বার্সেলোনার সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজ দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় ফেরার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু ক্লাবের সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা শেষ মুহূর্তে সেটি আটকে দেন। স্পেনের সংবাদমাধ্যম লা ভানগুয়ার্দিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাভি বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসি আবার বার্সেলোনায় ফিরতে আগ্রহী ছিলেন এবং সেই অনুযায়ী তিনি সব প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিলেন।
২০২৩ সালের জুনে মেসি প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন ছাড়ার পর অনেক সমর্থক আশা করেছিলেন তিনি আবার বার্সেলোনায় ফিরবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। তখন সভাপতি লাপোর্তা দাবি করেছিলেন যে ক্লাব মেসিকে ফেরাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জাভির বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তবে মেসির সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল এবং চুক্তিও প্রায় নিশ্চিত ছিল।
জাভি বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের পর জানুয়ারি ২০২৩-এ তিনি মেসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দুজনের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎও হয়। তিনি জানান, “মেসি বার্সেলোনায় ফিরতে খুব আগ্রহী ছিল। আমরা মার্চ পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে গেছি। আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি যদি সম্মতি দাও, তাহলে আমি সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। ফুটবল দিক থেকে কোনো সমস্যা ছিল না।”
তার দাবি অনুযায়ী, মেসির বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আলোচনাও শুরু হয়েছিল এবং লা লিগাও চুক্তির অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাপোর্তা পুরো বিষয়টি বন্ধ করে দেন। জাভির ভাষায়, সভাপতি তাকে বলেছিলেন যে মেসি ফিরে এলে তা তার বিরুদ্ধে “যুদ্ধ ঘোষণা” করার মতো হবে এবং তিনি সেই পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন না।
এরপর হঠাৎ করে মেসি তার ফোন ধরা বন্ধ করে দেন। জাভি জানান, পরে তিনি মেসির বাবা হোর্হের সঙ্গেও কথা বলেন, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি বদলায়নি। জাভি বলেন, তাদের পরিকল্পনা ছিল অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিস স্টেডিয়ামে মেসিকে নিয়ে এক ধরনের “শেষ অধ্যায়” তৈরি করা- যেটাকে তিনি মাইকেল জর্ডানের “দ্য লাস্ট ড্যান্স”-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
জাভির অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত সভাপতির সিদ্ধান্তেই সবকিছু ভেস্তে যায়। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই চাইতাম মেসি ফিরে আসুক এবং আমি তাকে কোচিং করাতে পারি। কিন্তু আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা হয়েছে।”
এই ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য জাভি ও মেসির সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে। পরে অবশ্য তারা আবার ঘনিষ্ঠ হয়েছেন বলে জানান তিনি। জাভি আরও বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলছি- মেসি বার্সেলোনায় ফিরতে পারেনি কারণ সভাপতি তা চাননি। এটা লা লিগার কারণে নয়, কিংবা বেশি টাকা চাওয়ার কারণেও নয়।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ক্লাবের ক্ষমতার রাজনীতির কারণেই মেসির প্রত্যাবর্তন আটকে দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
বার্সেলোনার সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজ দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় ফেরার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু ক্লাবের সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা শেষ মুহূর্তে সেটি আটকে দেন। স্পেনের সংবাদমাধ্যম লা ভানগুয়ার্দিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাভি বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসি আবার বার্সেলোনায় ফিরতে আগ্রহী ছিলেন এবং সেই অনুযায়ী তিনি সব প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিলেন।
২০২৩ সালের জুনে মেসি প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন ছাড়ার পর অনেক সমর্থক আশা করেছিলেন তিনি আবার বার্সেলোনায় ফিরবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। তখন সভাপতি লাপোর্তা দাবি করেছিলেন যে ক্লাব মেসিকে ফেরাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জাভির বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তবে মেসির সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল এবং চুক্তিও প্রায় নিশ্চিত ছিল।
জাভি বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের পর জানুয়ারি ২০২৩-এ তিনি মেসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দুজনের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎও হয়। তিনি জানান, “মেসি বার্সেলোনায় ফিরতে খুব আগ্রহী ছিল। আমরা মার্চ পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে গেছি। আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি যদি সম্মতি দাও, তাহলে আমি সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। ফুটবল দিক থেকে কোনো সমস্যা ছিল না।”
তার দাবি অনুযায়ী, মেসির বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আলোচনাও শুরু হয়েছিল এবং লা লিগাও চুক্তির অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাপোর্তা পুরো বিষয়টি বন্ধ করে দেন। জাভির ভাষায়, সভাপতি তাকে বলেছিলেন যে মেসি ফিরে এলে তা তার বিরুদ্ধে “যুদ্ধ ঘোষণা” করার মতো হবে এবং তিনি সেই পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন না।
এরপর হঠাৎ করে মেসি তার ফোন ধরা বন্ধ করে দেন। জাভি জানান, পরে তিনি মেসির বাবা হোর্হের সঙ্গেও কথা বলেন, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি বদলায়নি। জাভি বলেন, তাদের পরিকল্পনা ছিল অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিস স্টেডিয়ামে মেসিকে নিয়ে এক ধরনের “শেষ অধ্যায়” তৈরি করা- যেটাকে তিনি মাইকেল জর্ডানের “দ্য লাস্ট ড্যান্স”-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
জাভির অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত সভাপতির সিদ্ধান্তেই সবকিছু ভেস্তে যায়। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই চাইতাম মেসি ফিরে আসুক এবং আমি তাকে কোচিং করাতে পারি। কিন্তু আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা হয়েছে।”
এই ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য জাভি ও মেসির সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে। পরে অবশ্য তারা আবার ঘনিষ্ঠ হয়েছেন বলে জানান তিনি। জাভি আরও বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলছি- মেসি বার্সেলোনায় ফিরতে পারেনি কারণ সভাপতি তা চাননি। এটা লা লিগার কারণে নয়, কিংবা বেশি টাকা চাওয়ার কারণেও নয়।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ক্লাবের ক্ষমতার রাজনীতির কারণেই মেসির প্রত্যাবর্তন আটকে দেওয়া হয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন