সংবাদ

মধুপুরে কাঁচা সড়ক যেন মরণফাঁদ, চরম দুর্ভোগে ১২ গ্রাম


হাবিবুর রহমান, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
হাবিবুর রহমান, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

মধুপুরে কাঁচা সড়ক যেন মরণফাঁদ, চরম দুর্ভোগে ১২ গ্রাম
ছবি : সংবাদ

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গারো অধ্যুষিত এলাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম টেলকি-কাকড়াগুণী সড়ক। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদা আর খানাখন্দে একাকার হয়ে যাওয়ায় ১২টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সড়কটির বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেলকি থেকে কাকড়াগুণী হয়ে দোখলা ও সাধুপাড়া গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পাকা বা সম্প্রসারণ না হওয়ায় অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কাকড়াগুণী গ্রামের লাজারুশ সিমসাং (৫৫) জানান, এলাকাটি মূলত কৃষিনির্ভর। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা সংকটে কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘শিশুদের স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। কেউ অসুস্থ হলে ২৫ কিলোমিটার ঘুরে মুক্তাগাছার গাবতলি হয়ে মধুপুর হাসপাতালে যেতে হয়। রাস্তার কারণে সঠিক চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালেস মাঝি (৪৫) জানান, এ এলাকায় গারো সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। অনুন্নত যোগাযোগের কারণে তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন।

তার মতে, কাকড়াগুণী বাজার থেকে সাধুপাড়া দেড় কিমি, লাজারুশের বাড়ি থেকে দোখলা পর্যন্ত ৩ কিমি এবং টেলকি বাজার পর্যন্ত ৪ কিমি সড়ক দ্রুত পাকাকরণ জরুরি।

কৃষক বাবুল মানখিন ও সঞ্জয় সিমসাং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে ফল বাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়, রাস্তার কারণে পাইকাররা তা বাগান থেকে ৩০ টাকায় কিনছেন। পণ্য পরিবহনে খরচ অনেক বেশি। আমাদের উৎপাদিত আনারস সারা দেশে গেলেও আমরা লাভের মুখ দেখছি না।’

বিরাশ নেকলা ও বিনোদিনী মানখিন জানান, কাদার কারণে উপাসনালয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই জনপদের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব নয়।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ‘লাল মাটির এলাকা হওয়ায় বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচ অনেক বেড়ে যায় এবং কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। সড়কটি পাকা হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে।’

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, ‘টেলকি-কাকড়াগুণীসহ স্থানীয় অন্যান্য সড়কের বরাদ্দের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


মধুপুরে কাঁচা সড়ক যেন মরণফাঁদ, চরম দুর্ভোগে ১২ গ্রাম

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গারো অধ্যুষিত এলাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম টেলকি-কাকড়াগুণী সড়ক। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদা আর খানাখন্দে একাকার হয়ে যাওয়ায় ১২টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সড়কটির বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টেলকি থেকে কাকড়াগুণী হয়ে দোখলা ও সাধুপাড়া গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পাকা বা সম্প্রসারণ না হওয়ায় অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কাকড়াগুণী গ্রামের লাজারুশ সিমসাং (৫৫) জানান, এলাকাটি মূলত কৃষিনির্ভর। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা সংকটে কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘শিশুদের স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। কেউ অসুস্থ হলে ২৫ কিলোমিটার ঘুরে মুক্তাগাছার গাবতলি হয়ে মধুপুর হাসপাতালে যেতে হয়। রাস্তার কারণে সঠিক চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালেস মাঝি (৪৫) জানান, এ এলাকায় গারো সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। অনুন্নত যোগাযোগের কারণে তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন।

তার মতে, কাকড়াগুণী বাজার থেকে সাধুপাড়া দেড় কিমি, লাজারুশের বাড়ি থেকে দোখলা পর্যন্ত ৩ কিমি এবং টেলকি বাজার পর্যন্ত ৪ কিমি সড়ক দ্রুত পাকাকরণ জরুরি।

কৃষক বাবুল মানখিন ও সঞ্জয় সিমসাং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে ফল বাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়, রাস্তার কারণে পাইকাররা তা বাগান থেকে ৩০ টাকায় কিনছেন। পণ্য পরিবহনে খরচ অনেক বেশি। আমাদের উৎপাদিত আনারস সারা দেশে গেলেও আমরা লাভের মুখ দেখছি না।’

বিরাশ নেকলা ও বিনোদিনী মানখিন জানান, কাদার কারণে উপাসনালয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই জনপদের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব নয়।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ‘লাল মাটির এলাকা হওয়ায় বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচ অনেক বেড়ে যায় এবং কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। সড়কটি পাকা হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে।’

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, ‘টেলকি-কাকড়াগুণীসহ স্থানীয় অন্যান্য সড়কের বরাদ্দের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত