শ্রাবণ মাস ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ও উপকূলীয় নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। বৈরী আবহাওয়া আর নদীর নাব্যসংকটে জেলেরা জাল ফেলে হতাশ হয়ে ফিরছেন। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম এবং দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। রুপালি ইলিশের রাজধানীখ্যাত চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে এখন ইলিশের হাহাকার চলছে।
এদিকে ২০০৭ সাল থেকে জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকার জেলেদের খাদ্যসহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেও ইলিশের উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। কেন উৎপাদন কমছে বা এ বিষয়ে করণীয় কী, তা অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল।
বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন হ্রাসের পেছনে প্রধান ৫ টি কারণ রয়েছে:
জাটকা নিধন: পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার আগেই ব্যাপক হারে জাটকা ধরা।
নদীর নাব্যতা সংকট: পদ্মা-মেঘনা নদীসহ প্রধান প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্রগুলোতে অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টি।
মাছ ধরার অবৈধ জাল: কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালের মতো নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার।
পরিবেশ দূষণ: নদীতে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য ও প্লাস্টিক পড়ার কারণে পানি দূষণ।
জলবায়ু পরিবর্তন: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
বিএফআরআইয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল চাঁদপুর সফর করে। শুরুতে তারা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক তাদের জানান, নদীদূষণ ও মেঘনার অসংখ্য ডুবোচরের কারণে ইলিশের বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পরে দলটি চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে। ব্যবসায়ীরা জানান, ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার মণ ইলিশ আসার কথা, সেখানে এখন ১০০ মণও আসছে না। ফলে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরও অনেক কম ছিল।
মৎস্য বণিক সমিতির পরিচালক আব্দুল খালেক বেপারী বলেন, ‘জাটকা নিধন ও নদীতে নাব্যসংকটের কারণে সাগর থেকে মাছ নদীতে আসতে পারছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কমছে না।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের কড়াকড়ির সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
গবেষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাজারে বড় ইলিশের চেয়ে ছোট ইলিশের আধিক্য দেখছি। আমদানির পরিমাণও অনেক কম। নদীর সামগ্রিক অবস্থা ও পরিবেশগত কারণগুলো বিশ্লেষণ করে আমরা সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেব।’

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
শ্রাবণ মাস ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ও উপকূলীয় নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। বৈরী আবহাওয়া আর নদীর নাব্যসংকটে জেলেরা জাল ফেলে হতাশ হয়ে ফিরছেন। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম এবং দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। রুপালি ইলিশের রাজধানীখ্যাত চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে এখন ইলিশের হাহাকার চলছে।
এদিকে ২০০৭ সাল থেকে জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকার জেলেদের খাদ্যসহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেও ইলিশের উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। কেন উৎপাদন কমছে বা এ বিষয়ে করণীয় কী, তা অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল।
বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন হ্রাসের পেছনে প্রধান ৫ টি কারণ রয়েছে:
জাটকা নিধন: পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার আগেই ব্যাপক হারে জাটকা ধরা।
নদীর নাব্যতা সংকট: পদ্মা-মেঘনা নদীসহ প্রধান প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্রগুলোতে অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টি।
মাছ ধরার অবৈধ জাল: কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালের মতো নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার।
পরিবেশ দূষণ: নদীতে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য ও প্লাস্টিক পড়ার কারণে পানি দূষণ।
জলবায়ু পরিবর্তন: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
বিএফআরআইয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল চাঁদপুর সফর করে। শুরুতে তারা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক তাদের জানান, নদীদূষণ ও মেঘনার অসংখ্য ডুবোচরের কারণে ইলিশের বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পরে দলটি চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে। ব্যবসায়ীরা জানান, ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার মণ ইলিশ আসার কথা, সেখানে এখন ১০০ মণও আসছে না। ফলে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরও অনেক কম ছিল।
মৎস্য বণিক সমিতির পরিচালক আব্দুল খালেক বেপারী বলেন, ‘জাটকা নিধন ও নদীতে নাব্যসংকটের কারণে সাগর থেকে মাছ নদীতে আসতে পারছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কমছে না।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের কড়াকড়ির সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
গবেষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাজারে বড় ইলিশের চেয়ে ছোট ইলিশের আধিক্য দেখছি। আমদানির পরিমাণও অনেক কম। নদীর সামগ্রিক অবস্থা ও পরিবেশগত কারণগুলো বিশ্লেষণ করে আমরা সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেব।’

আপনার মতামত লিখুন