সংবাদ

নীতিনির্ধারণী ফোরামে আসছে নতুন মুখ

এক দশক পর কাউন্সিলের পথে বিএনপি


মহসীন ইসলাম টুটুল
মহসীন ইসলাম টুটুল
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

এক দশক পর কাউন্সিলের পথে বিএনপি

  • বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জোবায়দা রহমানের নাম
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই অঙ্গ সংগঠনসহ সব মহানগর ও জেলা কমিটি পুনর্গঠন

সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। দীর্ঘ ১০ বছর পর দলটির সপ্তম এই কাউন্সিল চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

মূলত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র ৫টি শূন্য পদসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শতাধিক শূন্য পদ পূরণ করাই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। কাউন্সিলের মাধ্যমে সব অঙ্গসংগঠনও ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। 

সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নানা কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত কাউন্সিলের দিকে যাওয়া যায়, সেই বিষয়ে আমরা চেষ্টা করবো।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি চাঙা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্বল্প সময়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৯ জন হলেও বর্তমানে ৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাহী কমিটির শতাধিক পদ নানা কারণে খালি পড়ে আছে। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যানের ১৬টি এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার ১০টি পদ উল্লেখযোগ্য। তবে কাউন্সিলের আগেই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণের বিষয়েও দলের ভিতরে আলোচনা রয়েছে।

দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, দীর্ঘ দিন কমিটি হালনাগাদ না হওয়ায় তৃণমূল থেকে নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দলীয় কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এরপর বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতির কারণে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সব মহানগর ও জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। সামনে জাতীয় কাউন্সিল ও বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রিয় নেতাদের মতে, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। তাই এখন দল পুনর্গঠনই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে ১৪ জন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন, দলটির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এই ১৪ জনের মধ্যে অনেকেই বার্ধক্যজনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ।

অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন: খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস এবং রফিকুল ইসলাম মিয়া (২০১৮ সাল থেকে নিষ্ক্রিয়)।

গত কয়েক বছরে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ এবং এম কে আনোয়ারের মতো প্রভাবশালী নেতাদের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্থায়ী কমিটিতে পদায়ন করা হলেও ২০২৬ সালের ১২ মার্চ তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দেন।

দলের দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দলের স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের ব্যাপারে হাইকমান্ড নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরও অনেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন না। আবার সম্প্রতি কাউকে কাউকে অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে দক্ষতা দেখিয়েছেন এমন নবীন ও প্রবীণ নেতাদের আগামীতে উপযুক্ত পদে পদায়ন করা হবে বলে দলীয় সূত্র বলছে।

জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির ৫টি শূন্য পদের বিপরীতে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের প্রায় ২০ জন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবেদীন, জয়নুল আবদিন ফারুক, আসাদুজ্জামান রিপন ও আহমেদ আজম খান এবং উপদেষ্টামণ্ডলী থেকে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জহির উদ্দিন স্বপন ও ফরহাদ হালিম ডোনারের নাম।

এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব ও অন্যান্য পদের মধ্য থেকে আলোচনায় রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী (সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব), শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, হাবিবুন নবী খান সোহেল, মাহবুব উদ্দীন খোকন এবং শ্যামা ওবায়েদের নাম।

তবে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জোবায়দা রহমানের নাম। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, ক্লিন ইমেজের অধিকারী হিসেবে তাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করলে দল আরও সুসংগঠিত হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমান।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কাউন্সিলের সময় এখনও সুনির্দিষ্ট না হলেও তা ‘শিগগিরই’ অনুষ্ঠিত হবে। দলের নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য হলো, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে তরুণ, ত্যাগী ও সাহসী নেতৃত্বের হাতে দলের চাবিকাঠি তুলে দেওয়া।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


এক দশক পর কাউন্সিলের পথে বিএনপি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জোবায়দা রহমানের নাম
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই অঙ্গ সংগঠনসহ সব মহানগর ও জেলা কমিটি পুনর্গঠন

সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। দীর্ঘ ১০ বছর পর দলটির সপ্তম এই কাউন্সিল চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

মূলত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র ৫টি শূন্য পদসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শতাধিক শূন্য পদ পূরণ করাই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। কাউন্সিলের মাধ্যমে সব অঙ্গসংগঠনও ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। 

সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নানা কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত কাউন্সিলের দিকে যাওয়া যায়, সেই বিষয়ে আমরা চেষ্টা করবো।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি চাঙা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্বল্প সময়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৯ জন হলেও বর্তমানে ৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাহী কমিটির শতাধিক পদ নানা কারণে খালি পড়ে আছে। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যানের ১৬টি এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার ১০টি পদ উল্লেখযোগ্য। তবে কাউন্সিলের আগেই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণের বিষয়েও দলের ভিতরে আলোচনা রয়েছে।

দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, দীর্ঘ দিন কমিটি হালনাগাদ না হওয়ায় তৃণমূল থেকে নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দলীয় কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এরপর বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতির কারণে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সব মহানগর ও জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। সামনে জাতীয় কাউন্সিল ও বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রিয় নেতাদের মতে, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। তাই এখন দল পুনর্গঠনই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে ১৪ জন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন, দলটির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এই ১৪ জনের মধ্যে অনেকেই বার্ধক্যজনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ।

অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন: খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস এবং রফিকুল ইসলাম মিয়া (২০১৮ সাল থেকে নিষ্ক্রিয়)।

গত কয়েক বছরে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ এবং এম কে আনোয়ারের মতো প্রভাবশালী নেতাদের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্থায়ী কমিটিতে পদায়ন করা হলেও ২০২৬ সালের ১২ মার্চ তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দেন।

দলের দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দলের স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের ব্যাপারে হাইকমান্ড নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরও অনেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন না। আবার সম্প্রতি কাউকে কাউকে অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে দক্ষতা দেখিয়েছেন এমন নবীন ও প্রবীণ নেতাদের আগামীতে উপযুক্ত পদে পদায়ন করা হবে বলে দলীয় সূত্র বলছে।

জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির ৫টি শূন্য পদের বিপরীতে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের প্রায় ২০ জন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবেদীন, জয়নুল আবদিন ফারুক, আসাদুজ্জামান রিপন ও আহমেদ আজম খান এবং উপদেষ্টামণ্ডলী থেকে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জহির উদ্দিন স্বপন ও ফরহাদ হালিম ডোনারের নাম।

এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব ও অন্যান্য পদের মধ্য থেকে আলোচনায় রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী (সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব), শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, হাবিবুন নবী খান সোহেল, মাহবুব উদ্দীন খোকন এবং শ্যামা ওবায়েদের নাম।

তবে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জোবায়দা রহমানের নাম। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, ক্লিন ইমেজের অধিকারী হিসেবে তাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করলে দল আরও সুসংগঠিত হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমান।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কাউন্সিলের সময় এখনও সুনির্দিষ্ট না হলেও তা ‘শিগগিরই’ অনুষ্ঠিত হবে। দলের নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য হলো, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে তরুণ, ত্যাগী ও সাহসী নেতৃত্বের হাতে দলের চাবিকাঠি তুলে দেওয়া।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত