশ ইআরএল থেকে সরবরাহ হয়েছে। পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এই পরিশোধনাগার থেকেই আসে।

জ্বালানি বিভাগের ভাষ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে ইআরএলের উৎপাদন অব্যাহত রেখে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ইস্টার্ন রিফাইনারির বিকল্প ব্যবস্থায় জ্বালানি বিভাগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে লো-ফিডে (ধীর গতিতে) চালু থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বুধবারের (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্চ মাসে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ক্রুড অয়েল না পৌঁছানোয় ইআরএলকে সীমিত সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে মার্চে ২ লাখ টন এবং এপ্রিলে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা সম্ভব হয়নি।

সৌদি আরব থেকে মার্চের শুরুতে ১ লাখ টন তেলবাহী জাহাজ নরডিক্স পোলাক্স রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে জাহাজটি হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসার কথা থাকা আরেকটি জাহাজও স্থগিত করা হয়েছে।

তবে বিকল্প পথে সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ ২০ এপ্রিল রওনা দিয়ে ২ থেকে ৩ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া মে মাসে আরও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল সরবরাহের জন্য সৌদি আরবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, ইআরএল মূলত সৌদি আরব থেকে এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধন করে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। বাকি চাহিদা পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ১৫ শতাংশ, পেট্রলের প্রায় ১২ শতাংশ ইআরএল থেকে সরবরাহ হয়েছে। পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এই পরিশোধনাগার থেকেই আসে।

জ্বালানি বিভাগের ভাষ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে ইআরএলের উৎপাদন অব্যাহত রেখে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত