সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতের ক্ষতি ৫৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে


প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতের ক্ষতি ৫৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিধ্বংসী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গবেষণা ও জ্বালানি বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালানোয় তেল ও গ্যাস খাতের অবকাঠামোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও এই ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত। এসব স্থাপনার কারিগরি জটিলতা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে পুনর্গঠন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। এছাড়া:

  • শিল্প, বিদ্যুৎ ও পানিশোধন খাতে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
  • সব মিলিয়ে প্রকৃত পুনর্গঠন ব্যয় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিস্টাড এনার্জি জানাচ্ছে, দেশভেদে ক্ষতির মাত্রা ও পুনরুদ্ধারের সময় ভিন্ন হবে।

  • ইরান: দেশটির গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ, রিফাইনিং ও রপ্তানি অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এই স্থাপনাগুলো পুনরায় সচল করতে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
  • কাতার: কাতারের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও রাস লাফান শিল্প এলাকায় অত্যন্ত জটিল ও প্রযুক্তিগত মেরামতের প্রয়োজন পড়বে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনর্গঠন কাজ নতুন কোনো উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করবে না, বরং ধ্বংস হওয়া ব্যবস্থা পুনরায় সচল করতেই বিশাল বিনিয়োগ চলে যাবে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়নে চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে মেরামত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল সংগ্রহে বিলম্ব হলে দীর্ঘায়িত হতে পারে জ্বালানি সরবরাহ সংকট।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি এখন বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতের ক্ষতি ৫৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিধ্বংসী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গবেষণা ও জ্বালানি বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালানোয় তেল ও গ্যাস খাতের অবকাঠামোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও এই ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত। এসব স্থাপনার কারিগরি জটিলতা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে পুনর্গঠন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। এছাড়া:

  • শিল্প, বিদ্যুৎ ও পানিশোধন খাতে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
  • সব মিলিয়ে প্রকৃত পুনর্গঠন ব্যয় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিস্টাড এনার্জি জানাচ্ছে, দেশভেদে ক্ষতির মাত্রা ও পুনরুদ্ধারের সময় ভিন্ন হবে।

  • ইরান: দেশটির গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ, রিফাইনিং ও রপ্তানি অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এই স্থাপনাগুলো পুনরায় সচল করতে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
  • কাতার: কাতারের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও রাস লাফান শিল্প এলাকায় অত্যন্ত জটিল ও প্রযুক্তিগত মেরামতের প্রয়োজন পড়বে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনর্গঠন কাজ নতুন কোনো উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করবে না, বরং ধ্বংস হওয়া ব্যবস্থা পুনরায় সচল করতেই বিশাল বিনিয়োগ চলে যাবে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়নে চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে মেরামত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল সংগ্রহে বিলম্ব হলে দীর্ঘায়িত হতে পারে জ্বালানি সরবরাহ সংকট।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি এখন বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত