নওগাঁর সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী ইউনিয়নের কলমুডাঙ্গা ও বলদিয়াঘাট গ্রামের কৃষকদের কাছে বোরো ধান ঘরে তোলা এখন এক বড় সংগ্রামের নাম। সীমান্তবর্তী চকচকি ও সাতবিলা মাঠ থেকে কাটা ধান বাড়িতে আনতে গিয়ে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। বেহাল কাঁচা রাস্তা, বড় বড় গর্ত আর কাদা-পানিতে আটকে যাচ্ছে ধানবোঝাই ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রলি। এতে একদিকে বাড়ছে পরিবহন খরচ, অন্যদিকে মাঠেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে কৃষকের ঘাম ঝরানো সোনালি ফসল।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, চকচকি ও সাতবিলা মাঠের মাঝ দিয়ে যাওয়া একমাত্র কাঁচা রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ভরে কাদার সাগরে পরিণত হয়েছে। ধানবোঝাই ট্রাক্টর ও টলি বারবার কাদায় আটকে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাদা থেকে যানবাহন টেনে তুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাঠ থেকে ধান বাড়িতে আনতে এখন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। রাস্তার কারণে এক ট্রিপ ধান আনতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে।’ ফরিদুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, বৃষ্টি আর রাস্তার দুরবস্থার কারণে সময়মতো ধান ঘরে তোলা যাচ্ছে না। বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ধান কাটার মৌসুমে অন্য এলাকায় যখন উৎসবের আমেজ, তখন কলমুডাঙ্গা এলাকার কৃষকেরা রাস্তার দুর্ভোগে দিশেহারা। পরিবহনসংকটের কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে মাঠেই ধান ফেলে রাখছেন। ঘন ঘন বৃষ্টিতে অনেক ধানের শীষে চারা গজাচ্ছে, আবার কোথাও পচে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর ধান কাটার মৌসুমে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পরিষদে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, সমস্যার সাময়িক সমাধানে গর্তগুলোতে ইটের খোয়া বা বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা জরুরি। পরে একটি স্থায়ী প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকাকরণ প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষকেরা কৃষি উৎপাদন ও ফসল পরিবহনের স্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার বা পাকাকরণের উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী ইউনিয়নের কলমুডাঙ্গা ও বলদিয়াঘাট গ্রামের কৃষকদের কাছে বোরো ধান ঘরে তোলা এখন এক বড় সংগ্রামের নাম। সীমান্তবর্তী চকচকি ও সাতবিলা মাঠ থেকে কাটা ধান বাড়িতে আনতে গিয়ে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। বেহাল কাঁচা রাস্তা, বড় বড় গর্ত আর কাদা-পানিতে আটকে যাচ্ছে ধানবোঝাই ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রলি। এতে একদিকে বাড়ছে পরিবহন খরচ, অন্যদিকে মাঠেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে কৃষকের ঘাম ঝরানো সোনালি ফসল।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, চকচকি ও সাতবিলা মাঠের মাঝ দিয়ে যাওয়া একমাত্র কাঁচা রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ভরে কাদার সাগরে পরিণত হয়েছে। ধানবোঝাই ট্রাক্টর ও টলি বারবার কাদায় আটকে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাদা থেকে যানবাহন টেনে তুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাঠ থেকে ধান বাড়িতে আনতে এখন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। রাস্তার কারণে এক ট্রিপ ধান আনতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে।’ ফরিদুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, বৃষ্টি আর রাস্তার দুরবস্থার কারণে সময়মতো ধান ঘরে তোলা যাচ্ছে না। বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ধান কাটার মৌসুমে অন্য এলাকায় যখন উৎসবের আমেজ, তখন কলমুডাঙ্গা এলাকার কৃষকেরা রাস্তার দুর্ভোগে দিশেহারা। পরিবহনসংকটের কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে মাঠেই ধান ফেলে রাখছেন। ঘন ঘন বৃষ্টিতে অনেক ধানের শীষে চারা গজাচ্ছে, আবার কোথাও পচে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর ধান কাটার মৌসুমে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পরিষদে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, সমস্যার সাময়িক সমাধানে গর্তগুলোতে ইটের খোয়া বা বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা জরুরি। পরে একটি স্থায়ী প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকাকরণ প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষকেরা কৃষি উৎপাদন ও ফসল পরিবহনের স্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার বা পাকাকরণের উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন