সংবাদ

তারাগঞ্জে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প


প্রতিনিধি, ​তারাগঞ্জ (রংপুর)
প্রতিনিধি, ​তারাগঞ্জ (রংপুর)
প্রকাশ: ২ জুন ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

তারাগঞ্জে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প
বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যানে করে নেওয়া হচ্ছে মাটির তৈজসপত্র। ছবি : সংবাদ

আধুনিকতার ছোঁয়া আর প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও মেলামাইন পণ্যের দাপটে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। মাটির চড়া দাম, জ্বালানি সংকট আর উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে পণ্যের ন্যায্য দাম না থাকায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। পূর্বপুরুষের এই পেশা টিকিয়ে রাখতে এখন হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় কারিগররা।

সম্প্রতি উপজেলার ইকরচালী বরাতী পালপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এক কারিগর ভ্যানে করে মাটির তৈজসপত্র বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় মৃৎশিল্পী জীবন রায়, মহন্ত রায় ও মানিক রায় জানান, একটি মাটির পাত্র তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। দূর থেকে এঁটেল মাটি সংগ্রহ করে কাদা প্রস্তুতের পর চাকার সাহায্যে নিপুণ শৈলীতে তৈরি করা হয় হাঁড়ি, পাতিল, কলস ও দইয়ের ভাঁড়। এরপর কাঁচা পাত্রগুলো কড়া রোদে শুকিয়ে মাটির চুল্লিতে একটানা ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পোড়াতে হয়।

কঠোর পরিশ্রমের পর তৈরি এসব সামগ্রী তারাগঞ্জ সদর হড়কলির হাট ও ইকরচালী হাটসহ বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করা হয়। তবে বাজারে সস্তা প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে মাটির জিনিসের চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। মৃৎশিল্পীরা জানান, বর্তমানে মাটি ও জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় বিক্রয়মূল্য অত্যন্ত নগণ্য। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে ঝুঁকছেন।

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন, "এই লোকশিল্প আমাদের সংস্কৃতির অহংকার। মৃৎশিল্পীরা এখনও যে নিপুণভাবে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং কুমার পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


তারাগঞ্জে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

আধুনিকতার ছোঁয়া আর প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও মেলামাইন পণ্যের দাপটে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। মাটির চড়া দাম, জ্বালানি সংকট আর উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে পণ্যের ন্যায্য দাম না থাকায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। পূর্বপুরুষের এই পেশা টিকিয়ে রাখতে এখন হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় কারিগররা।

সম্প্রতি উপজেলার ইকরচালী বরাতী পালপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এক কারিগর ভ্যানে করে মাটির তৈজসপত্র বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় মৃৎশিল্পী জীবন রায়, মহন্ত রায় ও মানিক রায় জানান, একটি মাটির পাত্র তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। দূর থেকে এঁটেল মাটি সংগ্রহ করে কাদা প্রস্তুতের পর চাকার সাহায্যে নিপুণ শৈলীতে তৈরি করা হয় হাঁড়ি, পাতিল, কলস ও দইয়ের ভাঁড়। এরপর কাঁচা পাত্রগুলো কড়া রোদে শুকিয়ে মাটির চুল্লিতে একটানা ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পোড়াতে হয়।

কঠোর পরিশ্রমের পর তৈরি এসব সামগ্রী তারাগঞ্জ সদর হড়কলির হাট ও ইকরচালী হাটসহ বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করা হয়। তবে বাজারে সস্তা প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে মাটির জিনিসের চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। মৃৎশিল্পীরা জানান, বর্তমানে মাটি ও জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় বিক্রয়মূল্য অত্যন্ত নগণ্য। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে ঝুঁকছেন।

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন, "এই লোকশিল্প আমাদের সংস্কৃতির অহংকার। মৃৎশিল্পীরা এখনও যে নিপুণভাবে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং কুমার পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত