ভারতের গজলডোবা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার পানিবন্দি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) চেয়ে ৩ সেন্টিমিটার বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।
হঠাৎ পানি বাড়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ জানান, "ভারী বৃষ্টির কারণে পানি অনেক বেড়েছে। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে পড়তে পারে। পানি বাড়লে শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপদে পড়তে হয়, তার ওপর থাকে সাপ-পোকার ভয়। বন্যার সময় আমাদের নিদ্রাহীন রাত কাটে।"
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানির চাপ আরও বাড়লে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না হওয়ায় এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এসব কারণে নদীর স্থায়ী কোনো কাজ হয় না। বর্ষা এলে সিসি ব্লক আর বালুর বস্তা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দৌড়ায়।" নদীপাড়ের মানুষের অভিযোগ শুষ্ক মৌসুমে টেকসই কাজ না করে বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে দায়সারা কাজ করা হয়।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, "বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছে এবং এর ফলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি যদি এমন থাকে তবে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
ভারতের গজলডোবা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার পানিবন্দি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) চেয়ে ৩ সেন্টিমিটার বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।
হঠাৎ পানি বাড়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ জানান, "ভারী বৃষ্টির কারণে পানি অনেক বেড়েছে। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে পড়তে পারে। পানি বাড়লে শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপদে পড়তে হয়, তার ওপর থাকে সাপ-পোকার ভয়। বন্যার সময় আমাদের নিদ্রাহীন রাত কাটে।"
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানির চাপ আরও বাড়লে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না হওয়ায় এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এসব কারণে নদীর স্থায়ী কোনো কাজ হয় না। বর্ষা এলে সিসি ব্লক আর বালুর বস্তা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দৌড়ায়।" নদীপাড়ের মানুষের অভিযোগ শুষ্ক মৌসুমে টেকসই কাজ না করে বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে দায়সারা কাজ করা হয়।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, "বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছে এবং এর ফলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি যদি এমন থাকে তবে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন