রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুহু মিয়া প্রকাশ্যে ঘুস নিচ্ছেন-এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি তার অফিসে বসে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা গুনে গুনে পকেটে রাখছেন। সেবাগ্রহীতারা বলছেন, ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল তিনি দেখেন না।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাগজপত্র ঠিক থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখেন নুহু মিয়া। পরে তার চাহিদামতো টাকা দিলে ফাইল অনুমোদন করেন তিনি।
সরেজমিনে কাউনিয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার টেপামধূপুর থেকে আসা আকলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ঘুস ছাড়া কোনো ফাইল দেখেন না। আগেই বলে দেন কত টাকা নিয়ে আসতে হবে। তিন দিন ধরে আমার স্বামীর ফাইল নিয়ে ঘুরছি। তিনি ১০ হাজার টাকা ঘুস চাইছেন। আমি ৫ হাজার টাকা নিয়ে গেলে তা গুনে দেখে বললেন, ৫ হাজার নয়, পুরো ১০ হাজার টাকাই লাগবে।’
অভিযুক্ত কর্মকর্তা নুহু মিয়া অকপটে ঘুস নেওয়ার কথা স্বীকার করে দাম্ভিকতার সুরে বলেন, ‘ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আমি যে টাকা নিয়েছি, ভিডিওটা সঠিক। এ ব্যাপারে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিক।’
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল নানা অজুহাতে আটকে রেখে ঘুস আদায় এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। এই ঘুসখোর কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করব।’
ঘুষ গ্রহণের এই ঘটনায় সেবাগ্রহীতা ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুহু মিয়া প্রকাশ্যে ঘুস নিচ্ছেন-এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি তার অফিসে বসে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা গুনে গুনে পকেটে রাখছেন। সেবাগ্রহীতারা বলছেন, ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল তিনি দেখেন না।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাগজপত্র ঠিক থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখেন নুহু মিয়া। পরে তার চাহিদামতো টাকা দিলে ফাইল অনুমোদন করেন তিনি।
সরেজমিনে কাউনিয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার টেপামধূপুর থেকে আসা আকলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ঘুস ছাড়া কোনো ফাইল দেখেন না। আগেই বলে দেন কত টাকা নিয়ে আসতে হবে। তিন দিন ধরে আমার স্বামীর ফাইল নিয়ে ঘুরছি। তিনি ১০ হাজার টাকা ঘুস চাইছেন। আমি ৫ হাজার টাকা নিয়ে গেলে তা গুনে দেখে বললেন, ৫ হাজার নয়, পুরো ১০ হাজার টাকাই লাগবে।’
অভিযুক্ত কর্মকর্তা নুহু মিয়া অকপটে ঘুস নেওয়ার কথা স্বীকার করে দাম্ভিকতার সুরে বলেন, ‘ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আমি যে টাকা নিয়েছি, ভিডিওটা সঠিক। এ ব্যাপারে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিক।’
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল নানা অজুহাতে আটকে রেখে ঘুস আদায় এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। এই ঘুসখোর কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করব।’
ঘুষ গ্রহণের এই ঘটনায় সেবাগ্রহীতা ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন