সংবাদ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিপ্লব ঘটালো আদানি গ্রিন


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিপ্লব ঘটালো আদানি গ্রিন
ছবি: সংগৃহীত

নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড (এজিইএল)। ভারতের জ্বালানি খাতে মাইলফলক অর্জনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি প্রথম প্রকল্প চালুর এক দশকের মধ্যেই এ সক্ষমতায় পৌঁছেছে। 

বুধবার (৩০ জুন) ঢাকায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদানি জানায়, প্রায় ৯০ লাখ পরিবারে বিদ্যুৎ যোগান দেওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রতি বছর ৫২ বিলিয়নেরও বেশি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে যা ভারতের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় তিন শতাংশ। 

এজিইএলের নির্বাহী পরিচালক সাগর আদানি বলেন, “আজ আমরা মুম্বাই ও নয়াদিল্লির সম্মিলিত বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় সমপরিমাণ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ক্লিন  এনার্জি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫২ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ দিয়ে টানা এক বছর নিউইয়র্ক শহরের চাহিদা মেটানো সম্ভব, অথবা মুম্বাই ও নয়াদিল্লির সম্মিলিত বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় পুরোটাই পূরণ করা যায়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, এই উৎপাদন ক্ষমতা ভারতের ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনার প্রায় ১৪ শতাংশ এবং সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ মিলিয়ে মোট ক্ষমতার প্রায় ১২ শতাংশ। এজিইএলের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ এবং ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট হাইব্রিড বিদ্যুৎ। 

শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই কোম্পানিটি নতুন করে পাঁচ হাজার ৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা চীনের বাইরে প্রথম কোম্পানি হিসেবে এক বছরে সর্বোচ্চ সংযোজন। ২০১৬ সালে তামিলনাড়ু রাজ্যের কামুথিতে ৬৪৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর প্রকল্প দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় বিশ্বের বৃহত্তম একক-স্থানের সৌর প্রকল্প ছিল এটি।

ব্যাটারি স্টোরেজ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তি। গুজরাটের খাভডায় ইতিমধ্যে তিন হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) স্থাপন করা হয়েছে।  চীনের বাইরে এটি সবচেয়ে বড় স্থাপনা। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ১০ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা যোগ করার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে মোট সক্ষমতা ৫০ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

খাভডাতেই গড়ে উঠছে বিশ্বের বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেন্দ্র। প্রায় ৫৩৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই কেন্দ্রটির আয়তন প্যারিস শহরের প্রায় পাঁচগুণ। প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্র থেকে নয় হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ইতিমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ভারতের ১২টি রাজ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এজিইএল। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিপ্লব ঘটালো আদানি গ্রিন

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড (এজিইএল)। ভারতের জ্বালানি খাতে মাইলফলক অর্জনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি প্রথম প্রকল্প চালুর এক দশকের মধ্যেই এ সক্ষমতায় পৌঁছেছে। 

বুধবার (৩০ জুন) ঢাকায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদানি জানায়, প্রায় ৯০ লাখ পরিবারে বিদ্যুৎ যোগান দেওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রতি বছর ৫২ বিলিয়নেরও বেশি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে যা ভারতের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় তিন শতাংশ। 

এজিইএলের নির্বাহী পরিচালক সাগর আদানি বলেন, “আজ আমরা মুম্বাই ও নয়াদিল্লির সম্মিলিত বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় সমপরিমাণ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ক্লিন  এনার্জি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫২ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ দিয়ে টানা এক বছর নিউইয়র্ক শহরের চাহিদা মেটানো সম্ভব, অথবা মুম্বাই ও নয়াদিল্লির সম্মিলিত বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় পুরোটাই পূরণ করা যায়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, এই উৎপাদন ক্ষমতা ভারতের ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনার প্রায় ১৪ শতাংশ এবং সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ মিলিয়ে মোট ক্ষমতার প্রায় ১২ শতাংশ। এজিইএলের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ এবং ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট হাইব্রিড বিদ্যুৎ। 

শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই কোম্পানিটি নতুন করে পাঁচ হাজার ৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা চীনের বাইরে প্রথম কোম্পানি হিসেবে এক বছরে সর্বোচ্চ সংযোজন। ২০১৬ সালে তামিলনাড়ু রাজ্যের কামুথিতে ৬৪৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর প্রকল্প দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় বিশ্বের বৃহত্তম একক-স্থানের সৌর প্রকল্প ছিল এটি।

ব্যাটারি স্টোরেজ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তি। গুজরাটের খাভডায় ইতিমধ্যে তিন হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) স্থাপন করা হয়েছে।  চীনের বাইরে এটি সবচেয়ে বড় স্থাপনা। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ১০ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা যোগ করার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে মোট সক্ষমতা ৫০ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

খাভডাতেই গড়ে উঠছে বিশ্বের বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেন্দ্র। প্রায় ৫৩৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই কেন্দ্রটির আয়তন প্যারিস শহরের প্রায় পাঁচগুণ। প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্র থেকে নয় হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ইতিমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ভারতের ১২টি রাজ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এজিইএল। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত