সংবাদ

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ি ফিরছেন মানুষ


জেলা বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
জেলা বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ এএম

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ি ফিরছেন মানুষ
কক্সবাজারের আশ্রয়কেন্দ্র এখন জনশূন্য, ঘরে ফিরছে মানুষ। ছবি : সংবাদ

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখন প্রায় জনশূন্য। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে জেলার কোথাও কোনো পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় নেই। তবে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার কিছু নিচু এলাকায় এখনও বন্যার চিহ্ন রয়ে গেছে।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় জেলার প্রধান ৩ নদী–মাতামুহুরী, নাফ ও বাঁকখালীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে জনজীবনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, এবারের বন্যায় জেলার ১০টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২৫ জন এবং এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ১০ হাজার ৫৪৬টি ঘরবাড়ি আংশিক এবং ৭৩২টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ, কৃষি, বাঁধ ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৪৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, জেলার প্রায় ২৯৪ কিলোমিটার সড়ক এবং ৫৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ৪ হাজার ২১১ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষি খাতে ক্ষতি হয়েছে ৮০ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, মৎস্য খাতে প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য অফিস। বন্যায় ৪৪টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জেলা প্রশাসন জানায়, বন্যা শুরুর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নগদ এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিলে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ, ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার ৭৭ বান্ডিল ডেউটিন, গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৮০০টি কম্বল মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম চলবে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে জেলার ৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে সেখানে কোনো মানুষ নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য ‘ডি-ফরম’ প্রস্তুতের কাজ চলছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে দুর্গত এলাকায় জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ি ফিরছেন মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। জেলার অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখন প্রায় জনশূন্য। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে জেলার কোথাও কোনো পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় নেই। তবে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার কিছু নিচু এলাকায় এখনও বন্যার চিহ্ন রয়ে গেছে।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় জেলার প্রধান ৩ নদী–মাতামুহুরী, নাফ ও বাঁকখালীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে জনজীবনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, এবারের বন্যায় জেলার ১০টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২৫ জন এবং এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ১০ হাজার ৫৪৬টি ঘরবাড়ি আংশিক এবং ৭৩২টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ, কৃষি, বাঁধ ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৪৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, জেলার প্রায় ২৯৪ কিলোমিটার সড়ক এবং ৫৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ৪ হাজার ২১১ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষি খাতে ক্ষতি হয়েছে ৮০ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, মৎস্য খাতে প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য অফিস। বন্যায় ৪৪টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জেলা প্রশাসন জানায়, বন্যা শুরুর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নগদ এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিলে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ, ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার ৭৭ বান্ডিল ডেউটিন, গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৮০০টি কম্বল মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম চলবে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে জেলার ৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে সেখানে কোনো মানুষ নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য ‘ডি-ফরম’ প্রস্তুতের কাজ চলছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে দুর্গত এলাকায় জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত