সংবাদ

কালীগঞ্জে একাধিক কার্ডের সরকারী চাল উধাও, ট্যাক্সও তিনগুন


জেলা বার্তা পরিবেশক, গাজীপুর
জেলা বার্তা পরিবেশক, গাজীপুর
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

কালীগঞ্জে একাধিক কার্ডের সরকারী চাল উধাও, ট্যাক্সও তিনগুন
ছবি : সংবাদ

গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি কার্ডের সরকারী চাল উধাও হয়ে গেছে। একই সাথে সরকারী ঘোষণা ছাড়াই হোল্ডিং ব্যবসায়িক ট্যাক্স প্রায় তিনগুন হওয়া নিয়ে জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জাঙ্গালিয় ইউনিয়নে পাঁচশত গরীব অসহায় মানুষকে বিডব্লিউবি প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘ সময় ধরে মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করছে সরকার। এই চালগুলো প্রতিমাসে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরাসরি কার্ডধারীদের হাতে দেয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত অনেক কার্ডধারী সরকারী চাল পায়নি। মাস পর চলতি বছরের মার্চ মাসে পুনরায় চাল দেয়া হয় কিন্তু বকেয়া মাসের চালের হদিস নেই। এই ধরণের ঘটনা একাধিক তবে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ বলছেন, থেকে ১০ কার্ডে এই অবস্থা হয়েছে।

কার্ডধারী নাসরিন জামান জানান সংবাদকে বলেন, আমি মাসের চাল পাইনি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রশাসক সচিব জানিয়েছেন, ওই মাসগুলির চাল আসেনি।

এদিকে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ বাসা বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স গত বছর থেকে প্রায় তিনগুন বাড়িয়ে আদায় করছেন। এই বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এধরণের কোন নির্দেশ লিখিত বা মৌখিকভাবেও দেয়া হয়নি।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আউরাখালী বাজারের মা হোমিও সেন্টার ২৪/২৫ অর্থ বছরে ট্যাক্স দেয় ৩৮০ টাকা বর্তমানে ২৫/২৬ অর্থ বছরে ট্যাক্স দিতে হয়েছে ৬৩০ টাকা।

একই বাজারের বন্ধন ডিজিটাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তৈবুর রহমান জানান, গত বছর ৫৩০ টাকা ট্যাক্স দিয়েছি। এবার ১৩৩০ টাকা নেয়ার পর আমি করের বোঝা সংক্রান্তে ফেসবুকে পোস্ট করি। এরপর প্রশাসক বিভিন্ন মাধ্যমে সুপারিশ করে ৭৩০ টাকার টেক্সের রশিদ দিয়ে বাকী টাকা ফেরত দেয়। তিনি আরো বলেন, এবার তিনগুনেরও বেশী ট্যাক্স নেয়া হয়েছে পুরো ইউনিয়নে।

বিষয়ে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক কালীগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো: আবুল হোসেন সংবাদকে বলেন, টি কার্ডে চাল পায়নি শোনেছি। গুদামে পানি পড়ায় চাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমি শেনেছি, কিছু লোকে চাল পায়নি।

তবে চাল রক্ষার দায়িত্বে থাকা সচিব বলতে পারবেন। অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক অতিরিক্ত ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, আমি ঈদের আগে এসেছি। আগের খবর জানিনা।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ( উপসচিব) আহমেদ হোসেন ভুইয়া সংবাদকে বলেন, অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায়ের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া সংবাদকে বলেন, বিষয়টি জানলাম। খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্তে অপরাধ প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


কালীগঞ্জে একাধিক কার্ডের সরকারী চাল উধাও, ট্যাক্সও তিনগুন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি কার্ডের সরকারী চাল উধাও হয়ে গেছে। একই সাথে সরকারী ঘোষণা ছাড়াই হোল্ডিং ব্যবসায়িক ট্যাক্স প্রায় তিনগুন হওয়া নিয়ে জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জাঙ্গালিয় ইউনিয়নে পাঁচশত গরীব অসহায় মানুষকে বিডব্লিউবি প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘ সময় ধরে মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করছে সরকার। এই চালগুলো প্রতিমাসে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরাসরি কার্ডধারীদের হাতে দেয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত অনেক কার্ডধারী সরকারী চাল পায়নি। মাস পর চলতি বছরের মার্চ মাসে পুনরায় চাল দেয়া হয় কিন্তু বকেয়া মাসের চালের হদিস নেই। এই ধরণের ঘটনা একাধিক তবে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ বলছেন, থেকে ১০ কার্ডে এই অবস্থা হয়েছে।

কার্ডধারী নাসরিন জামান জানান সংবাদকে বলেন, আমি মাসের চাল পাইনি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রশাসক সচিব জানিয়েছেন, ওই মাসগুলির চাল আসেনি।

এদিকে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ বাসা বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স গত বছর থেকে প্রায় তিনগুন বাড়িয়ে আদায় করছেন। এই বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এধরণের কোন নির্দেশ লিখিত বা মৌখিকভাবেও দেয়া হয়নি।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আউরাখালী বাজারের মা হোমিও সেন্টার ২৪/২৫ অর্থ বছরে ট্যাক্স দেয় ৩৮০ টাকা বর্তমানে ২৫/২৬ অর্থ বছরে ট্যাক্স দিতে হয়েছে ৬৩০ টাকা।

একই বাজারের বন্ধন ডিজিটাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তৈবুর রহমান জানান, গত বছর ৫৩০ টাকা ট্যাক্স দিয়েছি। এবার ১৩৩০ টাকা নেয়ার পর আমি করের বোঝা সংক্রান্তে ফেসবুকে পোস্ট করি। এরপর প্রশাসক বিভিন্ন মাধ্যমে সুপারিশ করে ৭৩০ টাকার টেক্সের রশিদ দিয়ে বাকী টাকা ফেরত দেয়। তিনি আরো বলেন, এবার তিনগুনেরও বেশী ট্যাক্স নেয়া হয়েছে পুরো ইউনিয়নে।

বিষয়ে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক কালীগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো: আবুল হোসেন সংবাদকে বলেন, টি কার্ডে চাল পায়নি শোনেছি। গুদামে পানি পড়ায় চাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমি শেনেছি, কিছু লোকে চাল পায়নি।

তবে চাল রক্ষার দায়িত্বে থাকা সচিব বলতে পারবেন। অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক অতিরিক্ত ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, আমি ঈদের আগে এসেছি। আগের খবর জানিনা।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ( উপসচিব) আহমেদ হোসেন ভুইয়া সংবাদকে বলেন, অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায়ের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া সংবাদকে বলেন, বিষয়টি জানলাম। খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্তে অপরাধ প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত