রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। যেকোনো সময় নাম ঘোষণা করা হতে পারে।ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জোর লবিংও চালাচ্ছেন।
নতুন উপাচার্যকে ঘিরে রংপুরের শিক্ষামহলে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ বেরোবি প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে এখন পর্যন্ত পাঁচ উপাচার্যের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলা হয়েছে। এক উপাচার্য বর্তমানে কারাগারে। আরেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে। তিনি কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। আর সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো- জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদের কারাদণ্ড।
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাইদকে পুলিশের গুলিতে হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে পলাতক।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাসিবুর রশীদকে অব্যাহতি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শওকত আলীকে বেরোবির উপাচার্য নিয়োগ দেয়। পরে বিএনপি নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে পরিবর্তন আনা হয়।
ইতিমধ্যে ঢাকা ও রাজশাহীসহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বেরোবির পালা এখন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ১ এপ্রিল পরিপত্র জারি করে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি পুনঃগঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেককে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, ইউজিসির সদস্য (পাবলিক ইউনিভার্সিটি) অধ্যাপক মো. তানজিম উদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ। সদস্য সচিব করা হয়েছে উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে।
সার্চ কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বেরোবির নতুন উপাচার্যের নাম নিয়েও কাজ চলছে।
বেরোবির নতুন উপাচার্য হিসেবে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ ও জেন্ডার বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোস্তাফিজার রহমান মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফকরুল ইসলাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মতিনুর রহমান। এছাড়াও আলোচনায় আছেন বেরোবির তিন অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান, তাজুল ইসলাম ও ইলিয়াছ প্রমাণিক।
বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক শওকত আলীর নামও আলোচনার তালিকায় রয়েছে। তবে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়ায় তার স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্চ কমিটির এক প্রভাবশালী সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছেন। নতুন নিয়োগে যে কোনো স্বনামধন্য শিক্ষক আসতে পারেন।’
বেরোবির ইতিহাস বলছে, উপাচার্য পদটি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান ছাড়া বাকি চারজনের প্রত্যেকেই আইনি জটিলতায় পড়েছেন।
অধ্যাপক আব্দুল জলিল মিয়ার (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক) চার বছর দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুদকের মামলা। কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে মামলা বিচারাধীন। অধ্যাপক ড. নুরন্নবীর বিরুদ্ধেও দুদকের মামলা রয়েছে। অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ দুদক মামলায় বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ শহীদ আবু সাইদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজা, পলাতক রয়েছেন।
শিক্ষামহলের চোখ এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে। নতুন উপাচার্য বেরোবির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবেন, নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে- সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। যেকোনো সময় নাম ঘোষণা করা হতে পারে।ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জোর লবিংও চালাচ্ছেন।
নতুন উপাচার্যকে ঘিরে রংপুরের শিক্ষামহলে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ বেরোবি প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে এখন পর্যন্ত পাঁচ উপাচার্যের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলা হয়েছে। এক উপাচার্য বর্তমানে কারাগারে। আরেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে। তিনি কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। আর সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো- জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদের কারাদণ্ড।
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাইদকে পুলিশের গুলিতে হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে পলাতক।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাসিবুর রশীদকে অব্যাহতি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শওকত আলীকে বেরোবির উপাচার্য নিয়োগ দেয়। পরে বিএনপি নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে পরিবর্তন আনা হয়।
ইতিমধ্যে ঢাকা ও রাজশাহীসহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বেরোবির পালা এখন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ১ এপ্রিল পরিপত্র জারি করে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি পুনঃগঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেককে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, ইউজিসির সদস্য (পাবলিক ইউনিভার্সিটি) অধ্যাপক মো. তানজিম উদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ। সদস্য সচিব করা হয়েছে উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে।
সার্চ কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বেরোবির নতুন উপাচার্যের নাম নিয়েও কাজ চলছে।
বেরোবির নতুন উপাচার্য হিসেবে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ ও জেন্ডার বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোস্তাফিজার রহমান মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফকরুল ইসলাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মতিনুর রহমান। এছাড়াও আলোচনায় আছেন বেরোবির তিন অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান, তাজুল ইসলাম ও ইলিয়াছ প্রমাণিক।
বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক শওকত আলীর নামও আলোচনার তালিকায় রয়েছে। তবে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়ায় তার স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্চ কমিটির এক প্রভাবশালী সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছেন। নতুন নিয়োগে যে কোনো স্বনামধন্য শিক্ষক আসতে পারেন।’
বেরোবির ইতিহাস বলছে, উপাচার্য পদটি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান ছাড়া বাকি চারজনের প্রত্যেকেই আইনি জটিলতায় পড়েছেন।
অধ্যাপক আব্দুল জলিল মিয়ার (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক) চার বছর দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুদকের মামলা। কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে মামলা বিচারাধীন। অধ্যাপক ড. নুরন্নবীর বিরুদ্ধেও দুদকের মামলা রয়েছে। অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ দুদক মামলায় বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ শহীদ আবু সাইদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজা, পলাতক রয়েছেন।
শিক্ষামহলের চোখ এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে। নতুন উপাচার্য বেরোবির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবেন, নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে- সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন