দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরছে। বিপুল পরিমাণ ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে চারটি বড় জাহাজ (ট্যাংকার)। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনটি এবং আগামী রবিবার (১৯ এপ্রিল) আরও একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই চারটি ট্যাংকারে করে সব মিলিয়ে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে,
গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। নতুন আসা এই বিপুল
পরিমাণ ডিজেল খালাস হলে মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টন। এই মজুত
দিয়ে সারা দেশে প্রায় ২৫ দিনের ডিজেল চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার বন্দরে ভিড়বে
তিনটি জাহাজ এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি এবং এমটি লিয়ান সং হু।
এছাড়া আগামী রবিবার এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের চতুর্থ ট্যাংকারটি বন্দরে পৌঁছানোর
কথা রয়েছে।
ট্যাংকারগুলোর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী তিন দিনের মধ্যেই সব কটি
জাহাজ বন্দরে চলে আসবে।
চলতি মাসে ডিজেল নিয়ে যে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল,
সরবরাহ বাড়ায় তা পুরোপুরি কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে মোট জ্বালানি
চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই পূরণ হয় ডিজেল দিয়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে
ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এই চাহিদার বড় অংশই সরাসরি আমদানির
মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। এছাড়া বছরে ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন ডিজেল পাওয়া যায় দেশে অপরিশোধিত
তেল পরিশোধনের মাধ্যমে।
দেশের সড়ক পরিবহনের মেরুদণ্ড মূলত ডিজেলচালিত। বাস, ট্রাক,
পিকআপ ও পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি নদীপথে নৌযান চালাতেও এর বিকল্প নেই। এছাড়া দেশে
ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশ খরচ হয় কৃষি খাতে সেচযন্ত্র চালাতে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার
জেনারেটর এবং বিদ্যুৎ সংকটকালীন সময়ে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতেও এই জ্বালানি অপরিহার্য।
ফলে নতুন এই বিশাল সরবরাহ পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরছে। বিপুল পরিমাণ ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে চারটি বড় জাহাজ (ট্যাংকার)। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনটি এবং আগামী রবিবার (১৯ এপ্রিল) আরও একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই চারটি ট্যাংকারে করে সব মিলিয়ে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে,
গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। নতুন আসা এই বিপুল
পরিমাণ ডিজেল খালাস হলে মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টন। এই মজুত
দিয়ে সারা দেশে প্রায় ২৫ দিনের ডিজেল চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার বন্দরে ভিড়বে
তিনটি জাহাজ এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি এবং এমটি লিয়ান সং হু।
এছাড়া আগামী রবিবার এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের চতুর্থ ট্যাংকারটি বন্দরে পৌঁছানোর
কথা রয়েছে।
ট্যাংকারগুলোর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী তিন দিনের মধ্যেই সব কটি
জাহাজ বন্দরে চলে আসবে।
চলতি মাসে ডিজেল নিয়ে যে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল,
সরবরাহ বাড়ায় তা পুরোপুরি কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে মোট জ্বালানি
চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই পূরণ হয় ডিজেল দিয়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে
ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এই চাহিদার বড় অংশই সরাসরি আমদানির
মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। এছাড়া বছরে ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন ডিজেল পাওয়া যায় দেশে অপরিশোধিত
তেল পরিশোধনের মাধ্যমে।
দেশের সড়ক পরিবহনের মেরুদণ্ড মূলত ডিজেলচালিত। বাস, ট্রাক,
পিকআপ ও পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি নদীপথে নৌযান চালাতেও এর বিকল্প নেই। এছাড়া দেশে
ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশ খরচ হয় কৃষি খাতে সেচযন্ত্র চালাতে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার
জেনারেটর এবং বিদ্যুৎ সংকটকালীন সময়ে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতেও এই জ্বালানি অপরিহার্য।
ফলে নতুন এই বিশাল সরবরাহ পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন