দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে এক শক্তিশালী ও জনবান্ধব খাতে রূপান্তরের অঙ্গীকার নিয়ে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক মতবিনিময় সভায় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) এই অনুষ্ঠানে পোল্ট্রি খাতের অস্থিরতা দূর করতে এবং খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাস করেন। তাই দেশের সার্বিক কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসাধুতা বা অসততা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রান্তিক খামারিদের বর্তমান সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্ষুদ্র খামারিদের টিকিয়ে রাখা আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি; কারণ তারা না থাকলে বড় খামারিরাও টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি বর্তমান বাজারের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে জানান, বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হলেও খামারিরা মাত্র ৭ টাকায় তা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে প্রতিটি ডিমে ২ টাকা করে লোকসান গুণতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, পোল্ট্রি খাতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতকে একটি শক্তিশালী রপ্তানিমুখী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
ভ্যাকসিন আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও উল্লেখ করেন, সরকার ও কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আমদানি করে থাকে, এক্ষেত্রে আমদানিকারকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
খামারি থেকে শুরু করে ফিড, বাচ্চা উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে প্রান্তিক খামারিরা লাভবান হন এবং সাধারণ ভোক্তার ওপরও কোনো অতিরিক্ত দামের চাপ না পড়ে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন খামারিদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারের মূল দায়িত্ব হলো সার্বিক সহায়তা প্রদান করা এবং এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে শতভাগ সহযোগিতা দেওয়া হবে। বিশেষ করে বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান এবং ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ। ফিড ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হকের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সভায় খামারি, ব্যবসায়ী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পোল্ট্রি শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একমত পোষণ করেন।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে এক শক্তিশালী ও জনবান্ধব খাতে রূপান্তরের অঙ্গীকার নিয়ে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক মতবিনিময় সভায় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) এই অনুষ্ঠানে পোল্ট্রি খাতের অস্থিরতা দূর করতে এবং খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাস করেন। তাই দেশের সার্বিক কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসাধুতা বা অসততা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রান্তিক খামারিদের বর্তমান সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্ষুদ্র খামারিদের টিকিয়ে রাখা আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি; কারণ তারা না থাকলে বড় খামারিরাও টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি বর্তমান বাজারের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে জানান, বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হলেও খামারিরা মাত্র ৭ টাকায় তা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে প্রতিটি ডিমে ২ টাকা করে লোকসান গুণতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, পোল্ট্রি খাতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতকে একটি শক্তিশালী রপ্তানিমুখী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
ভ্যাকসিন আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও উল্লেখ করেন, সরকার ও কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আমদানি করে থাকে, এক্ষেত্রে আমদানিকারকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
খামারি থেকে শুরু করে ফিড, বাচ্চা উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে প্রান্তিক খামারিরা লাভবান হন এবং সাধারণ ভোক্তার ওপরও কোনো অতিরিক্ত দামের চাপ না পড়ে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন খামারিদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারের মূল দায়িত্ব হলো সার্বিক সহায়তা প্রদান করা এবং এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে শতভাগ সহযোগিতা দেওয়া হবে। বিশেষ করে বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান এবং ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ। ফিড ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হকের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সভায় খামারি, ব্যবসায়ী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পোল্ট্রি শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একমত পোষণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন