পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা সমতল অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা থেকে ভিন্ন। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ভূমি জরিপ হয়নি। ফলে সেখানে সিএস, এমআরআর/এসএ বা আরএস—কোনো খতিয়ানই প্রস্তুত হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বংশপরম্পরায় দখলস্বত্বের ভিত্তিতে ভূমি ব্যবহার করে আসছেন। যদিও তিন জেলায় জেলা প্রশাসক রয়েছেন।
এ কারণে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠ-এর শিরোনাম ছিল, ‘পার্বত্য এলাকায় ভূমি জরিপ ও খতিয়ানের পূর্ণাঙ্গ আইন হচ্ছে’। পার্বত্য অঞ্চলে রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারবারি রাজতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে খাজনা সংগ্রহ করেন এবং তা হেডম্যানের কাছে জমা দেন। হেডম্যান আবার তা রাজার রাজস্ব আদায়কারী ব্যক্তির কাছে জমা দেন। রাঙামাটি জেলায় চাকমা সার্কেল বা চাকমা রাজা রয়েছেন।
অন্যদিকে, সমতল অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য দীর্ঘদিনের আইন রয়েছে। সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব ১৮৫৫-৫৬ সালে ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলেন। ইতিহাসে এ সংগ্রাম ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ সরকার কঠোর হাতে এ বিদ্রোহ দমন করে এবং সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরবসহ অনেককে ফাঁসি দেয়। পরবর্তী সময়ে ১৮৮৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বেঙ্গল টেন্যান্সি আইন প্রণয়ন করে। এ আইনের ৪৯ ধারায় আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমি-অধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে সিএস রেকর্ড প্রস্তুত হয়।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস করে। এর মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়। ওই আইনের ৯৭ ধারায় আদিবাসীদের ভূমি হস্তান্তরের ওপর বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। এরপর পূর্ব পাকিস্তান সরকার ভূমি জরিপ শুরু করে। এ সময় প্রস্তুত করা হয় এসএ খতিয়ান। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৫ সালে দেশে নতুন করে ভূমি জরিপ শুরু হয়। এর নাম আরএস খতিয়ান; একে মাঠ খতিয়ানও বলা হয়।
সমতল অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে প্রস্তুত করা খতিয়ানের মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের সিএস বা ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে, পাকিস্তান আমলের এসএ বা স্টেট অ্যাকুইজিশন এবং বাংলাদেশ আমলের আরএস বা রিভিশনাল সার্ভে। কেউ কেউ বাংলাদেশ সার্ভেকে সংক্ষেপে বিএস খতিয়ানও বলে থাকেন।
আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও ভূমি সমস্যা প্রধান। ভূমির অধিকার নিয়ে তাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের সময় থেকে শুরু হয়ে এখনো পরিলক্ষিত হয়।
২০০০ সালের ১৮ আগস্ট নওগাঁ জেলার ভীমপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পল্লিতে ভূমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে আলফ্রেড সরেন নিহত হন। পল্লবীর ১১টি পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। ভূমি জবরদখলকারীদের হামলায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ৩০ জন আহত হন। কিন্তু নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের মামলাটি ২৬ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বন্দুকের গুলিতে মিঠুন ওরাঁও (১২) নামের এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কিশোর নিহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ১৬ জনকে আটক করেছে বলে জানা যায়। যে বন্দুক দিয়ে গুলি করা হয়েছিল, সেটিও জব্দ করা হয়েছে।
গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকলের ১ হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর সম্পত্তি নিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে বিরোধের সূত্র ধরে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাঁওতালদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মারডি ও রমেশ টুডু নিহত হন। এ ছাড়া হামলা, মারধর, বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আলামত ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় বিচার কার্যক্রম চলমান।
বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে খাস জলমহাল বরাদ্দের দাবিতে আদিবাসীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও, ভূমি হারানোর আতঙ্ক, উচ্ছেদের আশঙ্কা এবং জমি দখলমুক্ত করতে না পেরে আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যার মতো ঘটনাও সংবাদপত্রে এসেছে। এসব ঘটনা থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমি সমস্যার গভীরতা সহজেই বোঝা যায়।
১৯৬৪ সালে তৎকালীন সরকার স্থাপনাসহ প্রায় ২৫ কাঠা জমি সাগরাম মাঝি ও তাঁর নামে একটি ছাত্রাবাসের জন্য বরাদ্দ দেয়। রাজশাহী নগরের সাগরপাড়া মহল্লায় অবস্থিত সাগরাম মাঝি আদিবাসী ছাত্রাবাসে বহু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি মহল ওই জমি দখলে তৎপর হয়ে উঠেছে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ভূমি সমস্যা দিন দিন জটিল হচ্ছে। তাদের ভূমি রক্ষার জন্য বিভিন্ন আইন ও বিধান থাকলেও ভূমিদস্যুরা সেসবের তোয়াক্কা করছে না। ভুয়া, তঞ্চকতাপূর্ণ ও মিথ্যা দলিল কিংবা অনুমোদনহীন কাগজপত্র তৈরি করে জমি জবরদখলের অভিযোগ রয়েছে।
ভূমি রক্ষা ও উদ্ধারের জন্য জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি, গণকপাড়া, সাহেববাজার, রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমা ও বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটি ১৯৯৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। ভূমি সমস্যা সমাধান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও টিকে থাকার লক্ষ্যে তাদের এ সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। অনেক জ্ঞানী-গুণী, চিন্তাবিদ ও গবেষক মনে করেন, ভূমি সমস্যা সমাধান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য জাতীয় আদিবাসী পরিষদের এই সংগ্রাম প্রশংসার দাবিদার।
(লেখকের নিজস্ব মত)
[লেখক: আইনজীবী, জজ কোর্ট, জয়পুরহাট]

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা সমতল অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা থেকে ভিন্ন। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ভূমি জরিপ হয়নি। ফলে সেখানে সিএস, এমআরআর/এসএ বা আরএস—কোনো খতিয়ানই প্রস্তুত হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বংশপরম্পরায় দখলস্বত্বের ভিত্তিতে ভূমি ব্যবহার করে আসছেন। যদিও তিন জেলায় জেলা প্রশাসক রয়েছেন।
এ কারণে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠ-এর শিরোনাম ছিল, ‘পার্বত্য এলাকায় ভূমি জরিপ ও খতিয়ানের পূর্ণাঙ্গ আইন হচ্ছে’। পার্বত্য অঞ্চলে রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারবারি রাজতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে খাজনা সংগ্রহ করেন এবং তা হেডম্যানের কাছে জমা দেন। হেডম্যান আবার তা রাজার রাজস্ব আদায়কারী ব্যক্তির কাছে জমা দেন। রাঙামাটি জেলায় চাকমা সার্কেল বা চাকমা রাজা রয়েছেন।
অন্যদিকে, সমতল অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য দীর্ঘদিনের আইন রয়েছে। সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব ১৮৫৫-৫৬ সালে ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলেন। ইতিহাসে এ সংগ্রাম ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ সরকার কঠোর হাতে এ বিদ্রোহ দমন করে এবং সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরবসহ অনেককে ফাঁসি দেয়। পরবর্তী সময়ে ১৮৮৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বেঙ্গল টেন্যান্সি আইন প্রণয়ন করে। এ আইনের ৪৯ ধারায় আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমি-অধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে সিএস রেকর্ড প্রস্তুত হয়।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস করে। এর মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়। ওই আইনের ৯৭ ধারায় আদিবাসীদের ভূমি হস্তান্তরের ওপর বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। এরপর পূর্ব পাকিস্তান সরকার ভূমি জরিপ শুরু করে। এ সময় প্রস্তুত করা হয় এসএ খতিয়ান। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৫ সালে দেশে নতুন করে ভূমি জরিপ শুরু হয়। এর নাম আরএস খতিয়ান; একে মাঠ খতিয়ানও বলা হয়।
সমতল অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে প্রস্তুত করা খতিয়ানের মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের সিএস বা ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে, পাকিস্তান আমলের এসএ বা স্টেট অ্যাকুইজিশন এবং বাংলাদেশ আমলের আরএস বা রিভিশনাল সার্ভে। কেউ কেউ বাংলাদেশ সার্ভেকে সংক্ষেপে বিএস খতিয়ানও বলে থাকেন।
আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও ভূমি সমস্যা প্রধান। ভূমির অধিকার নিয়ে তাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের সময় থেকে শুরু হয়ে এখনো পরিলক্ষিত হয়।
২০০০ সালের ১৮ আগস্ট নওগাঁ জেলার ভীমপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পল্লিতে ভূমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে আলফ্রেড সরেন নিহত হন। পল্লবীর ১১টি পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। ভূমি জবরদখলকারীদের হামলায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ৩০ জন আহত হন। কিন্তু নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের মামলাটি ২৬ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বন্দুকের গুলিতে মিঠুন ওরাঁও (১২) নামের এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কিশোর নিহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ১৬ জনকে আটক করেছে বলে জানা যায়। যে বন্দুক দিয়ে গুলি করা হয়েছিল, সেটিও জব্দ করা হয়েছে।
গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকলের ১ হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর সম্পত্তি নিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে বিরোধের সূত্র ধরে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাঁওতালদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মারডি ও রমেশ টুডু নিহত হন। এ ছাড়া হামলা, মারধর, বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আলামত ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় বিচার কার্যক্রম চলমান।
বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে খাস জলমহাল বরাদ্দের দাবিতে আদিবাসীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও, ভূমি হারানোর আতঙ্ক, উচ্ছেদের আশঙ্কা এবং জমি দখলমুক্ত করতে না পেরে আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যার মতো ঘটনাও সংবাদপত্রে এসেছে। এসব ঘটনা থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমি সমস্যার গভীরতা সহজেই বোঝা যায়।
১৯৬৪ সালে তৎকালীন সরকার স্থাপনাসহ প্রায় ২৫ কাঠা জমি সাগরাম মাঝি ও তাঁর নামে একটি ছাত্রাবাসের জন্য বরাদ্দ দেয়। রাজশাহী নগরের সাগরপাড়া মহল্লায় অবস্থিত সাগরাম মাঝি আদিবাসী ছাত্রাবাসে বহু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি মহল ওই জমি দখলে তৎপর হয়ে উঠেছে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ভূমি সমস্যা দিন দিন জটিল হচ্ছে। তাদের ভূমি রক্ষার জন্য বিভিন্ন আইন ও বিধান থাকলেও ভূমিদস্যুরা সেসবের তোয়াক্কা করছে না। ভুয়া, তঞ্চকতাপূর্ণ ও মিথ্যা দলিল কিংবা অনুমোদনহীন কাগজপত্র তৈরি করে জমি জবরদখলের অভিযোগ রয়েছে।
ভূমি রক্ষা ও উদ্ধারের জন্য জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি, গণকপাড়া, সাহেববাজার, রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমা ও বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটি ১৯৯৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। ভূমি সমস্যা সমাধান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও টিকে থাকার লক্ষ্যে তাদের এ সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। অনেক জ্ঞানী-গুণী, চিন্তাবিদ ও গবেষক মনে করেন, ভূমি সমস্যা সমাধান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য জাতীয় আদিবাসী পরিষদের এই সংগ্রাম প্রশংসার দাবিদার।
(লেখকের নিজস্ব মত)
[লেখক: আইনজীবী, জজ কোর্ট, জয়পুরহাট]

আপনার মতামত লিখুন