রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ঘরে ও বাইরে নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা না গেলে তাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নেওয়া কোনো পদক্ষেপই পূর্ণাঙ্গ সুফল বয়ে আনবে না।
রাজধানীর
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে
‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে রোববার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা
বলেন।
তিনি
বলেন, নারী ও কন্যারা
যাতে অবহেলা, নির্যাতন বা বৈষম্যের শিকার
না হন, সেটি নিশ্চিত
করাই হোক আজকের দিনের
অঙ্গীকার।
রাষ্ট্রপতি
একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত
করে বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশু যেন স্বপ্ন দেখার
এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের
সমান সুযোগ পায়।
তিনি
এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত
করার আহ্বান জানান যেখানে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে নেতৃত্বের আসনে
আসীন হতে পারেন।
অনুষ্ঠানে
‘গণতন্ত্রের অগ্রগতিতে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তার
পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ
করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার
জাইমা রহমান। এ সময় অনুষ্ঠানে
তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও
উপস্থিত ছিলেন।
নারীর
অধিকার রক্ষায় অতীতের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকার নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর আইনি
ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি শক্তিশালী
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
তিনি
আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর
রহমান নারী উন্নয়নের যে
ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার
সরকার তা আরও সুসংহত
করেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক করা, দ্বাদশ শ্রেণি
পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর
মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো নারী শিক্ষার প্রসারে
বড় ভূমিকা রেখেছে।
রাষ্ট্রপতি
জানান, বর্তমান সরকার মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত
অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
নারীর
অগ্রগতির পথে বিদ্যমান বাধাগুলো
নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন,
এখনো মজুরি বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, সামাজিক কুসংস্কার এবং সাইবার বুলিংয়ের
মতো চ্যালেঞ্জগুলো সমাজ থেকে পুরোপুরি
দূর হয়নি।
এ সব
সমস্যা সমাধানে শুধু আইন প্রয়োগ
নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা
বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ
করেন। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোর সহায়তায়
আগামী ১০ মার্চ থেকে
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করার ঘোষণা
দেন তিনি।
তৈরি
পোশাক খাতসহ দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন,
রাজনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রশাসন এবং ক্রীড়াঙ্গন; সবখানেই
নারীরা আজ সফলতার স্বাক্ষর
রাখছেন।
তিনি
পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ
এবং গণমাধ্যমকে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সমতা তৈরিতে
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান
জানান। নারী ও কন্যা
শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে
বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত
করেন।
মহিলা
ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী
ডা. এ জেড এম
জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, স্টেফান লিলার এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে নারী অধিকার বিষয়ক
একটি বিশেষ তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ঘরে ও বাইরে নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা না গেলে তাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নেওয়া কোনো পদক্ষেপই পূর্ণাঙ্গ সুফল বয়ে আনবে না।
রাজধানীর
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে
‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে রোববার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা
বলেন।
তিনি
বলেন, নারী ও কন্যারা
যাতে অবহেলা, নির্যাতন বা বৈষম্যের শিকার
না হন, সেটি নিশ্চিত
করাই হোক আজকের দিনের
অঙ্গীকার।
রাষ্ট্রপতি
একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত
করে বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশু যেন স্বপ্ন দেখার
এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের
সমান সুযোগ পায়।
তিনি
এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত
করার আহ্বান জানান যেখানে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে নেতৃত্বের আসনে
আসীন হতে পারেন।
অনুষ্ঠানে
‘গণতন্ত্রের অগ্রগতিতে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তার
পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ
করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার
জাইমা রহমান। এ সময় অনুষ্ঠানে
তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও
উপস্থিত ছিলেন।
নারীর
অধিকার রক্ষায় অতীতের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকার নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর আইনি
ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি শক্তিশালী
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
তিনি
আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর
রহমান নারী উন্নয়নের যে
ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার
সরকার তা আরও সুসংহত
করেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক করা, দ্বাদশ শ্রেণি
পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর
মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো নারী শিক্ষার প্রসারে
বড় ভূমিকা রেখেছে।
রাষ্ট্রপতি
জানান, বর্তমান সরকার মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত
অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
নারীর
অগ্রগতির পথে বিদ্যমান বাধাগুলো
নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন,
এখনো মজুরি বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, সামাজিক কুসংস্কার এবং সাইবার বুলিংয়ের
মতো চ্যালেঞ্জগুলো সমাজ থেকে পুরোপুরি
দূর হয়নি।
এ সব
সমস্যা সমাধানে শুধু আইন প্রয়োগ
নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা
বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ
করেন। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোর সহায়তায়
আগামী ১০ মার্চ থেকে
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করার ঘোষণা
দেন তিনি।
তৈরি
পোশাক খাতসহ দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন,
রাজনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রশাসন এবং ক্রীড়াঙ্গন; সবখানেই
নারীরা আজ সফলতার স্বাক্ষর
রাখছেন।
তিনি
পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ
এবং গণমাধ্যমকে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সমতা তৈরিতে
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান
জানান। নারী ও কন্যা
শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে
বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত
করেন।
মহিলা
ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী
ডা. এ জেড এম
জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, স্টেফান লিলার এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে নারী অধিকার বিষয়ক
একটি বিশেষ তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন