সংবাদ

কবিতায় বরষা-বন্দনা

মুশাররাত-এর বৃষ্টির কবিতা


প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

মুশাররাত-এর বৃষ্টির কবিতা

বৃষ্টিবিরহ

কুয়ালালামপুর

হঠাৎ বৃষ্টিতে কাঁদলো দুপুর

অস্হির অম্বরে আরও মেঘের আয়োজন

বৃষ্টির সাথে চুপ চুপি ভেজে বিষাদ প্রেমিক মন

 

বেঁচে থাকতে এই জীবনে

আর কী প্রয়োজন

বৃষ্টি ভেজা দুপুর

সাথে তোমার টেলিফোন

 

 

বৃষ্টি অকস্মাৎ

আজকাল হুটহাট করেই বৃষ্টি নামে

দুষ্টু কিশোরীর মতো

রিমঝিম সুরে মাতিয়ে রাখে

কিছুক্ষণ

যেন অনেক আগে একটু দেখা

অনেক ভালো লাগার সেই মুখ

মনে হলেই সুখের মতো

ব্যথায় ভরে বুক

 

 

বৃষ্টিসন্ত্রাস

একদিন ভোরবেলাতেই কান্না শুরু হলো বাতাসের

সকাল দেখা পেলো না রোদের

মেঘেদের কনফারেন্স

আকাশের পুরো ভেন্যু বুক করা হলো

 

নগরের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মতো

হানা দিলো বৃষ্টিবিশাল কামানের গোলায়

আগুন ঝরালো বজ্রপাত

আর মানুষগুলো নির্বিকার চিত্তে  নীল ব্যথা

সয়ে গেলো কারন বেঁচে থাকার জন্য এছাড়া

কোন উপায় ছিলো না

ক্রমশ ব্যথারাও ব্যর্থ হয়ে গেলো

আর সোনালি গমক্ষেতের মতো হেসে উঠে

সারা দিনের পরে দেখা গেলো সূর্যের মুখ

 

সেদিন  ভোরবেলা থেকেই  বৃষ্টিরাও কেঁদেছিলো

 

 

তুমি আসবে বলে

সেবার আমাদের অলিগলি বৃষ্টির পানিতে

টইটম্বুর হয়ে গেলো যখন

আমি তােমাকে কাগজের নৌকা বানিয়ে দিলাম দু'টো

তুমি  সাদা কাগজের নৌকোটা পানিতে ভিজিয়ে

নিশ্চিহ্ন করে দিলে নিতান্তই শিশুতোষ কৌতুহলে

নীল রঙেরটা  ভাসিয়ে দিয়ে  বললে

আমার দুঃখগুলো দূরে নিয়ে যাবে

 

সেই থেকে আজও বসে আছি আমি

তোমার সবটুকু দুঃখ মিলিয়ে যাবার স্বপ্নে বিভোর হয়ে

সদ্য ফোঁটা জুঁইফুলের মতো সুখ নিয়ে তুমি আসলে

ধান দুবলায় সাজাবো বলে

 

কত বর্ষা পার হয়ে গেলো

টিনের চালের এস্রাজের মিশেলে

বৃষ্টির গান শোনাতে শোনাতে

আর আমি মাটির সানকীতে  আজও ধরে রাখি

প্রতিটি বর্ষার ব্যাকুল সে জলধারা

 

 

অমীমাংসিত বৃষ্টিতে

আপনাকে প্রায়ই তীব্রভাবে মনে পড়ে

এভাবে মনে পড়ার মতো সুপ্ত কিছু নেই আমাদের

গুপ্ত কিছু কল্পনাতেই অদৃশ্য হয়েছিলো

আমাদের ভাবনার শহর

 

আপনি আমার কাছে তেমন কিছু রেখে যাননি

মাত্র তিন কি চারটা হীরের স্ফটিকের মতো মুহূর্ত

আর কিছুটা তাকিয়ে থাকা অগোচরে

আপনার ঠোঁটের কোনের হাসিটাও প্রায়ই

জ্বলজ্বল করে ওঠে নকশা করা

পুরানো টিনের বাক্সের মতো

আমি সেটাই মাঝে মাঝে খুলে দেখি

ভেতরে তেমন কিছু নেই, তবুও কী সুন্দর ঘ্রাণ

একটা মাত্র আতরের শিশি তাও প্রায় খালি

 

আমাদের অনেক দূর হাঁটার কথা ছিলো

প্রচন্ড রৌদ্রময়ী  দুপুরে

পুঁ ঝিক ঝিক রাতের ট্রেনে উত্তর সীমান্ত

স্টেশনে নামার কথা ছিলো,

সামনের  শীতকালে

 

আপনার কাছে আমারও পৌঁছানো হয়নি 

তবুও মনে হয় আমরা একই গাছের পাতা আর বাকল ছিলাম

ফুল ফোটানোর কথা ছিলো হয়তো

হয়তো না

এখন রাত ভরে নিদ্রার কোলে থাকি

তবুও মনে হয় নির্ঘুম জেগে আছি

 আপনার সাথে কথা বলতে থাকি ঘুমের ঘোরে

মনে হয়, সব কিছু ভেঙে চূড়ে চীৎকার করে  উঠি

মেঘেদের ঔরসে আকাশ গর্ভবতী

আপনি বলবেন, চলো বৃষ্টিতে ভিজি।  


বৃষ্টিমগ্ন জিজ্ঞাসা

তারপর,

ধরো, বৃষ্টি হলো

বৃষ্টি হলো ঝুম;

কাঁদলো আকাশ প্রতীক্ষাতে

তুমি তখন তোমার পাশে চাইবে কাকে

অশ্রু বা জল মুছিয়ে দিতে

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


মুশাররাত-এর বৃষ্টির কবিতা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

বৃষ্টিবিরহ

কুয়ালালামপুর

হঠাৎ বৃষ্টিতে কাঁদলো দুপুর

অস্হির অম্বরে আরও মেঘের আয়োজন

বৃষ্টির সাথে চুপ চুপি ভেজে বিষাদ প্রেমিক মন

 

বেঁচে থাকতে এই জীবনে

আর কী প্রয়োজন

বৃষ্টি ভেজা দুপুর

সাথে তোমার টেলিফোন

 

 

বৃষ্টি অকস্মাৎ

আজকাল হুটহাট করেই বৃষ্টি নামে

দুষ্টু কিশোরীর মতো

রিমঝিম সুরে মাতিয়ে রাখে

কিছুক্ষণ

যেন অনেক আগে একটু দেখা

অনেক ভালো লাগার সেই মুখ

মনে হলেই সুখের মতো

ব্যথায় ভরে বুক

 

 

বৃষ্টিসন্ত্রাস

একদিন ভোরবেলাতেই কান্না শুরু হলো বাতাসের

সকাল দেখা পেলো না রোদের

মেঘেদের কনফারেন্স

আকাশের পুরো ভেন্যু বুক করা হলো

 

নগরের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মতো

হানা দিলো বৃষ্টিবিশাল কামানের গোলায়

আগুন ঝরালো বজ্রপাত

আর মানুষগুলো নির্বিকার চিত্তে  নীল ব্যথা

সয়ে গেলো কারন বেঁচে থাকার জন্য এছাড়া

কোন উপায় ছিলো না

ক্রমশ ব্যথারাও ব্যর্থ হয়ে গেলো

আর সোনালি গমক্ষেতের মতো হেসে উঠে

সারা দিনের পরে দেখা গেলো সূর্যের মুখ

 

সেদিন  ভোরবেলা থেকেই  বৃষ্টিরাও কেঁদেছিলো

 

 

তুমি আসবে বলে

সেবার আমাদের অলিগলি বৃষ্টির পানিতে

টইটম্বুর হয়ে গেলো যখন

আমি তােমাকে কাগজের নৌকা বানিয়ে দিলাম দু'টো

তুমি  সাদা কাগজের নৌকোটা পানিতে ভিজিয়ে

নিশ্চিহ্ন করে দিলে নিতান্তই শিশুতোষ কৌতুহলে

নীল রঙেরটা  ভাসিয়ে দিয়ে  বললে

আমার দুঃখগুলো দূরে নিয়ে যাবে

 

সেই থেকে আজও বসে আছি আমি

তোমার সবটুকু দুঃখ মিলিয়ে যাবার স্বপ্নে বিভোর হয়ে

সদ্য ফোঁটা জুঁইফুলের মতো সুখ নিয়ে তুমি আসলে

ধান দুবলায় সাজাবো বলে

 

কত বর্ষা পার হয়ে গেলো

টিনের চালের এস্রাজের মিশেলে

বৃষ্টির গান শোনাতে শোনাতে

আর আমি মাটির সানকীতে  আজও ধরে রাখি

প্রতিটি বর্ষার ব্যাকুল সে জলধারা

 

 

অমীমাংসিত বৃষ্টিতে

আপনাকে প্রায়ই তীব্রভাবে মনে পড়ে

এভাবে মনে পড়ার মতো সুপ্ত কিছু নেই আমাদের

গুপ্ত কিছু কল্পনাতেই অদৃশ্য হয়েছিলো

আমাদের ভাবনার শহর

 

আপনি আমার কাছে তেমন কিছু রেখে যাননি

মাত্র তিন কি চারটা হীরের স্ফটিকের মতো মুহূর্ত

আর কিছুটা তাকিয়ে থাকা অগোচরে

আপনার ঠোঁটের কোনের হাসিটাও প্রায়ই

জ্বলজ্বল করে ওঠে নকশা করা

পুরানো টিনের বাক্সের মতো

আমি সেটাই মাঝে মাঝে খুলে দেখি

ভেতরে তেমন কিছু নেই, তবুও কী সুন্দর ঘ্রাণ

একটা মাত্র আতরের শিশি তাও প্রায় খালি

 

আমাদের অনেক দূর হাঁটার কথা ছিলো

প্রচন্ড রৌদ্রময়ী  দুপুরে

পুঁ ঝিক ঝিক রাতের ট্রেনে উত্তর সীমান্ত

স্টেশনে নামার কথা ছিলো,

সামনের  শীতকালে

 

আপনার কাছে আমারও পৌঁছানো হয়নি 

তবুও মনে হয় আমরা একই গাছের পাতা আর বাকল ছিলাম

ফুল ফোটানোর কথা ছিলো হয়তো

হয়তো না

এখন রাত ভরে নিদ্রার কোলে থাকি

তবুও মনে হয় নির্ঘুম জেগে আছি

 আপনার সাথে কথা বলতে থাকি ঘুমের ঘোরে

মনে হয়, সব কিছু ভেঙে চূড়ে চীৎকার করে  উঠি

মেঘেদের ঔরসে আকাশ গর্ভবতী

আপনি বলবেন, চলো বৃষ্টিতে ভিজি।  


বৃষ্টিমগ্ন জিজ্ঞাসা

তারপর,

ধরো, বৃষ্টি হলো

বৃষ্টি হলো ঝুম;

কাঁদলো আকাশ প্রতীক্ষাতে

তুমি তখন তোমার পাশে চাইবে কাকে

অশ্রু বা জল মুছিয়ে দিতে


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত