বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে পারমাণবিক ওয়ার-হেড বহনে সক্ষম অত্যন্ত শক্তিশালী একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম (ICBM) সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে রাশিয়া।শুক্রবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আর্খানগেলস্ক অঞ্চলের প্লেসেৎস্ক কসমোড্রোম থেকে এই গোপনীয় ও কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের প্রশিক্ষণমূলক পরীক্ষা চালানো হয়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা অঞ্চলে অবস্থিত কুরা প্রশিক্ষণ এলাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ধরনের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হলো।মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উৎক্ষেপণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কৌশলগত, কারিগরি ও উড্ডয়ন সক্ষমতা পুরোপুরি যাচাই করা। তবে কৌশলগত গোপনীয়তার কারণে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্টভাবে কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খুলেনি।দেশটির স্থলভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দায়িত্বে থাকা স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সেস এই মহড়ার পুরো অপারেশন পরিচালনা করে, যা মূলত রাশিয়ার সামগ্রিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান এবং শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত।এই বিশেষ মহড়ায় স্থানান্তরযোগ্য বা মোবাইল আইসিবিএম উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ব্যাটারিকে দূরবর্তী অঞ্চলে দ্রুত পুনঃমোতায়েন, নিখুঁত উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি এবং সুনির্দিষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সফলভাবে অনুশীলন করা হয়েছে।এর আগে গত মে মাসেও রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইয়ার্স বা আইসিবিএম প্লেসেৎস্ক কসমোড্রোম থেকে কুরা প্রশিক্ষণ এলাকার অভিমুখে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং সে সময় প্রতিবেশী মিত্র দেশ বেলারুশকেও অন্তর্ভুক্ত করে বড় ধরনের পারমাণবিক মহড়া চালিয়েছিল মস্কো। এই ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের সামরিক আধিপত্য ও শক্তিমত্তা প্রদর্শনের একটি সুদূরপ্রসারী বার্তা বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।