সংবাদ

‘পরকীয়া’র অভিযোগে মেহেরপুরে মধ্যযুগীয় বর্বরতা


প্রতিনিধি, মেহেরপুর
প্রতিনিধি, মেহেরপুর
প্রকাশ: ১ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

‘পরকীয়া’র অভিযোগে মেহেরপুরে মধ্যযুগীয় বর্বরতা
মেহেরপুরের রাজনগর গ্রামে এক গৃহবধূ ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মেহেরপুরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূ ও এক যুবককে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতন করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকালে সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী এক ওমান প্রবাসীর স্ত্রী এবং তার চার বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। নির্যাতনের শিকার যুবক একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মুদি দোকানি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ ও দোকানির মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে গ্রামের একদল লোক তাদের ধরে নিয়ে আসেন। এরপর গ্রামের একটি পেয়ারাগাছের সঙ্গে তাদের দুজনের হাত বেঁধে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। ৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অসহায় অবস্থায় বাঁধা দুজনকে লাঠি দিয়ে আঘাত ও চড়থাপ্পড় মারা হচ্ছে। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বাঁচার আকুতি জানালেও কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। বরং অনেকে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে এই দৃশ্য ধারণ করছিলেন।

এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী নারী জানান, যখন ওই গৃহবধূকে মারধর করা হচ্ছিল, তখন তার চার বছরের শিশু সন্তানটি তাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদছিল।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বলেন, ‘দোকানের বকেয়া টাকা নিতে ওই যুবক এসেছিলেন। তখন স্থানীয় লোকজন আমাদের টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে আনে। লাঠি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করা হয়েছে এবং মুখে-ঘাড়ে চড়থাপ্পড় মারা হয়েছে। এখন শুনছি এলাকার মাতবরেরা সালিস করে আমাদের বিচার করবেন।’

নির্যাতনের শিকার যুবকের এক স্বজন জানান, মারধরের পর লোকলজ্জার ভয়ে ওই যুবক এলাকা ছেড়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এটি অত্যন্ত বর্বর ও অমানবিক ঘটনা। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এই নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬


‘পরকীয়া’র অভিযোগে মেহেরপুরে মধ্যযুগীয় বর্বরতা

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

মেহেরপুরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূ ও এক যুবককে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতন করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকালে সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী এক ওমান প্রবাসীর স্ত্রী এবং তার চার বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। নির্যাতনের শিকার যুবক একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মুদি দোকানি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ ও দোকানির মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে গ্রামের একদল লোক তাদের ধরে নিয়ে আসেন। এরপর গ্রামের একটি পেয়ারাগাছের সঙ্গে তাদের দুজনের হাত বেঁধে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। ৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অসহায় অবস্থায় বাঁধা দুজনকে লাঠি দিয়ে আঘাত ও চড়থাপ্পড় মারা হচ্ছে। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বাঁচার আকুতি জানালেও কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। বরং অনেকে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে এই দৃশ্য ধারণ করছিলেন।

এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী নারী জানান, যখন ওই গৃহবধূকে মারধর করা হচ্ছিল, তখন তার চার বছরের শিশু সন্তানটি তাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদছিল।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বলেন, ‘দোকানের বকেয়া টাকা নিতে ওই যুবক এসেছিলেন। তখন স্থানীয় লোকজন আমাদের টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে আনে। লাঠি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করা হয়েছে এবং মুখে-ঘাড়ে চড়থাপ্পড় মারা হয়েছে। এখন শুনছি এলাকার মাতবরেরা সালিস করে আমাদের বিচার করবেন।’

নির্যাতনের শিকার যুবকের এক স্বজন জানান, মারধরের পর লোকলজ্জার ভয়ে ওই যুবক এলাকা ছেড়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এটি অত্যন্ত বর্বর ও অমানবিক ঘটনা। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এই নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত