ধারাবাহিক গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে দীর্ঘ এক দশক ধরে সিএনজি বিক্রির ওপর মার্জিন বা কমিশন না বাড়ানোয় চরম সংকটে পড়েছে দেশের সিএনজি খাত।স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কমিশন পুনর্নির্ধারণ করা না হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। দাবি আদায়ে আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে কমিশন না বাড়ালে ১ জুলাই থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।শনিবার (০৬ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর নেতৃবৃন্দ কমিশন বাড়ানোর দাবি উত্থাপন করেন।৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩.৯৬ টাকা করার দাবি: সংবাদ সম্মেলনে স্টেশন মালিকরা তাদের কমিশন বর্তমান ৮.০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে মোট ১৩.৯৬ টাকা (অর্থাৎ প্রতি ঘনমিটারে ৫.৯৬ টাকা বৃদ্ধি) করার জোর দাবি জানান। ব্যবসায়ীরা এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট দুটি যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেন:১. বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধির সমন্বয়: ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকার ৭ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখের বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি সিএনজি স্টেশনের মাসিক বিদ্যুৎ বিল এক-পঞ্চমাংশ (২০%) বৃদ্ধি পাবে। এই বাড়তি উৎপাদন খরচ সমন্বয়ের জন্য কমিশন ২.৪৬ টাকা বৃদ্ধি করা জরুরি।২. মূল্যস্ফীতি ও পরিচালন ব্যয়: বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতির কারণে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সমন্বয় বাবদ আরও ৩.৫০ টাকা কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন।এক দশক ধরে ফাইলবন্দি সরকারি সুপারিশ: মালিক সমিতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, সিএনজি খাতের এই কমিশন বৃদ্ধির দাবি আজ নতুন নয়। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা কর্তৃক গঠিত উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন/মার্জিন ২.৯৮ টাকা বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০১৫ সালে মাত্র ১.০০ টাকা মার্জিন বৃদ্ধি করে অবশিষ্ট ১.৯৮ টাকা বৃদ্ধির বিষয়টি দীর্ঘ এক দশক ধরে রহস্যজনকভাবে ফাইলবন্দি করে রেখেছে।ঝুঁকিতে ৫০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও পরিবহন খাত: নেতৃবৃন্দ বলেন, সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারিত থাকায় এই বাড়তি উৎপাদন খরচ তারা নিজেরা গ্রাহকদের ওপর চাপাতে পারছেন না। ফলে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকার এই পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এখন চরম লোকসান ও ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোগান্তি চাই না। কিন্তু লোকসান দিয়ে স্টেশন চালানো আর সম্ভব নয়।’ ৩০ জুনের মধ্যে কমিশন ১৩.৯৬ টাকা নির্ধারণ করা না হলে, ১ জুলাই থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব ফারহান নূর। সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত সহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।