ঈদের আনন্দের ঠিক আগের মুহূর্তটি যে এমন এক চরম বিষাদে রূপ নেবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি হতভাগ্য সেই মায়েরা। রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে একে একে প্রাণ হারায় ৬টি ফুটফুটে নবজাতক। কোল খালি হওয়া মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদ আর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মাঝে এই নির্মম ট্র্যাজেডির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ঘটনার আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ আইনসম্মত উপায়ে সম্পন্ন করতে দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যেন আইনসম্মত উপায়ে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতেই সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, আগামী ৩ জুনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের গভীরতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “তদন্ত রিপোর্ট আরও প্র্যাক্টিক্যাল হওয়া প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে তদন্ত রিপোর্টটি যাতে আরও গতিশীল ও প্র্যাক্টিক্যাল হয়, সেজন্য ভুক্তভোগী শিশুদের মায়েদের সাথে সরাসরি কথা বলা প্রয়োজন।” একই সাথে ঈদের ছুটির কারণে উদ্ভূত জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একই সাথে ঈদের ছুটির কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে আইনি তদন্ত কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা ছিল, তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুতই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির পক্ষ থেকে এই কমিটি গঠন করা হবে এবং আগামী ৩ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।” তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
এদিকে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারমুখী আচরণ ও হামলার ঘটনায় তীব্র দুঃখ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বত্র যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন রোগীদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেটি দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া বা তাদের ওপর হামলা করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
হাসপাতালের ভেতরে একটি অবৈধ বেকারি পরিচালনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমরা গতকাল স্বশরীরে ওই বেকারিটি দেখেছি এবং গতকাল পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও ডেকেছি। তারা কীভাবে এবং কেন সেখানে লাইসেন্স দিয়েছিল, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নজরদারির বিষয়ে তিনি অতীতের কোনো দায় নিজের কাঁধে না নিলেও সাফ জানিয়ে দেন, বর্তমানে দেশজুড়ে ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কঠোর পরিদর্শন ও তদারকি শুরু হয়েছে।

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
ঈদের আনন্দের ঠিক আগের মুহূর্তটি যে এমন এক চরম বিষাদে রূপ নেবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি হতভাগ্য সেই মায়েরা। রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে একে একে প্রাণ হারায় ৬টি ফুটফুটে নবজাতক। কোল খালি হওয়া মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদ আর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মাঝে এই নির্মম ট্র্যাজেডির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ঘটনার আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ আইনসম্মত উপায়ে সম্পন্ন করতে দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যেন আইনসম্মত উপায়ে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতেই সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, আগামী ৩ জুনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের গভীরতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “তদন্ত রিপোর্ট আরও প্র্যাক্টিক্যাল হওয়া প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে তদন্ত রিপোর্টটি যাতে আরও গতিশীল ও প্র্যাক্টিক্যাল হয়, সেজন্য ভুক্তভোগী শিশুদের মায়েদের সাথে সরাসরি কথা বলা প্রয়োজন।” একই সাথে ঈদের ছুটির কারণে উদ্ভূত জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একই সাথে ঈদের ছুটির কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে আইনি তদন্ত কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা ছিল, তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুতই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির পক্ষ থেকে এই কমিটি গঠন করা হবে এবং আগামী ৩ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।” তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
এদিকে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারমুখী আচরণ ও হামলার ঘটনায় তীব্র দুঃখ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বত্র যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন রোগীদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেটি দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া বা তাদের ওপর হামলা করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
হাসপাতালের ভেতরে একটি অবৈধ বেকারি পরিচালনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমরা গতকাল স্বশরীরে ওই বেকারিটি দেখেছি এবং গতকাল পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও ডেকেছি। তারা কীভাবে এবং কেন সেখানে লাইসেন্স দিয়েছিল, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নজরদারির বিষয়ে তিনি অতীতের কোনো দায় নিজের কাঁধে না নিলেও সাফ জানিয়ে দেন, বর্তমানে দেশজুড়ে ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কঠোর পরিদর্শন ও তদারকি শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন