দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নিজস্ব স্টুডিও থিয়েটার নিয়ে ফিরছে দেশের অন্যতম নাট্যদল পালাকার। রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের তৃতীয় তলার ছাদে নির্মিত হয়েছে নতুন নাট্যাঙ্গন ‘পালাকার রুফটপ স্টুডিও’। আজ সন্ধ্যা ৭টায় নাট্যাঙ্গনটির উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। উদ্বোধনী আয়োজনে মঞ্চস্থ হবে পালাকারের নতুন প্রযোজনা ‘হাজার চুরাশি’।
ভারতের প্রখ্যাত
সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী-র কালজয়ী উপন্যাস ‘হাজার চুরাশির মা’ অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ
ও নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র শুভ। একটি সরকারি হাসপাতালের
মর্গে তার মৃতদেহ শনাক্ত করা হয় ১০৮৪ নম্বর ট্যাগে। সন্তানের লাশ শনাক্ত করতে এসে মা
রাহেলা বেগম মুখোমুখি হন এক নির্মম সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার। ক্ষমতার পালাবদল,
সুবিধাবাদ, প্রতিবাদ এবং মানবিক সংকটের গল্পই উঠে এসেছে এই নাটকে।
পালাকার সূত্রে
জানা গেছে, নতুন স্টুডিওতে প্রথম দফায় ২৬, ২৭ ও ২৮ জুন টানা তিন দিন নাটকটির প্রদর্শনী
অনুষ্ঠিত হবে। সীমিত আসনসংখ্যার কারণে উদ্বোধনী প্রদর্শনী শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের
জন্য সংরক্ষিত থাকলেও পরবর্তী দুই দিনের প্রদর্শনী সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
নাট্যদলটির দাবি, খোলা আকাশের নিচে লণ্ঠনের আলো, বিশেষ দেয়ালচিত্র এবং অন্তরঙ্গ পরিবেশে
গড়ে ওঠা ‘পালাকার রুফটপ স্টুডিও’ দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী নাট্য-অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ‘পালাকার স্টুডিও’-তে নিয়মিত নিরীক্ষাধর্মী নাটক
মঞ্চায়নের মাধ্যমে দলটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিল।
নাট্যকার ও নির্দেশক
শামীম সাগর বলেন, “‘হাজার চুরাশি’ শুধু একটি নাটক নয়; এটি অন্যায়, শোষণ ও সুবিধাবাদের
বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদের প্রতীক। মহাশ্বেতা দেবীর ‘হাজার চুরাশির মা’ সব সময়ই অন্যায়ের
বিরুদ্ধে এক জোরালো উচ্চারণ এবং মানবিকতার অনন্য দলিল। সেই অনুভূতি থেকেই এই নাট্যরূপ
নির্মিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এখানে লাশের কোনো নাম নেই, আছে শুধু একটি সংখ্যা হাজার
চুরাশি। একজন নাট্যকর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, থিয়েটারের কাজ শুধু সময়কে আয়নায় দেখানো
নয়; বরং সময়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্ষতগুলোকে স্পর্শ করা। এই প্রযোজনায় ক্ষমতার পালাবদলের
পাশাপাশি তথাকথিত সুশীল সমাজের ভণ্ডামি ও সুবিধাবাদকেও নাট্যভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা
করেছি।” নাট্যপ্রেমীদের কাছে ‘হাজার চুরাশি’
হতে পারে সমকালীন সমাজ-বাস্তবতা ও মানবিক প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার এক গভীর নাট্য-অভিজ্ঞতা।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নিজস্ব স্টুডিও থিয়েটার নিয়ে ফিরছে দেশের অন্যতম নাট্যদল পালাকার। রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের তৃতীয় তলার ছাদে নির্মিত হয়েছে নতুন নাট্যাঙ্গন ‘পালাকার রুফটপ স্টুডিও’। আজ সন্ধ্যা ৭টায় নাট্যাঙ্গনটির উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। উদ্বোধনী আয়োজনে মঞ্চস্থ হবে পালাকারের নতুন প্রযোজনা ‘হাজার চুরাশি’।
ভারতের প্রখ্যাত
সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী-র কালজয়ী উপন্যাস ‘হাজার চুরাশির মা’ অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ
ও নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র শুভ। একটি সরকারি হাসপাতালের
মর্গে তার মৃতদেহ শনাক্ত করা হয় ১০৮৪ নম্বর ট্যাগে। সন্তানের লাশ শনাক্ত করতে এসে মা
রাহেলা বেগম মুখোমুখি হন এক নির্মম সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার। ক্ষমতার পালাবদল,
সুবিধাবাদ, প্রতিবাদ এবং মানবিক সংকটের গল্পই উঠে এসেছে এই নাটকে।
পালাকার সূত্রে
জানা গেছে, নতুন স্টুডিওতে প্রথম দফায় ২৬, ২৭ ও ২৮ জুন টানা তিন দিন নাটকটির প্রদর্শনী
অনুষ্ঠিত হবে। সীমিত আসনসংখ্যার কারণে উদ্বোধনী প্রদর্শনী শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের
জন্য সংরক্ষিত থাকলেও পরবর্তী দুই দিনের প্রদর্শনী সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
নাট্যদলটির দাবি, খোলা আকাশের নিচে লণ্ঠনের আলো, বিশেষ দেয়ালচিত্র এবং অন্তরঙ্গ পরিবেশে
গড়ে ওঠা ‘পালাকার রুফটপ স্টুডিও’ দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী নাট্য-অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ‘পালাকার স্টুডিও’-তে নিয়মিত নিরীক্ষাধর্মী নাটক
মঞ্চায়নের মাধ্যমে দলটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিল।
নাট্যকার ও নির্দেশক
শামীম সাগর বলেন, “‘হাজার চুরাশি’ শুধু একটি নাটক নয়; এটি অন্যায়, শোষণ ও সুবিধাবাদের
বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদের প্রতীক। মহাশ্বেতা দেবীর ‘হাজার চুরাশির মা’ সব সময়ই অন্যায়ের
বিরুদ্ধে এক জোরালো উচ্চারণ এবং মানবিকতার অনন্য দলিল। সেই অনুভূতি থেকেই এই নাট্যরূপ
নির্মিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এখানে লাশের কোনো নাম নেই, আছে শুধু একটি সংখ্যা হাজার
চুরাশি। একজন নাট্যকর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, থিয়েটারের কাজ শুধু সময়কে আয়নায় দেখানো
নয়; বরং সময়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্ষতগুলোকে স্পর্শ করা। এই প্রযোজনায় ক্ষমতার পালাবদলের
পাশাপাশি তথাকথিত সুশীল সমাজের ভণ্ডামি ও সুবিধাবাদকেও নাট্যভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা
করেছি।” নাট্যপ্রেমীদের কাছে ‘হাজার চুরাশি’
হতে পারে সমকালীন সমাজ-বাস্তবতা ও মানবিক প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার এক গভীর নাট্য-অভিজ্ঞতা।

আপনার মতামত লিখুন