সংবাদ

গুণমানে শ্রেষ্ঠত্বের পদক পেল ‘মধুপুর চা বাগান’


আনোয়ারুল ইসলাম জাবেদ, মৌলভীবাজার
আনোয়ারুল ইসলাম জাবেদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

গুণমানে শ্রেষ্ঠত্বের পদক পেল ‘মধুপুর চা বাগান’
পুরস্কার হাতে বাংলাদেশীয় চা-সংসদ-এর ভাইস চেয়ারম্যান ও কেদারপুর টি কোম্পানির পরিচালক ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। পেছনে সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবির।

দেশের মধ্যে সব চেয়ে ভালো মানের চায়ের উৎপাদনকারী চা বাগান হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মাধবপুর চা বাগান। এজন্য ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী চা বাগানের পদক পেয়েছে মধুপুর চা বাগান।

এবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৮ টি পদ দেয়া হয়েছে। এবারের জাতীয় চা দিবসের প্রতিপাধ্য বিষয় হচ্ছে- ‘চা শিল্পের উন্নতি, সবুজ হউক অর্থনীতি’।

শনিবার (২০ জুন) সকালে চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মহসীন অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে চা দিবসের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। 

উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা, প্ল্যাকার্ড সম্বলিত বেলুন উড়িয়ে জাতীয় চা দিবসের উদ্বোধন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পদক বিতরণ। 

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মহসীন অডিটোরিয়ামে পদ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. আতাউর রহমান খান। প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দীন প্রমুখ। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা বাগান মালিকগণকে যেমন মজুরি বাড়ানোর জন্য বলতে পারি না, তেমনি শ্রমিকদের বিনা মজুরিতে কাজ করার জন্যও বলতে পারি না। বাগান মালিক ও শ্রমিক উভয়ের স্বার্থ নিশ্চিত করে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করেই কাজ করতে চাই। যাতে বাগান মালিক কিংবা শ্রমিকর কেউই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। 

প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘চা আমাদের জাতীয় সম্পদ। চায়ের গুনগত মান যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি  উৎপাদন বাড়াতে হবে। চা শিল্পের উন্নতি মানে আমাদের দেশের অর্থনীতির উন্নতি। ’

 অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী চা বাগানের পদক গ্রহণ করেন বাংলাদেশীয় চা-সংসদ-এর ভাইস চেয়ারম্যান ও কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। 

পুরস্কার গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সংবাদকে বলেন, ‘এ অর্জন মধুপুর বাগানের মালিক, শ্রমিক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, সর্বোপরি এ বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লায়লা কবিরের। উনার নেতৃত্বে মধুপুর চা বাগান গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদন করে আসছে। এর আগেও মধুপুর চা বাগানে উৎপাদিত চা দেশ সেরা মানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছে। 

ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, ‘১৯৭৩ সালে মধুপুর চা বাগানের বার্ষিক উৎপাদন ছিলো ৫০ হাজার কেজি। বর্তমানে বার্ষিক উৎপাদন ৮-১০ লাখ কেজি। কেদারপুর টি কোম্পানির বাগানগুলো বছরে ১৮ লাখ কেজির মতো চা উৎপাদন করে থাকে। 

বাংলাদেশীয় চা-সংসদ-এর ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে চায়ের কাপ ১০ টাকা বিক্রি হয়, তাতে বাগান মালিক পায় ৪২ পয়সা। সরকারকে চয়ের সর্বনিম্ন দর বৃদ্ধি করতে হবে। এতে বাগানগুলো গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদন করতে আরো আগ্রহী হবে। পাশাপাশি চা আমদানির ওপর অধিক ট্যারিফ আরোপ করতে হবে দেশের চা শিল্পকে রক্ষা করতে। অবৈধভাবে আসা চা দেশের ভালো মানের চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেশের চায়ের মান নষ্ট করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। 

 এ বছর ৮টি ক্যাটাগিরতে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় চা পুরস্কা দেয়া হয়েছে। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলো- সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী চা বাগান হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ‘মধুপুর চা বাগান’, একর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ‘শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগান’, শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক ‘দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড’।

এছাড়া শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার সোনাপাতিল গ্রামের মতিয়ার রহমান, শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান, ‘ইস্পাহানী মির্জাপুর চা বাগান’, বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি ‘কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড’, দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে ‘কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড’।

পাশাপাশি শ্রমিক সম্পর্কিত পুরস্কার শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী (ব্যক্তি/শ্রমিক) হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন চট্রগ্রামের ‘নেপচুন চা বাগানের’ জেসমিন আক্তার। এছাড়া শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানার পুরস্কার পেয়েছে পঞ্চগড় জেলার ‘সুপ্রিম টি লিমিটেড’। 

প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। 


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


গুণমানে শ্রেষ্ঠত্বের পদক পেল ‘মধুপুর চা বাগান’

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের মধ্যে সব চেয়ে ভালো মানের চায়ের উৎপাদনকারী চা বাগান হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মাধবপুর চা বাগান। এজন্য ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী চা বাগানের পদক পেয়েছে মধুপুর চা বাগান।

এবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৮ টি পদ দেয়া হয়েছে। এবারের জাতীয় চা দিবসের প্রতিপাধ্য বিষয় হচ্ছে- ‘চা শিল্পের উন্নতি, সবুজ হউক অর্থনীতি’।

শনিবার (২০ জুন) সকালে চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মহসীন অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে চা দিবসের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। 

উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা, প্ল্যাকার্ড সম্বলিত বেলুন উড়িয়ে জাতীয় চা দিবসের উদ্বোধন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পদক বিতরণ। 

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মহসীন অডিটোরিয়ামে পদ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. আতাউর রহমান খান। প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দীন প্রমুখ। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা বাগান মালিকগণকে যেমন মজুরি বাড়ানোর জন্য বলতে পারি না, তেমনি শ্রমিকদের বিনা মজুরিতে কাজ করার জন্যও বলতে পারি না। বাগান মালিক ও শ্রমিক উভয়ের স্বার্থ নিশ্চিত করে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করেই কাজ করতে চাই। যাতে বাগান মালিক কিংবা শ্রমিকর কেউই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। 

প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘চা আমাদের জাতীয় সম্পদ। চায়ের গুনগত মান যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি  উৎপাদন বাড়াতে হবে। চা শিল্পের উন্নতি মানে আমাদের দেশের অর্থনীতির উন্নতি। ’

 অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী চা বাগানের পদক গ্রহণ করেন বাংলাদেশীয় চা-সংসদ-এর ভাইস চেয়ারম্যান ও কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। 

পুরস্কার গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সংবাদকে বলেন, ‘এ অর্জন মধুপুর বাগানের মালিক, শ্রমিক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, সর্বোপরি এ বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লায়লা কবিরের। উনার নেতৃত্বে মধুপুর চা বাগান গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদন করে আসছে। এর আগেও মধুপুর চা বাগানে উৎপাদিত চা দেশ সেরা মানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছে। 

ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, ‘১৯৭৩ সালে মধুপুর চা বাগানের বার্ষিক উৎপাদন ছিলো ৫০ হাজার কেজি। বর্তমানে বার্ষিক উৎপাদন ৮-১০ লাখ কেজি। কেদারপুর টি কোম্পানির বাগানগুলো বছরে ১৮ লাখ কেজির মতো চা উৎপাদন করে থাকে। 

বাংলাদেশীয় চা-সংসদ-এর ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে চায়ের কাপ ১০ টাকা বিক্রি হয়, তাতে বাগান মালিক পায় ৪২ পয়সা। সরকারকে চয়ের সর্বনিম্ন দর বৃদ্ধি করতে হবে। এতে বাগানগুলো গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদন করতে আরো আগ্রহী হবে। পাশাপাশি চা আমদানির ওপর অধিক ট্যারিফ আরোপ করতে হবে দেশের চা শিল্পকে রক্ষা করতে। অবৈধভাবে আসা চা দেশের ভালো মানের চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেশের চায়ের মান নষ্ট করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। 

 এ বছর ৮টি ক্যাটাগিরতে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় চা পুরস্কা দেয়া হয়েছে। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলো- সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী চা বাগান হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ‘মধুপুর চা বাগান’, একর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ‘শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগান’, শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক ‘দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড’।

এছাড়া শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার সোনাপাতিল গ্রামের মতিয়ার রহমান, শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান, ‘ইস্পাহানী মির্জাপুর চা বাগান’, বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি ‘কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড’, দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে ‘কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড’।

পাশাপাশি শ্রমিক সম্পর্কিত পুরস্কার শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী (ব্যক্তি/শ্রমিক) হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন চট্রগ্রামের ‘নেপচুন চা বাগানের’ জেসমিন আক্তার। এছাড়া শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানার পুরস্কার পেয়েছে পঞ্চগড় জেলার ‘সুপ্রিম টি লিমিটেড’। 

প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। 



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত