সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

মধ্যরাতেও দীর্ঘ সারি

পুলিশের পাহারায় চল‌ছে জ্বালানি তেল বি‌ক্রি


আজিজ চৌধু‌রি
আজিজ চৌধু‌রি
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের পাহারায় চল‌ছে জ্বালানি তেল বি‌ক্রি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনীভূত হতে থাকা যুদ্ধের কালো মেঘের ছায়া এবার সুদূর ঢাকার জ্বালানি তেলের বাজারেও এসে প‌ড়ে‌ছে। এর ফ‌লে এক "কৃ‌ত্রিম অস্থিরতার ছোপ" ফেলেছে দে‌শের পে‌ট্রোলপাম্পগু‌লো‌তেও।

বিশ্ববাজারের জন‌্য জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার "প্রবল গুজব" আর দেশীয় বাজারে কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষ করে নীলক্ষেত, পরিবাগ এবং মৎস্য ভবন এলাকার পাম্পগুলোতে ভোর থেকেই শুরু হয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি, যা সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলার রূপ নেয়। সোমবারও (৯ মার্চ) ছি‌লো একই চিত্র। ওইদিন সকাল থে‌কে শুরু হওয়া যানবাহ‌নের দীর্ঘ সারি মধ‌্যরাত পর্যন্ত ছি‌লো।

ডিজিটাল মিটারে তেলের কাঁটা ঘুরলেও গ্রাহকদের মনের অস্থিরতা কিছুতেই থামছে না, বরং প্রতি লিটার তেলের জন্য চলছে এক নিরব লড়াই।

​নীলক্ষেত মোড়ের একটি পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষোভ এখন চরমে। পাম্প কর্তৃপক্ষ সীমিত সরবরাহের অজুহাতে কাউকে ২০০ আবার কাউকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না, অথচ বাইকারদের দাবি এই দুর্মূল্যের বাজারে অন্তত ৫০০ টাকার তেল না পেলে তাদের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন ক্ষুব্ধ মোটরবাইক চালক র‌নি আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০ টাকার তেল নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে, যা দিয়ে বড়জোর একদিন চলা সম্ভব।

একই চিত্র দেখা গেছে প্রাইভেট কার চালকদের ক্ষেত্রেও; সরকারি কঠোর নির্দেশনায় একটি গাড়িতে ১০ লিটারের বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। চালকদের দাবি, পাম্পে আসার ভোগান্তি ও যানজট এড়াতে এই সীমা অন্তত ৩০ থেকে ৪০ লিটারে উন্নীত করা প্রয়োজন।

​জ্বালানি তেলের এই "কৃ‌ত্রিম হাহাকারকে" কেন্দ্র করে "গুজব" ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীর অনেক পাম্পে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মৎস্য ভবন ও নীলক্ষেতসহ ব্যস্ত এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরাসরি পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা স্বশরীরে উপস্থিত থেকে লাইন তদারকি করছেন এবং বারবার মাইকিং করে জানাচ্ছেন যে দেশে তেলের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে।

তবুও জনমনে জেঁকে বসা অনিশ্চয়তার এই ভয় ও দীর্ঘ সারি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈন‌ন্দিন জীবনের ছন্দ কেড়ে নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬


পুলিশের পাহারায় চল‌ছে জ্বালানি তেল বি‌ক্রি

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনীভূত হতে থাকা যুদ্ধের কালো মেঘের ছায়া এবার সুদূর ঢাকার জ্বালানি তেলের বাজারেও এসে প‌ড়ে‌ছে। এর ফ‌লে এক "কৃ‌ত্রিম অস্থিরতার ছোপ" ফেলেছে দে‌শের পে‌ট্রোলপাম্পগু‌লো‌তেও।

বিশ্ববাজারের জন‌্য জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার "প্রবল গুজব" আর দেশীয় বাজারে কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষ করে নীলক্ষেত, পরিবাগ এবং মৎস্য ভবন এলাকার পাম্পগুলোতে ভোর থেকেই শুরু হয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি, যা সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলার রূপ নেয়। সোমবারও (৯ মার্চ) ছি‌লো একই চিত্র। ওইদিন সকাল থে‌কে শুরু হওয়া যানবাহ‌নের দীর্ঘ সারি মধ‌্যরাত পর্যন্ত ছি‌লো।

ডিজিটাল মিটারে তেলের কাঁটা ঘুরলেও গ্রাহকদের মনের অস্থিরতা কিছুতেই থামছে না, বরং প্রতি লিটার তেলের জন্য চলছে এক নিরব লড়াই।

​নীলক্ষেত মোড়ের একটি পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষোভ এখন চরমে। পাম্প কর্তৃপক্ষ সীমিত সরবরাহের অজুহাতে কাউকে ২০০ আবার কাউকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না, অথচ বাইকারদের দাবি এই দুর্মূল্যের বাজারে অন্তত ৫০০ টাকার তেল না পেলে তাদের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন ক্ষুব্ধ মোটরবাইক চালক র‌নি আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০ টাকার তেল নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে, যা দিয়ে বড়জোর একদিন চলা সম্ভব।

একই চিত্র দেখা গেছে প্রাইভেট কার চালকদের ক্ষেত্রেও; সরকারি কঠোর নির্দেশনায় একটি গাড়িতে ১০ লিটারের বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। চালকদের দাবি, পাম্পে আসার ভোগান্তি ও যানজট এড়াতে এই সীমা অন্তত ৩০ থেকে ৪০ লিটারে উন্নীত করা প্রয়োজন।

​জ্বালানি তেলের এই "কৃ‌ত্রিম হাহাকারকে" কেন্দ্র করে "গুজব" ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীর অনেক পাম্পে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মৎস্য ভবন ও নীলক্ষেতসহ ব্যস্ত এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরাসরি পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা স্বশরীরে উপস্থিত থেকে লাইন তদারকি করছেন এবং বারবার মাইকিং করে জানাচ্ছেন যে দেশে তেলের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে।

তবুও জনমনে জেঁকে বসা অনিশ্চয়তার এই ভয় ও দীর্ঘ সারি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈন‌ন্দিন জীবনের ছন্দ কেড়ে নিয়েছে।


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত