বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাশপাশি অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা কমিশন বৃদ্ধির যে আবেদন করেছে, ভোক্তা ও বাজার পর্যায়ে এর প্রভাব বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট মতামত ও প্রস্তাব দিতে পেট্রোবাংলাকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
‘বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ এ সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুন বিইআরসির সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার সই করা এক চিঠিতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে এই মতামত ও প্রস্তাব আহ্বান করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বিইআরসি আইন, ২০০৩ এর ধারা ৩৪(৬) অনুযায়ী এই চার্জ পরিবর্তনের জন্য গণশুনানি করা আবশ্যক হওয়ায় পেট্রোবাংলার অবস্থান এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এক দশক আগে
এর আগে সিএনজি স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ধারাবাহিক গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে দীর্ঘ এক দশক ধরে সিএনজি বিক্রির ওপর মার্জিন বা কমিশন না বাড়ানোয় ‘চরম সংকটে পড়েছে’ দেশের সিএনজি খাত। স্টেশন মালিকদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কমিশন পুনর্নির্ধারণ না হলে ‘প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই পরিবেশবান্ধব ব্যবসা’ টিকিয়ে রাখা ‘অসম্ভব’। ‘যৌক্তিক কারণ’ তুলে ধরে প্রতি ঘনমিটারে বর্তমান কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি জানান তারা।
অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকার ৭ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখের বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি সিএনজি স্টেশনের মাসিক বিদ্যুৎ বিল এক-পঞ্চমাংশ (২০%) বৃদ্ধি পাবে। এই বাড়তি উৎপাদন খরচ সমন্বয়ের জন্য কমিশন ২ টাকা ৪৬ পয়সা বৃদ্ধি করা জরুরি। এছাড়া, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতির কারণে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সমন্বয় বাবদ আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত লোকসান কাটিয়ে উঠতে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ীদের মার্জিন বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ মূল্য সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত বছর ১২ মার্চ বিইআরসি চেয়ারম্যানের কাছে প্রথম গণশুনানি আয়োজনের আবেদন করা হয়।
কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় ঢাকার বিজয়নগরে অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে গত ৬ জুন জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কার্যনির্বাহী কমিটি। সেখানে জানানো হয়, ৩০ জুনের মধ্যে সমাধান না হলে সিএনজি ফিলিং স্টেশন সচল রাখা অসম্ভব।
তখন সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন আছে। গড়ে প্রতিটি স্টেশন স্থাপনে দশ কোটি টাকার মত বিনিয়োগ করতে হয়। স্টেশন মালিকরা বলেন, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি হিসেবে এক সময় যানবাহনে সিএনজি ব্যবহারকে উৎসাহিত করেছে সরকার। সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্থাপনেও পেট্রোল পাম্প মালিকদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিএনপি সরকারের আমলে সিএনজি খাত সম্প্রসারণে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেছে। পরবর্তি আওয়ামী লীগ সরকার রহস্যজনক কারণে এ খাতের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে।’
মন্ত্রণালয় ও বিইআরসিতে চিঠি
সংবাদ সম্মেলনের পর বিইআরসি চেয়ারম্যান বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র (স্মারক: বিসিএ/২২/২০২৬) জমা দেয় ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং নাহিয়ান সিএনজি ফিলিং স্টেশন, যেখানে স্টেশন চার্জ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
সিএনজি খাতের এই ‘গভীর সংকট’ সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবগত করতে গত ১৪ জুন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়।
সিএনজি স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দেশে পরিবেশবান্ধব সিএনজি চালনা শুরু হলে প্রতি ঘনমিটারে ফিড গ্যাসের মূল্য ছিল ২.৫৭ টাকা এবং স্টেশন মার্জিন ছিল ৬.০৩ টাকা। ২০১৫ সালে বিইআরসির আদেশে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে স্টেশন মার্জিন ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কয়েক দফায় ব্যবসায়ীদের মার্জিন আরও ২.৯৮ টাকা বৃদ্ধির জোর সুপারিশ করলেও বিইআরসি তা বাস্তবায়ন করেনি।
২০২২ সালে ভোক্তাপর্যায়ে সিএনজির মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও স্টেশন মালিকদের মার্জিন ২০১৫ সালের ৮ টাকাতেই আটকে রাখা হয়, যা বিগত ৪ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাখ্যা
অ্যাসোসিয়েশন আরো জানায়, বর্তমানে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি ঘনমিটার সিএনজির মূল্য ৪৩ টাকা (ফিড গ্যাস ৩৫ টাকা ও স্টেশন চার্জ ৮ টাকা)। সিএনজি স্টেশনগুলো মূলত বিদ্যুতের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ২০১৫ সালের পর থেকে দেশে ৮ বার বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, যার ফলে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি উৎপাদনে কেবল বিদ্যুৎ বাবদই খরচ বেড়েছে ২.৪৬ টাকা। ২০১৫ সালে প্রতি ইউনিট পিক আওয়ার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১১ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.৪১ টাকা।
অফ-পিক আওয়ারে ৭.৫৫ টাকার বিদ্যুৎ এখন ১২.৫৪ টাকা। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটের দাম ৪.১৮ টাকা থেকে ৮ গুণ বেড়ে বর্তমানে ৩১.৫০ টাকা হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তীব্র মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ডলারের দাম বাড়ায় আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশনের খরচ বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে আরও ৩.৫০ টাকা।
অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকার (বিইআরসি) দ্বারা নির্ধারিত হওয়ায় স্টেশন মালিকদের পক্ষে নিজেরা এই বাড়তি খরচ সমন্বয় করা সম্ভব নয়। ফলে, এই ৫.৯৬ টাকা মার্জিন বৃদ্ধি না পেলে সারা দেশের সিএনজি স্টেশনগুলো দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে গণপরিবহন ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। তাই পরিবেশবান্ধব এই খাতটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং গ্রাহক সেবা সচল রাখতে এই মূল্য সমন্বয় সময়ের দাবি।

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাশপাশি অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা কমিশন বৃদ্ধির যে আবেদন করেছে, ভোক্তা ও বাজার পর্যায়ে এর প্রভাব বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট মতামত ও প্রস্তাব দিতে পেট্রোবাংলাকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
‘বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ এ সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুন বিইআরসির সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার সই করা এক চিঠিতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে এই মতামত ও প্রস্তাব আহ্বান করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বিইআরসি আইন, ২০০৩ এর ধারা ৩৪(৬) অনুযায়ী এই চার্জ পরিবর্তনের জন্য গণশুনানি করা আবশ্যক হওয়ায় পেট্রোবাংলার অবস্থান এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এক দশক আগে
এর আগে সিএনজি স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ধারাবাহিক গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে দীর্ঘ এক দশক ধরে সিএনজি বিক্রির ওপর মার্জিন বা কমিশন না বাড়ানোয় ‘চরম সংকটে পড়েছে’ দেশের সিএনজি খাত। স্টেশন মালিকদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কমিশন পুনর্নির্ধারণ না হলে ‘প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই পরিবেশবান্ধব ব্যবসা’ টিকিয়ে রাখা ‘অসম্ভব’। ‘যৌক্তিক কারণ’ তুলে ধরে প্রতি ঘনমিটারে বর্তমান কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি জানান তারা।
অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকার ৭ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখের বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি সিএনজি স্টেশনের মাসিক বিদ্যুৎ বিল এক-পঞ্চমাংশ (২০%) বৃদ্ধি পাবে। এই বাড়তি উৎপাদন খরচ সমন্বয়ের জন্য কমিশন ২ টাকা ৪৬ পয়সা বৃদ্ধি করা জরুরি। এছাড়া, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতির কারণে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সমন্বয় বাবদ আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত লোকসান কাটিয়ে উঠতে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ীদের মার্জিন বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ মূল্য সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত বছর ১২ মার্চ বিইআরসি চেয়ারম্যানের কাছে প্রথম গণশুনানি আয়োজনের আবেদন করা হয়।
কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় ঢাকার বিজয়নগরে অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে গত ৬ জুন জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কার্যনির্বাহী কমিটি। সেখানে জানানো হয়, ৩০ জুনের মধ্যে সমাধান না হলে সিএনজি ফিলিং স্টেশন সচল রাখা অসম্ভব।
তখন সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন আছে। গড়ে প্রতিটি স্টেশন স্থাপনে দশ কোটি টাকার মত বিনিয়োগ করতে হয়। স্টেশন মালিকরা বলেন, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি হিসেবে এক সময় যানবাহনে সিএনজি ব্যবহারকে উৎসাহিত করেছে সরকার। সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্থাপনেও পেট্রোল পাম্প মালিকদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিএনপি সরকারের আমলে সিএনজি খাত সম্প্রসারণে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেছে। পরবর্তি আওয়ামী লীগ সরকার রহস্যজনক কারণে এ খাতের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে।’
মন্ত্রণালয় ও বিইআরসিতে চিঠি
সংবাদ সম্মেলনের পর বিইআরসি চেয়ারম্যান বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র (স্মারক: বিসিএ/২২/২০২৬) জমা দেয় ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং নাহিয়ান সিএনজি ফিলিং স্টেশন, যেখানে স্টেশন চার্জ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
সিএনজি খাতের এই ‘গভীর সংকট’ সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবগত করতে গত ১৪ জুন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়।
সিএনজি স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দেশে পরিবেশবান্ধব সিএনজি চালনা শুরু হলে প্রতি ঘনমিটারে ফিড গ্যাসের মূল্য ছিল ২.৫৭ টাকা এবং স্টেশন মার্জিন ছিল ৬.০৩ টাকা। ২০১৫ সালে বিইআরসির আদেশে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে স্টেশন মার্জিন ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কয়েক দফায় ব্যবসায়ীদের মার্জিন আরও ২.৯৮ টাকা বৃদ্ধির জোর সুপারিশ করলেও বিইআরসি তা বাস্তবায়ন করেনি।
২০২২ সালে ভোক্তাপর্যায়ে সিএনজির মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও স্টেশন মালিকদের মার্জিন ২০১৫ সালের ৮ টাকাতেই আটকে রাখা হয়, যা বিগত ৪ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাখ্যা
অ্যাসোসিয়েশন আরো জানায়, বর্তমানে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি ঘনমিটার সিএনজির মূল্য ৪৩ টাকা (ফিড গ্যাস ৩৫ টাকা ও স্টেশন চার্জ ৮ টাকা)। সিএনজি স্টেশনগুলো মূলত বিদ্যুতের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ২০১৫ সালের পর থেকে দেশে ৮ বার বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, যার ফলে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি উৎপাদনে কেবল বিদ্যুৎ বাবদই খরচ বেড়েছে ২.৪৬ টাকা। ২০১৫ সালে প্রতি ইউনিট পিক আওয়ার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১১ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.৪১ টাকা।
অফ-পিক আওয়ারে ৭.৫৫ টাকার বিদ্যুৎ এখন ১২.৫৪ টাকা। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটের দাম ৪.১৮ টাকা থেকে ৮ গুণ বেড়ে বর্তমানে ৩১.৫০ টাকা হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তীব্র মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ডলারের দাম বাড়ায় আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশনের খরচ বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে আরও ৩.৫০ টাকা।
অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকার (বিইআরসি) দ্বারা নির্ধারিত হওয়ায় স্টেশন মালিকদের পক্ষে নিজেরা এই বাড়তি খরচ সমন্বয় করা সম্ভব নয়। ফলে, এই ৫.৯৬ টাকা মার্জিন বৃদ্ধি না পেলে সারা দেশের সিএনজি স্টেশনগুলো দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে গণপরিবহন ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। তাই পরিবেশবান্ধব এই খাতটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং গ্রাহক সেবা সচল রাখতে এই মূল্য সমন্বয় সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন