২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে ‘অস্ত্র হাতে হত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছেন’ বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন এমন অভিযোগ করে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) গঠনের আবেদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল দিন ঠিক করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এমন আর্জি জানানো হয়। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর শহীদুল্লাহ সরদার ও প্রসিকিউটর মুমুনুর রশিদ।
আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগ তুলে ধরে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানানো হয়। তবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন শুনানির জন্য সময় আবেদন করে আসামিপক্ষ। পরে আসামিপক্ষে শুনানির জন্য ২৩ এপ্রিল দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান জানান, ‘ছাত্র-জনতাকে হত্যার জন্য পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন শামীম ওসমান। তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি করেছেন। তার অডিও ক্লিপ ট্রাইব্যুনালকে শোনানো হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়ে নিজের সশস্ত্র বাহিনীর ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছিলেন।’
তিনি বলেন, আমরা এ মামলায় ১৮টি ভিডিও ফুটেজ এবং অডিওসহ প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার দালালিক নথিপত্র দাখিল করেছি।
এ মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিদের সবাই পলাতক।
আসামিদের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ
প্রসিকিউশনের দাখিল করা চার্জশিট অনুযায়ী প্রথম অভিযোগ হলো- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাড়া, ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যার।
দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ জুলাই ফতুল্লা থানার ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্টে বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান দুইজনকে হত্যার কথা উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।
এই তিন অভিযোগে ১২ আসামির বিরুদ্ধে গত ১৯ জানুয়ারি ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। একই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার পালোয়ান জানান, এই মামলার আসামি পলাতক রয়েছেন। এ কারণে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য সময় প্রার্থনা করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত ১৯ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করে।
এর আগে জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে আগামী ১৯ এপ্রিল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে ৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।
এর আগে, গত ৪ মার্চ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল পলাতক ১২ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারও আগে গত ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ওইদিন আসামিদের গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে ‘অস্ত্র হাতে হত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছেন’ বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন এমন অভিযোগ করে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) গঠনের আবেদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল দিন ঠিক করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এমন আর্জি জানানো হয়। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর শহীদুল্লাহ সরদার ও প্রসিকিউটর মুমুনুর রশিদ।
আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগ তুলে ধরে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানানো হয়। তবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন শুনানির জন্য সময় আবেদন করে আসামিপক্ষ। পরে আসামিপক্ষে শুনানির জন্য ২৩ এপ্রিল দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান জানান, ‘ছাত্র-জনতাকে হত্যার জন্য পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন শামীম ওসমান। তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি করেছেন। তার অডিও ক্লিপ ট্রাইব্যুনালকে শোনানো হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়ে নিজের সশস্ত্র বাহিনীর ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছিলেন।’
তিনি বলেন, আমরা এ মামলায় ১৮টি ভিডিও ফুটেজ এবং অডিওসহ প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার দালালিক নথিপত্র দাখিল করেছি।
এ মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিদের সবাই পলাতক।
আসামিদের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ
প্রসিকিউশনের দাখিল করা চার্জশিট অনুযায়ী প্রথম অভিযোগ হলো- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাড়া, ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যার।
দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ জুলাই ফতুল্লা থানার ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্টে বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান দুইজনকে হত্যার কথা উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।
এই তিন অভিযোগে ১২ আসামির বিরুদ্ধে গত ১৯ জানুয়ারি ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। একই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার পালোয়ান জানান, এই মামলার আসামি পলাতক রয়েছেন। এ কারণে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য সময় প্রার্থনা করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত ১৯ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করে।
এর আগে জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে আগামী ১৯ এপ্রিল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে ৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।
এর আগে, গত ৪ মার্চ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল পলাতক ১২ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারও আগে গত ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ওইদিন আসামিদের গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন