একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "স্বৈরাচার' আর 'গুপ্ত' এক হয়েছে।
এখন তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেছেন, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, একাত্তর সালে তাদের ভূমিকা কি ছিল তা এ দেশের মানুষের জানা আছে। স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগী গুপ্তশক্তি এখন এক হয়ে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অহেতুক নানা বিষয় নিয়ে বিশৃঙ্খলা না ছড়িয়ে তাদের আগে নিজেদের ঘর সামলানোর পরামর্শ দেন সরকারপ্রধান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও মুহুরী নদী খননকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে কিভাবে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল, তা দেশবাসী দেখেছে। আমরা সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে দেশে আইনের শাসন ধীরে ধীরে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, কিছু দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ইস্যু করে অরাজকতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। স্বৈরাচার ও এই গুপ্তশক্তি এক হয়ে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।’
নাম উল্লেখ না করে জামায়াতকে ইঙ্গিত দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণকে বিভ্রান্ত করে তারা কিছু আসনে জয় পেয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান করছে। ১৯৭১ সালে যেভাবে মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, ঠিক একইভাবে তারা আবারও নারী নির্যাতন শুরু করেছে। তাদের এক সদস্যের হাতে নারী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। শুধু নির্যাতনই নয়, মানুষ বলছে একটি জীবনের অবসানও ঘটানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে দেখলাম, সেই গুপ্ত দলের নেতারা এখন সরকারকে নীতিশিক্ষা দিতে খুব ব্যস্ত। বলছেন, আপনারা এই করেন, সেই করেন, আপনাদের এই ভুল, সেই ভুল। আমি তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, দয়া করে আগে নিজের ঘরের দিকে তাকান। আপনাদের ঘরের লোকেরা কিভাবে নারী নির্যাতন করছে, তা আগে সামাল দিন। তারপর অন্যকে নসিহত করতে আসবেন।’
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই একটি পক্ষ সব সময় দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৬ সালেও তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে ভূমিকা রেখেছিল। এখন সময় এসেছে সতর্ক হওয়ার। কাদের কথা বিশ্বাস করবেন, আর কাদের প্রত্যাখ্যান করবেন, সে সিদ্ধান্ত জনগণের। যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা হবে।’
নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটা আমার নানাবাড়ির এলাকা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখানে আমি শুধু বেড়াতে আসিনি, এ অঞ্চলের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন করা আমার সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। বিএনপির রাজনীতিই হলো উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কিংবা বন্ধ কলকারখানা চালুর মতো যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্যই নেওয়া। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাবে। অথচ একটি পক্ষ এই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। জনগণের কর্মসূচিতে যারা বাধা দেবে, তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরশুরামে ৩০ শয্যার হাসপাতাল করেছিলেন, পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। স্থানীয় মানুষের দাবি এটি ১০০ শয্যা করার। আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এটিকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তর করব। শুধু পরশুরাম নয়, সারা দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে না হয়।’
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল) এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
এর আগে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তিনি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। পরে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ও ড্রেজিং মেশিন চালু করে নদী খননকাজের সূচনা করেন এবং নদীর তীরে একটি নিমের চারা রোপণ করেন।
সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন। পরে তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "স্বৈরাচার' আর 'গুপ্ত' এক হয়েছে।
এখন তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেছেন, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, একাত্তর সালে তাদের ভূমিকা কি ছিল তা এ দেশের মানুষের জানা আছে। স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগী গুপ্তশক্তি এখন এক হয়ে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অহেতুক নানা বিষয় নিয়ে বিশৃঙ্খলা না ছড়িয়ে তাদের আগে নিজেদের ঘর সামলানোর পরামর্শ দেন সরকারপ্রধান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও মুহুরী নদী খননকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে কিভাবে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল, তা দেশবাসী দেখেছে। আমরা সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে দেশে আইনের শাসন ধীরে ধীরে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, কিছু দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ইস্যু করে অরাজকতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। স্বৈরাচার ও এই গুপ্তশক্তি এক হয়ে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।’
নাম উল্লেখ না করে জামায়াতকে ইঙ্গিত দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণকে বিভ্রান্ত করে তারা কিছু আসনে জয় পেয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান করছে। ১৯৭১ সালে যেভাবে মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, ঠিক একইভাবে তারা আবারও নারী নির্যাতন শুরু করেছে। তাদের এক সদস্যের হাতে নারী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। শুধু নির্যাতনই নয়, মানুষ বলছে একটি জীবনের অবসানও ঘটানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে দেখলাম, সেই গুপ্ত দলের নেতারা এখন সরকারকে নীতিশিক্ষা দিতে খুব ব্যস্ত। বলছেন, আপনারা এই করেন, সেই করেন, আপনাদের এই ভুল, সেই ভুল। আমি তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, দয়া করে আগে নিজের ঘরের দিকে তাকান। আপনাদের ঘরের লোকেরা কিভাবে নারী নির্যাতন করছে, তা আগে সামাল দিন। তারপর অন্যকে নসিহত করতে আসবেন।’
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই একটি পক্ষ সব সময় দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৬ সালেও তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে ভূমিকা রেখেছিল। এখন সময় এসেছে সতর্ক হওয়ার। কাদের কথা বিশ্বাস করবেন, আর কাদের প্রত্যাখ্যান করবেন, সে সিদ্ধান্ত জনগণের। যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা হবে।’
নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটা আমার নানাবাড়ির এলাকা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখানে আমি শুধু বেড়াতে আসিনি, এ অঞ্চলের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন করা আমার সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। বিএনপির রাজনীতিই হলো উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কিংবা বন্ধ কলকারখানা চালুর মতো যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্যই নেওয়া। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাবে। অথচ একটি পক্ষ এই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। জনগণের কর্মসূচিতে যারা বাধা দেবে, তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরশুরামে ৩০ শয্যার হাসপাতাল করেছিলেন, পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। স্থানীয় মানুষের দাবি এটি ১০০ শয্যা করার। আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এটিকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তর করব। শুধু পরশুরাম নয়, সারা দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে না হয়।’
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল) এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
এর আগে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তিনি প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। পরে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ও ড্রেজিং মেশিন চালু করে নদী খননকাজের সূচনা করেন এবং নদীর তীরে একটি নিমের চারা রোপণ করেন।
সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন। পরে তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

আপনার মতামত লিখুন