দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে সংসদে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত ছোটগল্পের (জীবিত ও মৃত) পঙক্তি দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন তিনি।
রুমিন বলেন, “কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে কাদম্বিনী মরে নাই।” “আমাদের তেলের দাম শেষমেষ বৃদ্ধিই হইল। কিন্তু তার আগে আমরা দেখলাম কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লম্বা লাইন। মাঝরাত পর্যন্ত ড্রাইভাররা দাঁড়িয়ে আছেন, তারা তেল পাচ্ছেন না। কিন্তু সরকারের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই।”
রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।
স্বতন্ত্র এই এমপি (সংসদ সদস্য) সংসদে প্রশ্ন তোলেন, “যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন? দামই বাড়াতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন?”
বিএনপির সাবেক এমপি (চলতি সংসদে স্বতন্ত্র এমপি) রুমিনের বক্তব্যের সময় সরকারি দল বিএনপির সদস্যরা আপত্তি জানান। কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। রুমিনের বক্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা হই-চই করতে থাকেন।
স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তখন এমপিদের সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। নিজ টেবিলে হাতুরি পিটিয়ে শব্দ করে কায়সার কামাল বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ প্লিজ, লেট আজ ডিসিপ্লিন আওয়ারসেলভস’।
রুমিন ফারাহানার বক্তব্যের পরে সরকারি দলের এ আচরণের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে ফ্লোর নিয়ে বলেন, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কিছু সদস্য ‘এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি’ করেছেন, যেটা তার বিবেকে আঘাত লেগেছে। তিনি এর নিন্দা জানান।
এর আগে বক্তব্যে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, “মন্ত্রীরা যখন সংসদে বক্তব্য দেন, তখন তারা অবলীলায় বলেন বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু যখন তেল নিতে যায়, তখন দেখা যায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন।
সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মার্কেট বন্ধ করা, অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করে এই এমপি। তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইনই-বা কেন? দামই-বা বাড়াইতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন? এই প্রশ্নগুলো তো ওঠে!”
স্পিকারের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, “আপনার মাধ্যমে এই সংসদের কাছে আমি জানতে চাই, জ্বালানিমন্ত্রীরা যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নেই। ওনারা যদি পরিষ্কার করে বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে কত দিনের অকটেন ও ডিজেলের মজুত আছে, কত দিন চলতে পারবে, পাম্পগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পায় না?”
এ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “এই সংসদ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা। যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, দেশের জনগণের সমর্থন, ভোট, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে এসেছেন। আমরা সব সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, কোনো সংসদ সদস্য যখন দাঁড়িয়ে কোনো কথা বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ অথবা তাকে এলাও করার একক এখতিয়ার হচ্ছে স্পিকারের।”
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “আজ লক্ষ করলাম যে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তিনি যখন কথা বলছিলেন, দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ (সংসদে সামনের সারিতে বসা সরকারি দল) থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। আমি এটা আশা করি না।”
চার-পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন, এমন সংসদ সদস্যদের কেউ কেউও এ কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করে জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে তাদের নাম বলে আমি নিজে লজ্জা পেতে চাই না।”
শফিকুর রহমান বলেন, “যখন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য চলছিল, বিষয়টা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য; যা করা হয়েছে। আমি এটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এবং আমি এটার জন্য নিন্দা জানাতেও বাধ্য হলাম।”

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে সংসদে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত ছোটগল্পের (জীবিত ও মৃত) পঙক্তি দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন তিনি।
রুমিন বলেন, “কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে কাদম্বিনী মরে নাই।” “আমাদের তেলের দাম শেষমেষ বৃদ্ধিই হইল। কিন্তু তার আগে আমরা দেখলাম কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লম্বা লাইন। মাঝরাত পর্যন্ত ড্রাইভাররা দাঁড়িয়ে আছেন, তারা তেল পাচ্ছেন না। কিন্তু সরকারের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই।”
রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের আলোচনায় রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।
স্বতন্ত্র এই এমপি (সংসদ সদস্য) সংসদে প্রশ্ন তোলেন, “যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন? দামই বাড়াতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন?”
বিএনপির সাবেক এমপি (চলতি সংসদে স্বতন্ত্র এমপি) রুমিনের বক্তব্যের সময় সরকারি দল বিএনপির সদস্যরা আপত্তি জানান। কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। রুমিনের বক্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা হই-চই করতে থাকেন।
স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তখন এমপিদের সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। নিজ টেবিলে হাতুরি পিটিয়ে শব্দ করে কায়সার কামাল বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ প্লিজ, লেট আজ ডিসিপ্লিন আওয়ারসেলভস’।
রুমিন ফারাহানার বক্তব্যের পরে সরকারি দলের এ আচরণের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে ফ্লোর নিয়ে বলেন, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কিছু সদস্য ‘এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি’ করেছেন, যেটা তার বিবেকে আঘাত লেগেছে। তিনি এর নিন্দা জানান।
এর আগে বক্তব্যে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, “মন্ত্রীরা যখন সংসদে বক্তব্য দেন, তখন তারা অবলীলায় বলেন বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু যখন তেল নিতে যায়, তখন দেখা যায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন।
সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মার্কেট বন্ধ করা, অফিসের কর্মঘণ্টা কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করে এই এমপি। তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইনই-বা কেন? দামই-বা বাড়াইতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন? এই প্রশ্নগুলো তো ওঠে!”
স্পিকারের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, “আপনার মাধ্যমে এই সংসদের কাছে আমি জানতে চাই, জ্বালানিমন্ত্রীরা যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নেই। ওনারা যদি পরিষ্কার করে বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে কত দিনের অকটেন ও ডিজেলের মজুত আছে, কত দিন চলতে পারবে, পাম্পগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পায় না?”
এ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “এই সংসদ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা। যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, দেশের জনগণের সমর্থন, ভোট, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে এসেছেন। আমরা সব সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, কোনো সংসদ সদস্য যখন দাঁড়িয়ে কোনো কথা বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ অথবা তাকে এলাও করার একক এখতিয়ার হচ্ছে স্পিকারের।”
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “আজ লক্ষ করলাম যে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তিনি যখন কথা বলছিলেন, দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ (সংসদে সামনের সারিতে বসা সরকারি দল) থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। আমি এটা আশা করি না।”
চার-পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন, এমন সংসদ সদস্যদের কেউ কেউও এ কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করে জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে তাদের নাম বলে আমি নিজে লজ্জা পেতে চাই না।”
শফিকুর রহমান বলেন, “যখন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য চলছিল, বিষয়টা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য; যা করা হয়েছে। আমি এটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এবং আমি এটার জন্য নিন্দা জানাতেও বাধ্য হলাম।”

আপনার মতামত লিখুন