সংবাদ

বরিশালে দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে হরিপাশা খাল


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

বরিশালে দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে হরিপাশা খাল
বরিশাল নগরীর জিয়াসড়ক হরিপাশা খালটি সংস্কারের অভাবে এখন মৃতপ্রায়। ছবি : সংবাদ

দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি চললেও সংস্কারের অভাবে মৃতপ্রায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়াসড়ক হরিপাশা খালটি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পাকা স্থাপনা ও দেয়াল। ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর জিয়াসড়ক থেকে নবগ্রাম-কুদঘাটা পর্যন্ত খালের দুই পাড় দখলের কবলে। খালের বুকজুড়ে পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য আর কচুরিপানার স্তূপ। একসময় এই পথে নৌযান চলাচল করলেও এখন জোয়ার-ভাটার পানিও প্রবেশ করতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘একসময় এটি ছিল এই এলাকার প্রধান নৌপথ। এখন একদল প্রভাবশালী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করেছে। বর্জ্যে আটকে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন জানান, বর্জ্য জমে থাকায় জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে এবং মশার উপদ্রব চরম আকারে বেড়েছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া ২০টি খালের তালিকায় এই খালটির নাম রয়েছে। আমরা খননের প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং বর্তমানে একনেকে বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে এই খালগুলো সংস্কার করা হয়নি। আমরা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে এবং অনুমোদনহীন ব্রিজ অপসারণে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব। আমি দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেব।’

দ্রুত এই খাল খনন ও দখলমুক্ত করা না হলে প্রতি বর্ষায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


বরিশালে দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে হরিপাশা খাল

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি চললেও সংস্কারের অভাবে মৃতপ্রায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়াসড়ক হরিপাশা খালটি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পাকা স্থাপনা ও দেয়াল। ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর জিয়াসড়ক থেকে নবগ্রাম-কুদঘাটা পর্যন্ত খালের দুই পাড় দখলের কবলে। খালের বুকজুড়ে পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য আর কচুরিপানার স্তূপ। একসময় এই পথে নৌযান চলাচল করলেও এখন জোয়ার-ভাটার পানিও প্রবেশ করতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘একসময় এটি ছিল এই এলাকার প্রধান নৌপথ। এখন একদল প্রভাবশালী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করেছে। বর্জ্যে আটকে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন জানান, বর্জ্য জমে থাকায় জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে এবং মশার উপদ্রব চরম আকারে বেড়েছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া ২০টি খালের তালিকায় এই খালটির নাম রয়েছে। আমরা খননের প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং বর্তমানে একনেকে বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে এই খালগুলো সংস্কার করা হয়নি। আমরা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে এবং অনুমোদনহীন ব্রিজ অপসারণে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব। আমি দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেব।’

দ্রুত এই খাল খনন ও দখলমুক্ত করা না হলে প্রতি বর্ষায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত