বৃষ্টি-বাদলের অন্ধকারে বাড়ছে চুরির ঘটনা। লক্ষীপুরের বশিকপুরে ঢাকার দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে জানালার থাই গ্লাস খুলে নিয়ে গেছে চোর। সারাদেশে গত ৬ মাসে ৪ হাজার ৭৫৭টি চুরির মামলা রেকর্ড হয়েছে। তবে বহু অভিযোগ থানা পর্যন্ত পৌঁছায় না।
বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সারা দেশে চুরির ঘটনা বাড়ছে। গত বুধবার গভীর রাতে লক্ষীপুর জেলার বশিকপুর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরদল ব্যবসায়ী সৈয়দ আহমদ ও মাহফুজুর রহমানের একতলা বাড়ির জানালায় লাগানো ৪-৫টি থাই ফ্রেম (গ্লাস) খুলে নিয়ে যায়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগেই এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
পুরনো ঢাকার সদরঘাটে থাকা দুই ব্যবসায়ী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্যবসায়ী সৈয়দ আহমেদ জানান, বশিকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলমপুর গ্রামের আলাউদ্দিন পাটোয়ারি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বাড়িতে শুধু একজন কেয়ারটেকার থাকে। তারা মাঝে মধ্যে পরিবার নিয়ে বাড়িতে বেড়াতে যান। ঘটনার সময় কেয়ারটেকার বাড়িতে ছিল না। রাতের বৃষ্টির মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ৬ মাসে সারাদেশে ৪ হাজার ৭৫৭টি চুরির ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত বাড়ছে চুরি।
গত জুন মাসে রাজধানীতে ৯৭টি চুরির মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনে ১৯টি, খুলনা মেট্রোপলিটনে ১৩টি, রাজশাহী মেট্রোপলিটনে ১৬টি, বরিশাল মেট্রোপলিটনে ৫টি, সিলেট মেট্রোপলিটনে ১৬টি, রংপুর মেট্রোপলিটনে ১৫টি ও গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ২৩টি মামলা হয়।
বিভাগভিত্তিক চিত্র দেখা গেছে, বিভাগের ঢাকায় ১১৪, ময়মনসিংহ ৪২, চট্টগ্রাম ১২৩, সিলেট ৫৮, খুলনা ৯১, বরিশাল ২৮, রাজশাহী ৮৩, রংপুর ৭৮ ও রেল পুলিশ বিভাগে ৮টি মামলা হয়েছে। এক মাসে মোট ৮২৯টি চুরির মামলা রেকর্ড হয়েছে। গত ৫ মাসে প্রতি মাসে গড়ে ৮০০-এর বেশি মামলা হয়েছে। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই ৬৩৪টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছু দিন ধরে গ্রাম-গঞ্জে চুরির ঘটনা বাড়ছে। সংঘবদ্ধ মাদকাসক্ত ও অনলাইনে জুয়া খেলা ব্যক্তিরা টাকার জন্য চুরি করছে। ইয়াবা এখন গ্রামের বাজার থেকে পাড়া-মহল্লায়ও বিক্রি হচ্ছে।
পুলিশের একজন অপরাধ বিশেষজ্ঞের মতে, দেশে সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। কম শিক্ষিত, বেশি শিক্ষিত- এমনকি যাদের কাজ নেই, তারা এখন চুরিকে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। যারা জুয়া খেলে টাকা নষ্ট করছে, তাদের হাতে টাকা নেই। তাই টাকা সংগ্রহ করতে চুরিকে তারা সহজ পন্থা হিসেবে দেখছে।
আবার অনেকে উগ্র মানসিকতার কারণে স্থানীয় প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় চুরি করে টাকা কামাই করার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ প্রতিহিংসার কারণেও এসব কাজ করছে। কাঁচ, থাই গ্লাস, ঘরের বাইরের ঘটি-বাটি সহজেই ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা যায়। চুরির ঘটনায় তাদের সম্পর্ক থাকতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, বেকার মানুষের অর্থ সংকট তাদের চুরিকে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য করছে। বর্ষাকালের বৈরী আবহাওয়ায় চোর সহজেই চুরি করে পালাতে পারে। শহরের চেয়ে গ্রাম-গঞ্জেই এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিজেদের ঘর-বাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তার উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে চোরদল সহজে চুরি করতে না পারে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি মামলার ঘটনা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। মামলা হলে পুলিশ তদন্ত করে আসামি গ্রেপ্তার করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
বৃষ্টি-বাদলের অন্ধকারে বাড়ছে চুরির ঘটনা। লক্ষীপুরের বশিকপুরে ঢাকার দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে জানালার থাই গ্লাস খুলে নিয়ে গেছে চোর। সারাদেশে গত ৬ মাসে ৪ হাজার ৭৫৭টি চুরির মামলা রেকর্ড হয়েছে। তবে বহু অভিযোগ থানা পর্যন্ত পৌঁছায় না।
বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সারা দেশে চুরির ঘটনা বাড়ছে। গত বুধবার গভীর রাতে লক্ষীপুর জেলার বশিকপুর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরদল ব্যবসায়ী সৈয়দ আহমদ ও মাহফুজুর রহমানের একতলা বাড়ির জানালায় লাগানো ৪-৫টি থাই ফ্রেম (গ্লাস) খুলে নিয়ে যায়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগেই এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
পুরনো ঢাকার সদরঘাটে থাকা দুই ব্যবসায়ী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্যবসায়ী সৈয়দ আহমেদ জানান, বশিকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলমপুর গ্রামের আলাউদ্দিন পাটোয়ারি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বাড়িতে শুধু একজন কেয়ারটেকার থাকে। তারা মাঝে মধ্যে পরিবার নিয়ে বাড়িতে বেড়াতে যান। ঘটনার সময় কেয়ারটেকার বাড়িতে ছিল না। রাতের বৃষ্টির মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ৬ মাসে সারাদেশে ৪ হাজার ৭৫৭টি চুরির ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত বাড়ছে চুরি।
গত জুন মাসে রাজধানীতে ৯৭টি চুরির মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনে ১৯টি, খুলনা মেট্রোপলিটনে ১৩টি, রাজশাহী মেট্রোপলিটনে ১৬টি, বরিশাল মেট্রোপলিটনে ৫টি, সিলেট মেট্রোপলিটনে ১৬টি, রংপুর মেট্রোপলিটনে ১৫টি ও গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ২৩টি মামলা হয়।
বিভাগভিত্তিক চিত্র দেখা গেছে, বিভাগের ঢাকায় ১১৪, ময়মনসিংহ ৪২, চট্টগ্রাম ১২৩, সিলেট ৫৮, খুলনা ৯১, বরিশাল ২৮, রাজশাহী ৮৩, রংপুর ৭৮ ও রেল পুলিশ বিভাগে ৮টি মামলা হয়েছে। এক মাসে মোট ৮২৯টি চুরির মামলা রেকর্ড হয়েছে। গত ৫ মাসে প্রতি মাসে গড়ে ৮০০-এর বেশি মামলা হয়েছে। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই ৬৩৪টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছু দিন ধরে গ্রাম-গঞ্জে চুরির ঘটনা বাড়ছে। সংঘবদ্ধ মাদকাসক্ত ও অনলাইনে জুয়া খেলা ব্যক্তিরা টাকার জন্য চুরি করছে। ইয়াবা এখন গ্রামের বাজার থেকে পাড়া-মহল্লায়ও বিক্রি হচ্ছে।
পুলিশের একজন অপরাধ বিশেষজ্ঞের মতে, দেশে সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। কম শিক্ষিত, বেশি শিক্ষিত- এমনকি যাদের কাজ নেই, তারা এখন চুরিকে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। যারা জুয়া খেলে টাকা নষ্ট করছে, তাদের হাতে টাকা নেই। তাই টাকা সংগ্রহ করতে চুরিকে তারা সহজ পন্থা হিসেবে দেখছে।
আবার অনেকে উগ্র মানসিকতার কারণে স্থানীয় প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় চুরি করে টাকা কামাই করার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ প্রতিহিংসার কারণেও এসব কাজ করছে। কাঁচ, থাই গ্লাস, ঘরের বাইরের ঘটি-বাটি সহজেই ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা যায়। চুরির ঘটনায় তাদের সম্পর্ক থাকতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, বেকার মানুষের অর্থ সংকট তাদের চুরিকে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য করছে। বর্ষাকালের বৈরী আবহাওয়ায় চোর সহজেই চুরি করে পালাতে পারে। শহরের চেয়ে গ্রাম-গঞ্জেই এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিজেদের ঘর-বাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তার উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে চোরদল সহজে চুরি করতে না পারে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি মামলার ঘটনা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। মামলা হলে পুলিশ তদন্ত করে আসামি গ্রেপ্তার করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন