সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

তাহিরপুরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব দরিদ্র পরিবার



তাহিরপুরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব দরিদ্র পরিবার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হতদরিদ্র দিনমজুর কাশেম আলীর (৫৫) পরিবারের। আগুনে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ওই পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

সোমবার (৯ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা পশ্চিম গুটিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে হঠাৎ করেই কাশেম আলীর টিনসেট ঘরটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী এগিয়ে আসার আগেই ঘর, ঘরে থাকা গবাদিপশু ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে—তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, তারাবির নামাজের সময় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় চার-পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অনুমান করেন।

‘খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে এসে দেখি, বসতঘরসহ ঘরে থাকা ছয়-আটটি ছাগল, টাকাপয়সা—যা কিছু ছিল, সবই পুড়ে গেছে। কাশেম ও তার বড় ছেলে পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় কাজ করত। বাড়িতে ছিল কাশেমের স্ত্রী, ছোট মেয়ে ও চার বছর বয়সী এক নাতি।’

ক্ষতিগ্রস্ত কাশেম আলীর স্ত্রী হাজেরা খাতুন (৫০) কান্নাজড়িত কণে জানান, আগুন লাগার সময় তিনি তারাবির নামাজ পড়তে তার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

‘বাড়িতে আমার মেয়ে সাজেদা (৯) ও সাড়ে চার বছরের নাতি বুসরাকে রেখে গিয়েছিলাম। হাস-মুরগি, ছাগলের সাথে তারাও যদি পুড়ে যেত! আল্লাহ বাঁচাইছে। সেদিন দুপুরে বাদাঘাট ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ এনে ঘর মেরামত করছিলাম। আমার আর কিছুই নাই বাবা! ওই ঘরই ছিল একমাত্র সম্বল। ছয়-সাতটা ছাগল, কবুতর, হাস-মুরগি নিয়েই আমাদের সংসার। এখন কেমনে খাইমু? ঋণ কী দিয়া শোধ করুম?’

কাশেম আলীর বড় ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৭) বলেন, ‘আমি, বাবা আর আমার বউ ঢাকায় থাকি। বাড়িতে ছিল মা, ছোট ভাই-বোন আর আমার চার বছরের মেয়ে। রাতে ফোন পাইয়া বুঝতে পারলাম সব শেষ। রাতেই গাড়িতে উঠছি। সকালে এসে দেখি পড়নের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নাই।’

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এলাকার বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য শুকনো খাবার ও কম্বল পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সরকারিভাবে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬


তাহিরপুরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব দরিদ্র পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হতদরিদ্র দিনমজুর কাশেম আলীর (৫৫) পরিবারের। আগুনে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ওই পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

সোমবার (৯ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা পশ্চিম গুটিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে হঠাৎ করেই কাশেম আলীর টিনসেট ঘরটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী এগিয়ে আসার আগেই ঘর, ঘরে থাকা গবাদিপশু ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে—তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, তারাবির নামাজের সময় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় চার-পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অনুমান করেন।

‘খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে এসে দেখি, বসতঘরসহ ঘরে থাকা ছয়-আটটি ছাগল, টাকাপয়সা—যা কিছু ছিল, সবই পুড়ে গেছে। কাশেম ও তার বড় ছেলে পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় কাজ করত। বাড়িতে ছিল কাশেমের স্ত্রী, ছোট মেয়ে ও চার বছর বয়সী এক নাতি।’

ক্ষতিগ্রস্ত কাশেম আলীর স্ত্রী হাজেরা খাতুন (৫০) কান্নাজড়িত কণে জানান, আগুন লাগার সময় তিনি তারাবির নামাজ পড়তে তার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

‘বাড়িতে আমার মেয়ে সাজেদা (৯) ও সাড়ে চার বছরের নাতি বুসরাকে রেখে গিয়েছিলাম। হাস-মুরগি, ছাগলের সাথে তারাও যদি পুড়ে যেত! আল্লাহ বাঁচাইছে। সেদিন দুপুরে বাদাঘাট ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ এনে ঘর মেরামত করছিলাম। আমার আর কিছুই নাই বাবা! ওই ঘরই ছিল একমাত্র সম্বল। ছয়-সাতটা ছাগল, কবুতর, হাস-মুরগি নিয়েই আমাদের সংসার। এখন কেমনে খাইমু? ঋণ কী দিয়া শোধ করুম?’

কাশেম আলীর বড় ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৭) বলেন, ‘আমি, বাবা আর আমার বউ ঢাকায় থাকি। বাড়িতে ছিল মা, ছোট ভাই-বোন আর আমার চার বছরের মেয়ে। রাতে ফোন পাইয়া বুঝতে পারলাম সব শেষ। রাতেই গাড়িতে উঠছি। সকালে এসে দেখি পড়নের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নাই।’

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এলাকার বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য শুকনো খাবার ও কম্বল পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সরকারিভাবে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত