বিজ্ঞানীদের সতর্কবাণী ফলতে শুরু করেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবার ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। যে অতিরিক্ত তাপমাত্রা সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান ধ্বংস করছে। বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়া মানে আরও তীব্র ও ঘন ঘন ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি।
ইউরোপের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বলছে, বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা জুন মাসে ২১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। যা বছরের এই সময়ের জন্য ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাম্প্রতিক ‘এল নিনো’ জলবায়ু প্যাটার্ন এটি ত্বরান্বিত করলেও মূল কারণ দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণতা।
জুনে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২০.৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যে তাপমাত্রা ২০২৩ ও ২০২৪ সালের আগের রেকর্ডগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত ২১ জুন দৈনিক গড় তাপমাত্রা ২১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। যা ২০২৪ সালের ২০.৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ডকেও ০.১৪ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়।
কোপার্নিকাসের জলবায়ু পরিবর্তন সেবা বিভাগের পরিচালক কার্লো বুওনতেম্পো সতর্ক করে বলেছেন, ‘বর্তমান অবস্থা একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা করতে পারে। যা আমাদের আবারও অচেনা অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে।’
শুধু জুন নয়, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সমুদ্রের উষ্ণতা ছিল অবিশ্বাস্য। কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস জানিয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই ইঙ্গিত। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বের প্রায় ৮২ শতাংশ সমুদ্রেই মেরিন হিটওয়েভ বা সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখা গেছে। যা ২০২৪ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
মেডিটেরেনিয়ান সাগর ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগর উষ্ণতার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। মেডিটেরেনিয়ান সাগর জুনে ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে, যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
অন্যদিকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে জুনের তাপমাত্রা ২৭.২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। মাত্র ৩০ বছরের ব্যবধানে উত্তর সাগরের তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে- একটি ভীতিকর তথ্য।
এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান যেমন ধ্বংস করছে তেমনি ভয়াবহ বন্যা ও সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করছে। এর ফলে আরও তীব্র ও ঘন ঘন ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো ও জলবায়ু পরিবর্তন একসঙ্গে এই সংকটের দ্বিগুণ কারণ। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে সাম্প্রতিক এল নিনো প্রাকৃতিক ঘটনাটি ভূমিকা রাখলেও, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণতাই মূল কারণ।
কোপার্নিকাসের তথ্য বলছে, গত তিন বছর ধরে মেরু অঞ্চলের বাইরে সমুদ্রের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ০.৩৫ থেকে ০.৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করে নেয় সমুদ্র।
সমুদ্রের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা এবং চলমান এল নিনোর প্রভাবে আগামী মাসগুলোতে আরও তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। কোপার্নিকাসের সতর্কতা, ‘আমরা অচেনা অঞ্চলে প্রবেশ করছি’। যেন আমাদের জন্য এক মহাবিপদের ইঙ্গিত।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞানীদের সতর্কবাণী ফলতে শুরু করেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবার ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। যে অতিরিক্ত তাপমাত্রা সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান ধ্বংস করছে। বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়া মানে আরও তীব্র ও ঘন ঘন ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি।
ইউরোপের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বলছে, বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা জুন মাসে ২১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। যা বছরের এই সময়ের জন্য ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাম্প্রতিক ‘এল নিনো’ জলবায়ু প্যাটার্ন এটি ত্বরান্বিত করলেও মূল কারণ দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণতা।
জুনে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২০.৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যে তাপমাত্রা ২০২৩ ও ২০২৪ সালের আগের রেকর্ডগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত ২১ জুন দৈনিক গড় তাপমাত্রা ২১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। যা ২০২৪ সালের ২০.৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ডকেও ০.১৪ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়।
কোপার্নিকাসের জলবায়ু পরিবর্তন সেবা বিভাগের পরিচালক কার্লো বুওনতেম্পো সতর্ক করে বলেছেন, ‘বর্তমান অবস্থা একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা করতে পারে। যা আমাদের আবারও অচেনা অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে।’
শুধু জুন নয়, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সমুদ্রের উষ্ণতা ছিল অবিশ্বাস্য। কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস জানিয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০.০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই ইঙ্গিত। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বের প্রায় ৮২ শতাংশ সমুদ্রেই মেরিন হিটওয়েভ বা সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখা গেছে। যা ২০২৪ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
মেডিটেরেনিয়ান সাগর ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগর উষ্ণতার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। মেডিটেরেনিয়ান সাগর জুনে ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে, যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
অন্যদিকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে জুনের তাপমাত্রা ২৭.২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। মাত্র ৩০ বছরের ব্যবধানে উত্তর সাগরের তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে- একটি ভীতিকর তথ্য।
এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান যেমন ধ্বংস করছে তেমনি ভয়াবহ বন্যা ও সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করছে। এর ফলে আরও তীব্র ও ঘন ঘন ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো ও জলবায়ু পরিবর্তন একসঙ্গে এই সংকটের দ্বিগুণ কারণ। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে সাম্প্রতিক এল নিনো প্রাকৃতিক ঘটনাটি ভূমিকা রাখলেও, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণতাই মূল কারণ।
কোপার্নিকাসের তথ্য বলছে, গত তিন বছর ধরে মেরু অঞ্চলের বাইরে সমুদ্রের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ০.৩৫ থেকে ০.৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করে নেয় সমুদ্র।
সমুদ্রের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা এবং চলমান এল নিনোর প্রভাবে আগামী মাসগুলোতে আরও তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। কোপার্নিকাসের সতর্কতা, ‘আমরা অচেনা অঞ্চলে প্রবেশ করছি’। যেন আমাদের জন্য এক মহাবিপদের ইঙ্গিত।

আপনার মতামত লিখুন