শুরু হলো আবার আন্দোলনের রাজনীতি। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী যেন ফিরতে চাইছেন সেই পুরনো পথে—যে পথ ধরে প্রায় পনেরো বছর আগে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন তিনি। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলনই একসময় তৈরি করেছিল তাঁর রাজনৈতিক ভিত, আর এবার নির্বাচনী ধাক্কার পর সেই আন্দোলনের পথেই ফের হাঁটার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, আগামী ২ জুন কলকাতার ধর্মতলা চত্বরে ধর্নায় বসার ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের অনুমতি মেলেনি। অনুমতি মিললে রানী রাসমণি এভিনিউ-এ সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে অবস্থান বিক্ষোভ, যা চলতে পারে দিনভর। দুপুরের দিকে মঞ্চে যোগ দিবে মমতা ব্যানার্জি নিজেও।
এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোট পরবর্তী হিংসা এবং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ। ফল ঘোষণার পর থেকেই বারবার সরব হয়েছেন মমতা। তাঁর দাবি, মানুষের রায়ে তৃণমূল হারেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে ফল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকেছে দলটি। অন্যদিকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি । সাম্প্রতিক ফলতাতেও তাদের জয় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ফল ঘোষণার পর ফেসবুক লাইভে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর কথায়, অন্তত ১৫০টি আসনে ফল উল্টে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের ২২০ থেকে ২৩০টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, জেতার জায়গা হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
শুধু তাই নয়, ইভিএম নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দাবি করেছেন, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মেশিনের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।
একইসঙ্গে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে এবং স্টেশন এলাকা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে তাদের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কড়া মন্তব্য—“আপনারা সত্যি জিতলে অত্যাচার করতেন না। আইন সবার জন্য এক হওয়া উচিত।”
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রাস্তায় নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙা করা এবং জনসমর্থন ফেরানোর কৌশলেই এগোচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এখন দেখার, প্রশাসনের অনুমতি মেলে কি না এবং মমতার এই আন্দোলন আদৌ কি বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে—নাকি এটা শুধুই রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হয়ে থাকবে।

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
শুরু হলো আবার আন্দোলনের রাজনীতি। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী যেন ফিরতে চাইছেন সেই পুরনো পথে—যে পথ ধরে প্রায় পনেরো বছর আগে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন তিনি। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলনই একসময় তৈরি করেছিল তাঁর রাজনৈতিক ভিত, আর এবার নির্বাচনী ধাক্কার পর সেই আন্দোলনের পথেই ফের হাঁটার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, আগামী ২ জুন কলকাতার ধর্মতলা চত্বরে ধর্নায় বসার ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের অনুমতি মেলেনি। অনুমতি মিললে রানী রাসমণি এভিনিউ-এ সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে অবস্থান বিক্ষোভ, যা চলতে পারে দিনভর। দুপুরের দিকে মঞ্চে যোগ দিবে মমতা ব্যানার্জি নিজেও।
এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোট পরবর্তী হিংসা এবং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ। ফল ঘোষণার পর থেকেই বারবার সরব হয়েছেন মমতা। তাঁর দাবি, মানুষের রায়ে তৃণমূল হারেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে ফল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকেছে দলটি। অন্যদিকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি । সাম্প্রতিক ফলতাতেও তাদের জয় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ফল ঘোষণার পর ফেসবুক লাইভে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর কথায়, অন্তত ১৫০টি আসনে ফল উল্টে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের ২২০ থেকে ২৩০টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, জেতার জায়গা হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
শুধু তাই নয়, ইভিএম নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দাবি করেছেন, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মেশিনের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।
একইসঙ্গে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে এবং স্টেশন এলাকা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে তাদের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কড়া মন্তব্য—“আপনারা সত্যি জিতলে অত্যাচার করতেন না। আইন সবার জন্য এক হওয়া উচিত।”
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রাস্তায় নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙা করা এবং জনসমর্থন ফেরানোর কৌশলেই এগোচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এখন দেখার, প্রশাসনের অনুমতি মেলে কি না এবং মমতার এই আন্দোলন আদৌ কি বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে—নাকি এটা শুধুই রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন