সংবাদ

কার্যকর হলো নবম পে-স্কেল: বর্ধিত বেতন মিলবে গেজেট প্রকাশের পর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ এএম

কার্যকর হলো নবম পে-স্কেল: বর্ধিত বেতন মিলবে গেজেট প্রকাশের পর

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কার্যকর হলো বহু প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল। ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো চালু হলেও বাড়তি বেতন ঠিক কবে নাগাদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে, তা নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, গেজেট প্রকাশ এবং সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব সমন্বয়ের পরেই মিলবে এই বর্ধিত বেতন।

​এর আগে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

​সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একই বেতন কাঠামোর অধীনে থাকায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব।

​সর্বোচ্চ মূল বেতন: ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব।

​গ্রেড সংখ্যা: পূর্বের ২০টি গ্রেডই বহাল রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ​তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নে সব সুপারিশ হুবহু থাকবে কিনা, তা মূলত নির্ভর করছে সরকারের অনুমোদিত গেজেট ও চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থার কারিগরি জটিলতা এড়াতে মূল বেতন এক ধাপে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার সংশোধন পরবর্তী ধাপে কার্যকর হতে পারে।

নতুন এই বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতিমধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এই অর্থ দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৯ লাখ পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-পেনশন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে। বর্তমানে এই খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

নতুন পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় স্বস্তি আনলেও অর্থনীতিবিদরা এর আর্থিক প্রভাব নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। তাদের মতে, বেতন বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে ঠিকই, তবে বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা না গেলে বাড়তি চাহিদার কারণে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুতই গেজেট জারি করা হবে এবং এরপর বকেয়াসহ নতুন হারের বর্ধিত অর্থ কর্মচারীদের হাতে পৌঁছে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


কার্যকর হলো নবম পে-স্কেল: বর্ধিত বেতন মিলবে গেজেট প্রকাশের পর

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কার্যকর হলো বহু প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল। ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো চালু হলেও বাড়তি বেতন ঠিক কবে নাগাদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে, তা নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, গেজেট প্রকাশ এবং সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব সমন্বয়ের পরেই মিলবে এই বর্ধিত বেতন।

​এর আগে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

​সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একই বেতন কাঠামোর অধীনে থাকায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব।

​সর্বোচ্চ মূল বেতন: ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব।

​গ্রেড সংখ্যা: পূর্বের ২০টি গ্রেডই বহাল রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ​তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নে সব সুপারিশ হুবহু থাকবে কিনা, তা মূলত নির্ভর করছে সরকারের অনুমোদিত গেজেট ও চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থার কারিগরি জটিলতা এড়াতে মূল বেতন এক ধাপে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার সংশোধন পরবর্তী ধাপে কার্যকর হতে পারে।

নতুন এই বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতিমধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এই অর্থ দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৯ লাখ পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-পেনশন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে। বর্তমানে এই খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

নতুন পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় স্বস্তি আনলেও অর্থনীতিবিদরা এর আর্থিক প্রভাব নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। তাদের মতে, বেতন বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে ঠিকই, তবে বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা না গেলে বাড়তি চাহিদার কারণে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুতই গেজেট জারি করা হবে এবং এরপর বকেয়াসহ নতুন হারের বর্ধিত অর্থ কর্মচারীদের হাতে পৌঁছে যাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত