সংবাদ

বনানীতে গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশনের অনন্য থিম ‘জলজ’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

বনানীতে গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশনের অনন্য থিম ‘জলজ’

​অনন্ত মহাবিশ্বের মাঝে একমাত্র প্রাণোচ্ছল নীলাভ নীড় পৃথিবী, আর এই জীবনের প্রথম ও প্রধান পূর্বশর্ত হলো জল। হাজার হাজার বছর আগে বৈদিক ঋষিরাও জলকে সৃষ্টির আদি তত্ত্ব হিসেবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং ঋগ্বেদের নাসদীয় সূক্তে অসীম জলরাশির মধ্য দিয়ে জীবনের সূচনার কথা বলা হয়েছে।

রূপসী বাংলার নদী, বৃষ্টি ও জীবনের গভীরে মিশে থাকা জলের এই অস্তিত্বকে ধারণ করেই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গুলশান–বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন এবার আয়োজন করেছে তাদের বিশেষ থিম ‘জলজ’।
​সনাতন ভাবনায় পঞ্চমহাভূতের অন্যতম উপাদান জল কেবল একটি প্রাকৃতিক বিষয় নয়; তা পবিত্রতা ও পরম সংস্কারের মূল স্তম্ভ। মাতৃগর্ভ থেকে শুরু করে জীবনের শেষ অঞ্জলি পর্যন্ত পুরো জীবনচক্র জলের প্রবাহেই বাঁধা। শ্রীশ্রীচণ্ডীতে দেবীকে জীবের জীবনধারণের মূল আকুতি হিসেবে ‘তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে জলের বুক চিরে ফুটে ওঠা পদ্মের মতো জীবচেতনার গভীর তৃষ্ণা থেকেই প্রকাশিত হন মহাশক্তি মা দুর্গা।
এই বৈদিক ও আধ্যাত্মিক ভাবনাকে কেন্দ্র করে বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে গড়ে তোলা হচ্ছে এক বৃহৎ ‘জলজ জৈব-রূপকল্প’। পরিবেশবান্ধব উপাদান বাঁশ, বেত, প্রাকৃতিক তন্তু ও চটের সাহায্যে তৈরি তরঙ্গায়িত বহুস্তরীয় দৃশ্যপট দর্শককে বিশাল জলতরঙ্গের রূপ দিয়ে ঘিরে রাখবে। মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকে ভেতরের দিকে এগোলে প্রকৃতির উত্তাল তরঙ্গ থেকে শান্ত হয়ে মাতৃচরণের দিকে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হবে, যেখানে জলপ্রপাত ও রিফ্লেকশন পুলের আলো-ছায়ায় কেন্দ্রস্থলে থাকবে এক বৃহৎ পদ্মরূপী স্থাপত্য, আর সেখান থেকেই প্রস্ফুটিত পদ্মের মতো উদ্ভাসিত হবেন দুর্গা।
​ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি এই থিম বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল ও দূষণের মতো সামাজিক ও পরিবেশগত সংকটকেও সামনে এনেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে জলকে সম্মান জানানো এবং রক্ষা করাকে জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়ে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ মাতৃচরণে প্রার্থনা জানায় যে, মা যেন বিশ্বসংসারকে তৃষ্ণামুক্ত করেন, জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করেন এবং মানুষকে বিনাশের বদলে সৃষ্টির শক্তি দেন।
এই অনন্য ভাবনায় সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই মহোৎসবে বনানী মাঠে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে গুলশান–বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


বনানীতে গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশনের অনন্য থিম ‘জলজ’

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​অনন্ত মহাবিশ্বের মাঝে একমাত্র প্রাণোচ্ছল নীলাভ নীড় পৃথিবী, আর এই জীবনের প্রথম ও প্রধান পূর্বশর্ত হলো জল। হাজার হাজার বছর আগে বৈদিক ঋষিরাও জলকে সৃষ্টির আদি তত্ত্ব হিসেবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং ঋগ্বেদের নাসদীয় সূক্তে অসীম জলরাশির মধ্য দিয়ে জীবনের সূচনার কথা বলা হয়েছে।

রূপসী বাংলার নদী, বৃষ্টি ও জীবনের গভীরে মিশে থাকা জলের এই অস্তিত্বকে ধারণ করেই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গুলশান–বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন এবার আয়োজন করেছে তাদের বিশেষ থিম ‘জলজ’।
​সনাতন ভাবনায় পঞ্চমহাভূতের অন্যতম উপাদান জল কেবল একটি প্রাকৃতিক বিষয় নয়; তা পবিত্রতা ও পরম সংস্কারের মূল স্তম্ভ। মাতৃগর্ভ থেকে শুরু করে জীবনের শেষ অঞ্জলি পর্যন্ত পুরো জীবনচক্র জলের প্রবাহেই বাঁধা। শ্রীশ্রীচণ্ডীতে দেবীকে জীবের জীবনধারণের মূল আকুতি হিসেবে ‘তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে জলের বুক চিরে ফুটে ওঠা পদ্মের মতো জীবচেতনার গভীর তৃষ্ণা থেকেই প্রকাশিত হন মহাশক্তি মা দুর্গা।
এই বৈদিক ও আধ্যাত্মিক ভাবনাকে কেন্দ্র করে বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে গড়ে তোলা হচ্ছে এক বৃহৎ ‘জলজ জৈব-রূপকল্প’। পরিবেশবান্ধব উপাদান বাঁশ, বেত, প্রাকৃতিক তন্তু ও চটের সাহায্যে তৈরি তরঙ্গায়িত বহুস্তরীয় দৃশ্যপট দর্শককে বিশাল জলতরঙ্গের রূপ দিয়ে ঘিরে রাখবে। মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকে ভেতরের দিকে এগোলে প্রকৃতির উত্তাল তরঙ্গ থেকে শান্ত হয়ে মাতৃচরণের দিকে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হবে, যেখানে জলপ্রপাত ও রিফ্লেকশন পুলের আলো-ছায়ায় কেন্দ্রস্থলে থাকবে এক বৃহৎ পদ্মরূপী স্থাপত্য, আর সেখান থেকেই প্রস্ফুটিত পদ্মের মতো উদ্ভাসিত হবেন দুর্গা।
​ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি এই থিম বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল ও দূষণের মতো সামাজিক ও পরিবেশগত সংকটকেও সামনে এনেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে জলকে সম্মান জানানো এবং রক্ষা করাকে জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়ে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ মাতৃচরণে প্রার্থনা জানায় যে, মা যেন বিশ্বসংসারকে তৃষ্ণামুক্ত করেন, জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করেন এবং মানুষকে বিনাশের বদলে সৃষ্টির শক্তি দেন।
এই অনন্য ভাবনায় সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই মহোৎসবে বনানী মাঠে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে গুলশান–বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত