অবরুদ্ধ সময়ে
হঠাৎ
নাসির আহমেদ
চারদিকে
অবরুদ্ধ অন্ধকারময়
বিপন্ন
সময়| সে-মুহূর্তে শুধু
তুমি
উন্মুক্ত
জানালা— হুহু বেগে ভেসে
যায়
মুক্তির
শীতল হাওয়া— স্মৃতি-সুসমায়!
নিষিদ্ধ
যখন আত্মপরিচয় আর
গৌরবের
সমস্ত সঞ্চয়— তখন হঠাৎ
কে তুমি সাহসী! পিতৃনাম
ধরে ডাক দিলে?
উল্লসিত
সবুজ ডালপালাসহ সমস্ত উদ্যান!
মনুষ্য
রচিত এই অন্ধকারে অনিশ্চিত
আলো-প্রতীক্ষায়
যখন
নিয়তি প্রায় লোডশেডিংয়ের অভিশাপ—
তখন
দিনের সূর্যহীন দিগন্তের বুকে তুমি
লক্ষ
লক্ষ তারার উৎসব যেন প্রতিবাদী
আলো!
তোমার
গৌরবে আজ প্রকৃতিও আলো
জ্বেলে দিয়ে
প্রমাণ
করেছে
মুক্তির
ক্ষমতা কত! অন্ধকার আলোর
অধিক শক্তি নয়|
সর্বভুক তোমার
বিস্তারে
হাসান হাফিজ
আগুন
কি অন্যকে পোড়ায় শুধু?
নিজেও
তো পোড়ে
দাউদাউ
শিখা হয়ে ওড়ে
এই যজ্ঞ দৃশ্যমান
সকলের
দৃষ্টির গোচরে
অগ্নিজিভ
যাকে ছোঁয়
জাগতিক
বস্তু সমুদয়
পুড়ে
পুড়ে অনিবার্য পরিণতি
পূরণ
হওয়ার নয় এমনই সে
ক্ষতি
প্রলয়
বিলুপ্তি শুদ্ধ লয়|
মন পুড়ছে অহর্নিশ
কে বা দেখে আছে
কি গরজ
গ্রাহ্যের
বালাই নাই
নিঃশব্দে
সে পুড়ে ছাই
আহা
মন আহা প্রেম
তোমরা কি এ রকমই অম্লমধু বিষ?
সাজ
মঈনউদ্দিন মুনশী
প্রস্তর,
মনুষ্য-দিন শেষে তাতেই পরিণত|
স্মৃতি,
স্মৃতি
থেকে স্মৃতিতে বিস্তৃত|
অশ্ব,
ভুলে
যায় গাড়ির ওজন যখন বন্ধন
মুক্ত|
অমীমাংসিত
সোহরাব পাশা
বিদ্বেষের
আগুনে পোড়ে
ভালোবাসার
অক্ষর
শুধু
রাত্রিই লিখে রাখে— ঘৃণ্য
ব্যাধি
দহন-ক্ষরণ,
মেঘ
ওড়ে
পাতা
ওড়ে
অশ্রু
ঝরে
বাড়ে
দুঃসহ ঋণের ভার;
জল ওড়ে
ধূলি
ওড়ে
নদী
ওড়ে
মানুষের
প্রিয় ছায়া ওড়ে
উড়ে
যায় ভালোবাসার সংসার,
মানুষেরই
থাকে শুধু অমীমাংসিত
দীর্ঘ
বেদনা— স্মৃতির গুঞ্জন
প্রতিশ্রুতি
না-রাখার প্রতিশ্রুতি|
আহা মানবাধিকার
বিশ্বজিৎ ঘোষ
সাগরের
এই তীরে পূর্ব-পৃথিবীতে
টিনের
চালে শ্রাবণের জলতরঙ্গ
ঈগল
উড়ে এসে ধ্বস্ত করে
পারসিক স্নিগ্ধতা|
সাগরের
ওই তীরে শান্তির আষাঢ়পাত
কত বাণী কত সভা
কত মায়াবী আকাশ|
এই তীরে আইলান শুয়ে
থাকে এজিয়ান পালঙ্কে
পাতালে
বিলীন হয় জাবালিয়ার হাসপাতাল
সাদি-রুমি-গালিবের ঘুম
ভাঙে টমাহক হামলায়
ফোরাতের
জলে মেশে কত অশ্রু
কত রক্ত কত না
বিশ^াস|
দেশে
দেশে কত হাসি কত
গান কত আয়োজন
কত না অফুরান আনন্দ-লহরি
আহা
মানবিক পশ্চিম-পৃথিবী!
আহা!
আহা
মানবাধিকার!
আহা
ঈগলীয় মানবিক সভ্যতা!
বৈঠা
স্বপঞ্জয় চৌধুরী
পিঠে
বৈঠা চাপিয়ে হাঁটছি নিরুদ্দেশ,
নৌকো
নেই, নদী নেই
উইপোকায়
খাওয়া বিদ্যে কাগজ
উড়ছে
ধানপিরানের উঠোনে
মাঝখানে
বেহুঁশ আতলামি আক্রান্ত স্বপ্নগুলো
ক্রমাগত
গোঁত্তা খাচ্ছে অতীত
ও গুড়গুড় ডাকা আকাশে|
বুকে
ভাদর ডাকে
পৌষালি
রাতের রতিযজ্ঞ চেপে
বৈঠা
চাপিয়ে চলছি,
কানে
বাজে ছলাৎ ছলাৎ ধ্বনি
এই সীমাহীন পদক্ষেপ শেষে
দিগন্ত
থেকে ভেসে আসে নদীর
হাসফাঁস|
মাইনসেরই ভুল
হয়
হাদিউল ইসলাম
না হয় আমি একলাই
পার করমু রাইত
তরে
তবু কই, সুখি হ
সোনা সোয়ামির বাইত
মাইনসেরই
ভুল হয়, শোদরায়ে ঘর
আলো কর
না হয় আমার জীবন
যৌবনেরে ভেঙাল জবর
আমার
¯^পন থাইকি আরো ভালা থাক
পথের
ঘাস আর দুইধারে গাছের
ছায়াক
ভাইবি
দেহিস, তার মইধ্যে আমাক
যদি পাস
আঁচলে
ঢাহিস মুখ চৌদিকে কত
যে তরাস
সুখি
হ টিয়া পাহি, নক্ষ্ণী
আমার ওরে
আমারে
খুঁজিসনে তুই সোয়ামির গতরে
দোয়াতের
নিচে আমি পইড়ি থাহা
ছেমা একফালি
ঘর ভরা পুলাপান, হাসি
একখান দে না চাম্পাকলি
ছুঁয়ে গেছ
মুমির সরকার
বিরহ,
আমাকে
এতটুকুন ছুঁয়ে দেখেনি;
“মোহমুগ্ধ
নেশাগ্রস্তে—
যতোটুকুন
ছুঁয়ে গেছ তুমি!”
ছিমছাম
ক্ষণজন্মা ঘরখানা
নেহাত আজ
প্রাণহীন,
অথচ
সূর্যতাপ এবং হাওয়ারা
গোপন
কুঠুরিতে ঢুকে দেখতে
কী ভীষণ উদগ্রীব—
গভীর-এর-সংহার!
অহেতুক
অপবাদ সরে যেতে দেখা,
পরস্পর
অনুযোগ-তীর-বেঁধা-বুকে
আঘাত
কিংবা প্রতিঘাত শুষে-শুষে
শৌখিন
তৈজসপত্রগুলো
নিয়মিত
ধুলাবালি-জালে—
এখনও
কতো না অম্লান!
এ যেনবা সিঁথির চুলে ঢাকা নারী,
বিরহ-বাঁধা কালো দু’চোখে—
ছুঁয়ে
গেছে আরেক অজড় বিস্ময়|
দহনরাগ
রফিকুল ইসলাম আধার
ভাঙা
এ মহাকালের অলস তরণি
এই নোনাজল স্মৃতির উৎসব,
সে তো এক অন্তহীন
চোরাবালি,
না হয় কোনো অলীক
কুয়াশা—
বিবশ
দহনে টানে অসীম অতলে;
কিংবা
সে তো কেবলই এক
নীরব চিল—
ঠোকরায়
একাকী বুকের পাঁজরে|
তবু
কেন বারবার অলিন্দে এসে কড়া নাড়ে,
চেনা
রাগে ভাঙা তারে ভেসে
আসে সেই আদিম রাগিণী?
অবাধ্য
হৃদয় কেন তবে আজও
সে একমুখী যাযাবর?
কেন
ক্ষণে ক্ষণে শূন্যতাকেই ছুঁতে চায়?
কেনইবা
বিষাদের করাতকে ভালোবাসে?
মুকপ্রায়
বিবাগীর অবাধ্য প্রশ্নও শেষাবধি নিরুত্তর—
এক একটি নীরবতার নিঃসঙ্গ
দহন|
বাতিলসম্ভবা
বিনয় বর্মন
খুব
শীঘ্র বাতিল হবে
এই দেহ এই মন
প্রোগ্রামিং
হয়ে আছে শুরু থেকেই
এখন
শুধু সময়ের অপেক্ষা
ছায়াফুল
ফুটেছিল রোদবৃক্ষে
শুকাতে
শুকাতে এখন এতটুকু
প্রেম
ছিল ঘাসের ডগায় হীরকশিশিরে
এখন
তা জাঙ্কবক্সে
সকল
কিছুই বাতিল হবে
এই সৌরজগৎ এই গ্যালাক্সি
বাতিলসম্ভবা
এই
রাজনীতি
ক্ষমতার দম্ভ
মবসন্ত্রাস
জুলাই রক্তময়
অমোঘ
কালের বিচার, কখনো বাতিল হয়?
ব্যর্থ অনুবাদক
শেলী সেনগুপ্তা
কিছু
ভাষা কারো নিজস্ব,
অনুবাদে
ব্যর্থ আমি
অপেক্ষার
অনুবাদকর্মে
কেটে
গেল
গ্রীষ্মকাল,
এগিয়ে
আসছে আষাঢ় মাস
বৃষ্টি
অনুবাদের কাঙ্ক্ষায়
দৃষ্টি
রেখেছি আকাশমুখি
সময়ের
ক্ষীপ্র ঘোড়ায়
যদি
আসে কদম ফুল!
ভুলে
যাবো, একদম ভুলে যাবো
হৃদয়
ভাঙার নিঃশব্দ শোক...
পুষ্পবতী কুঞ্জবন
শাখাওয়াত তানভীর
ফুল
চাইলে—
কাকে
যেন দিতেই হবে!
জানালাম—
সেই
কবে দখল হয়ে গ্যাছে
পোয়াতি কুঞ্জবন;
মালিক
নই, আমি এখন অসাধারণ
মালী
অধিকার
নেই আমার ফুল ছেঁড়ার!
আচ্ছা
দেখছি— বলেই
কুয়াশা
ভেদ করে তুমি এলে,
এবং
দখলিদার
মধুপ মুক্ত করতে গিয়ে
আগুন
ধরিয়ে দিলে...
অবিহিত
দখল মুক্ত হয়েছে যদিও
পুড়ে
ছাই হলো— আমার পুষ্পবতী
কুঞ্জবন!
আমি
বাগান ফেরত চাইলাম
দেখি—
পুড়ছে সবুজ, তুমি কোথাও নাই!
ঘন শ্যাওলার ভূত
আলমগীর কবীর আলম
ঘন শ্যাওলার জলের গভীরে আটকে
যায় চোখ
তাই
ভয়ে পুকুরের জলে নামো না|
স্বচ্ছ
স্ফটিক জলের মগজ ঘরে
আসো তুমি
কিন্তু
সেখানেও কি ভূত থাকে
না?
ডাকাতের পাখি
মোস্তাফিজুল হক
ছদ্মবেশী
সাদা কবুতর,
দ্বিখণ্ডিত
করে দিয়ে গেল আমাদের
ঘর|
আদতে
পালক ছিল তার বাঁকা
তলোয়ার,
শান্তির
খোলসে ঢাকা ছিল বেহিসাবি
ধার!
কবুতর
ফাঁদে পড়ে-- এ-ও ভুল
হয়ে গেল;
পাকা
ফসলের মাঠে নোনাজল বয়ে
গেল!
দাসখত
দিয়ে রুটি খাব--
এর ব্যতিক্রম হলে সমূলে হারিয়ে
যাব!
বাকুম
বাকুম ¯^রে দিয়ে গেল
ফাঁকি,
ঘরের
কোণে জন্মানো ডাকাতের পাখি|

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
অবরুদ্ধ সময়ে
হঠাৎ
নাসির আহমেদ
চারদিকে
অবরুদ্ধ অন্ধকারময়
বিপন্ন
সময়| সে-মুহূর্তে শুধু
তুমি
উন্মুক্ত
জানালা— হুহু বেগে ভেসে
যায়
মুক্তির
শীতল হাওয়া— স্মৃতি-সুসমায়!
নিষিদ্ধ
যখন আত্মপরিচয় আর
গৌরবের
সমস্ত সঞ্চয়— তখন হঠাৎ
কে তুমি সাহসী! পিতৃনাম
ধরে ডাক দিলে?
উল্লসিত
সবুজ ডালপালাসহ সমস্ত উদ্যান!
মনুষ্য
রচিত এই অন্ধকারে অনিশ্চিত
আলো-প্রতীক্ষায়
যখন
নিয়তি প্রায় লোডশেডিংয়ের অভিশাপ—
তখন
দিনের সূর্যহীন দিগন্তের বুকে তুমি
লক্ষ
লক্ষ তারার উৎসব যেন প্রতিবাদী
আলো!
তোমার
গৌরবে আজ প্রকৃতিও আলো
জ্বেলে দিয়ে
প্রমাণ
করেছে
মুক্তির
ক্ষমতা কত! অন্ধকার আলোর
অধিক শক্তি নয়|
সর্বভুক তোমার
বিস্তারে
হাসান হাফিজ
আগুন
কি অন্যকে পোড়ায় শুধু?
নিজেও
তো পোড়ে
দাউদাউ
শিখা হয়ে ওড়ে
এই যজ্ঞ দৃশ্যমান
সকলের
দৃষ্টির গোচরে
অগ্নিজিভ
যাকে ছোঁয়
জাগতিক
বস্তু সমুদয়
পুড়ে
পুড়ে অনিবার্য পরিণতি
পূরণ
হওয়ার নয় এমনই সে
ক্ষতি
প্রলয়
বিলুপ্তি শুদ্ধ লয়|
মন পুড়ছে অহর্নিশ
কে বা দেখে আছে
কি গরজ
গ্রাহ্যের
বালাই নাই
নিঃশব্দে
সে পুড়ে ছাই
আহা
মন আহা প্রেম
তোমরা কি এ রকমই অম্লমধু বিষ?
সাজ
মঈনউদ্দিন মুনশী
প্রস্তর,
মনুষ্য-দিন শেষে তাতেই পরিণত|
স্মৃতি,
স্মৃতি
থেকে স্মৃতিতে বিস্তৃত|
অশ্ব,
ভুলে
যায় গাড়ির ওজন যখন বন্ধন
মুক্ত|
অমীমাংসিত
সোহরাব পাশা
বিদ্বেষের
আগুনে পোড়ে
ভালোবাসার
অক্ষর
শুধু
রাত্রিই লিখে রাখে— ঘৃণ্য
ব্যাধি
দহন-ক্ষরণ,
মেঘ
ওড়ে
পাতা
ওড়ে
অশ্রু
ঝরে
বাড়ে
দুঃসহ ঋণের ভার;
জল ওড়ে
ধূলি
ওড়ে
নদী
ওড়ে
মানুষের
প্রিয় ছায়া ওড়ে
উড়ে
যায় ভালোবাসার সংসার,
মানুষেরই
থাকে শুধু অমীমাংসিত
দীর্ঘ
বেদনা— স্মৃতির গুঞ্জন
প্রতিশ্রুতি
না-রাখার প্রতিশ্রুতি|
আহা মানবাধিকার
বিশ্বজিৎ ঘোষ
সাগরের
এই তীরে পূর্ব-পৃথিবীতে
টিনের
চালে শ্রাবণের জলতরঙ্গ
ঈগল
উড়ে এসে ধ্বস্ত করে
পারসিক স্নিগ্ধতা|
সাগরের
ওই তীরে শান্তির আষাঢ়পাত
কত বাণী কত সভা
কত মায়াবী আকাশ|
এই তীরে আইলান শুয়ে
থাকে এজিয়ান পালঙ্কে
পাতালে
বিলীন হয় জাবালিয়ার হাসপাতাল
সাদি-রুমি-গালিবের ঘুম
ভাঙে টমাহক হামলায়
ফোরাতের
জলে মেশে কত অশ্রু
কত রক্ত কত না
বিশ^াস|
দেশে
দেশে কত হাসি কত
গান কত আয়োজন
কত না অফুরান আনন্দ-লহরি
আহা
মানবিক পশ্চিম-পৃথিবী!
আহা!
আহা
মানবাধিকার!
আহা
ঈগলীয় মানবিক সভ্যতা!
বৈঠা
স্বপঞ্জয় চৌধুরী
পিঠে
বৈঠা চাপিয়ে হাঁটছি নিরুদ্দেশ,
নৌকো
নেই, নদী নেই
উইপোকায়
খাওয়া বিদ্যে কাগজ
উড়ছে
ধানপিরানের উঠোনে
মাঝখানে
বেহুঁশ আতলামি আক্রান্ত স্বপ্নগুলো
ক্রমাগত
গোঁত্তা খাচ্ছে অতীত
ও গুড়গুড় ডাকা আকাশে|
বুকে
ভাদর ডাকে
পৌষালি
রাতের রতিযজ্ঞ চেপে
বৈঠা
চাপিয়ে চলছি,
কানে
বাজে ছলাৎ ছলাৎ ধ্বনি
এই সীমাহীন পদক্ষেপ শেষে
দিগন্ত
থেকে ভেসে আসে নদীর
হাসফাঁস|
মাইনসেরই ভুল
হয়
হাদিউল ইসলাম
না হয় আমি একলাই
পার করমু রাইত
তরে
তবু কই, সুখি হ
সোনা সোয়ামির বাইত
মাইনসেরই
ভুল হয়, শোদরায়ে ঘর
আলো কর
না হয় আমার জীবন
যৌবনেরে ভেঙাল জবর
আমার
¯^পন থাইকি আরো ভালা থাক
পথের
ঘাস আর দুইধারে গাছের
ছায়াক
ভাইবি
দেহিস, তার মইধ্যে আমাক
যদি পাস
আঁচলে
ঢাহিস মুখ চৌদিকে কত
যে তরাস
সুখি
হ টিয়া পাহি, নক্ষ্ণী
আমার ওরে
আমারে
খুঁজিসনে তুই সোয়ামির গতরে
দোয়াতের
নিচে আমি পইড়ি থাহা
ছেমা একফালি
ঘর ভরা পুলাপান, হাসি
একখান দে না চাম্পাকলি
ছুঁয়ে গেছ
মুমির সরকার
বিরহ,
আমাকে
এতটুকুন ছুঁয়ে দেখেনি;
“মোহমুগ্ধ
নেশাগ্রস্তে—
যতোটুকুন
ছুঁয়ে গেছ তুমি!”
ছিমছাম
ক্ষণজন্মা ঘরখানা
নেহাত আজ
প্রাণহীন,
অথচ
সূর্যতাপ এবং হাওয়ারা
গোপন
কুঠুরিতে ঢুকে দেখতে
কী ভীষণ উদগ্রীব—
গভীর-এর-সংহার!
অহেতুক
অপবাদ সরে যেতে দেখা,
পরস্পর
অনুযোগ-তীর-বেঁধা-বুকে
আঘাত
কিংবা প্রতিঘাত শুষে-শুষে
শৌখিন
তৈজসপত্রগুলো
নিয়মিত
ধুলাবালি-জালে—
এখনও
কতো না অম্লান!
এ যেনবা সিঁথির চুলে ঢাকা নারী,
বিরহ-বাঁধা কালো দু’চোখে—
ছুঁয়ে
গেছে আরেক অজড় বিস্ময়|
দহনরাগ
রফিকুল ইসলাম আধার
ভাঙা
এ মহাকালের অলস তরণি
এই নোনাজল স্মৃতির উৎসব,
সে তো এক অন্তহীন
চোরাবালি,
না হয় কোনো অলীক
কুয়াশা—
বিবশ
দহনে টানে অসীম অতলে;
কিংবা
সে তো কেবলই এক
নীরব চিল—
ঠোকরায়
একাকী বুকের পাঁজরে|
তবু
কেন বারবার অলিন্দে এসে কড়া নাড়ে,
চেনা
রাগে ভাঙা তারে ভেসে
আসে সেই আদিম রাগিণী?
অবাধ্য
হৃদয় কেন তবে আজও
সে একমুখী যাযাবর?
কেন
ক্ষণে ক্ষণে শূন্যতাকেই ছুঁতে চায়?
কেনইবা
বিষাদের করাতকে ভালোবাসে?
মুকপ্রায়
বিবাগীর অবাধ্য প্রশ্নও শেষাবধি নিরুত্তর—
এক একটি নীরবতার নিঃসঙ্গ
দহন|
বাতিলসম্ভবা
বিনয় বর্মন
খুব
শীঘ্র বাতিল হবে
এই দেহ এই মন
প্রোগ্রামিং
হয়ে আছে শুরু থেকেই
এখন
শুধু সময়ের অপেক্ষা
ছায়াফুল
ফুটেছিল রোদবৃক্ষে
শুকাতে
শুকাতে এখন এতটুকু
প্রেম
ছিল ঘাসের ডগায় হীরকশিশিরে
এখন
তা জাঙ্কবক্সে
সকল
কিছুই বাতিল হবে
এই সৌরজগৎ এই গ্যালাক্সি
বাতিলসম্ভবা
এই
রাজনীতি
ক্ষমতার দম্ভ
মবসন্ত্রাস
জুলাই রক্তময়
অমোঘ
কালের বিচার, কখনো বাতিল হয়?
ব্যর্থ অনুবাদক
শেলী সেনগুপ্তা
কিছু
ভাষা কারো নিজস্ব,
অনুবাদে
ব্যর্থ আমি
অপেক্ষার
অনুবাদকর্মে
কেটে
গেল
গ্রীষ্মকাল,
এগিয়ে
আসছে আষাঢ় মাস
বৃষ্টি
অনুবাদের কাঙ্ক্ষায়
দৃষ্টি
রেখেছি আকাশমুখি
সময়ের
ক্ষীপ্র ঘোড়ায়
যদি
আসে কদম ফুল!
ভুলে
যাবো, একদম ভুলে যাবো
হৃদয়
ভাঙার নিঃশব্দ শোক...
পুষ্পবতী কুঞ্জবন
শাখাওয়াত তানভীর
ফুল
চাইলে—
কাকে
যেন দিতেই হবে!
জানালাম—
সেই
কবে দখল হয়ে গ্যাছে
পোয়াতি কুঞ্জবন;
মালিক
নই, আমি এখন অসাধারণ
মালী
অধিকার
নেই আমার ফুল ছেঁড়ার!
আচ্ছা
দেখছি— বলেই
কুয়াশা
ভেদ করে তুমি এলে,
এবং
দখলিদার
মধুপ মুক্ত করতে গিয়ে
আগুন
ধরিয়ে দিলে...
অবিহিত
দখল মুক্ত হয়েছে যদিও
পুড়ে
ছাই হলো— আমার পুষ্পবতী
কুঞ্জবন!
আমি
বাগান ফেরত চাইলাম
দেখি—
পুড়ছে সবুজ, তুমি কোথাও নাই!
ঘন শ্যাওলার ভূত
আলমগীর কবীর আলম
ঘন শ্যাওলার জলের গভীরে আটকে
যায় চোখ
তাই
ভয়ে পুকুরের জলে নামো না|
স্বচ্ছ
স্ফটিক জলের মগজ ঘরে
আসো তুমি
কিন্তু
সেখানেও কি ভূত থাকে
না?
ডাকাতের পাখি
মোস্তাফিজুল হক
ছদ্মবেশী
সাদা কবুতর,
দ্বিখণ্ডিত
করে দিয়ে গেল আমাদের
ঘর|
আদতে
পালক ছিল তার বাঁকা
তলোয়ার,
শান্তির
খোলসে ঢাকা ছিল বেহিসাবি
ধার!
কবুতর
ফাঁদে পড়ে-- এ-ও ভুল
হয়ে গেল;
পাকা
ফসলের মাঠে নোনাজল বয়ে
গেল!
দাসখত
দিয়ে রুটি খাব--
এর ব্যতিক্রম হলে সমূলে হারিয়ে
যাব!
বাকুম
বাকুম ¯^রে দিয়ে গেল
ফাঁকি,
ঘরের
কোণে জন্মানো ডাকাতের পাখি|

আপনার মতামত লিখুন