সংবাদ

অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় প্রতি মাসে হতো ২০-২২টি ডিজে পার্টি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পিএম

অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় প্রতি মাসে হতো ২০-২২টি ডিজে পার্টি
ছবি : সংগৃহীত

  • অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে বসেছিল মাদক ও অসামাজিকতার আসর
  • অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারসহ আটক ৮৪
  • ছেলেদের এক মাস আর মেয়েদের হলো ১৫ দিনের কারাদণ্ড

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বিলাসবহুল বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি জমজমাট ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে অত্যন্ত গোপনে এসব ‘অবৈধ’ আয়োজন চললেও সম্প্রতি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

ডিসি ইলিয়াস কবির গণমাধ্যমকে জানান, ঊর্ধ্বতন মহলের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য পাওয়ার পর সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভবনটিতে প্রবেশ করার পরেই সেখানে ডিজে পার্টির দৃশ্য চোখে পড়ে। ভেতরে তখন অত্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজছিল এবং সিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ঘন ধোঁয়ায় পুরোপুরি আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ওই পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের একটি বড় অংশে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও ব্যাংকার ও নানা পেশার তরুণরা জড়িত ছিলেন।

অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে ২৬ জন তরুণী উপস্থিত ছিলেন যাদের অধিকাংশের বয়স মাত্র ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও ওই পার্টিতে আটক হয়েছেন। তল্লাশির সময় ঘটনাস্থল থেকে মদের তিনটি বোতল, ইয়াবা ও কুশ নামের একটি ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের যৌনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করতেই পার্টি বন্ধ হয়ে যায় এবং ভয়ে উপস্থিত সবাই তড়িঘড়ি করে ভবনের পাঁচটি ভিন্ন কক্ষে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

মাসিক আয় ও পরিচালনা পদ্ধতি সম্পর্কে ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব পার্টির আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমেই কেবল অংশগ্রহণকারীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন।

প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন করা হতো এবং প্রতিটি আয়োজনের জন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা করে নেওয়া হতো বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এর পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া বাবদ বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এই ডিএমপি কর্মকর্তা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে ছেলেদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিনের কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আটক মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিনদিন কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় প্রতি মাসে হতো ২০-২২টি ডিজে পার্টি

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে বসেছিল মাদক ও অসামাজিকতার আসর
  • অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারসহ আটক ৮৪
  • ছেলেদের এক মাস আর মেয়েদের হলো ১৫ দিনের কারাদণ্ড

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বিলাসবহুল বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি জমজমাট ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে অত্যন্ত গোপনে এসব ‘অবৈধ’ আয়োজন চললেও সম্প্রতি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

ডিসি ইলিয়াস কবির গণমাধ্যমকে জানান, ঊর্ধ্বতন মহলের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য পাওয়ার পর সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভবনটিতে প্রবেশ করার পরেই সেখানে ডিজে পার্টির দৃশ্য চোখে পড়ে। ভেতরে তখন অত্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজছিল এবং সিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ঘন ধোঁয়ায় পুরোপুরি আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ওই পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের একটি বড় অংশে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও ব্যাংকার ও নানা পেশার তরুণরা জড়িত ছিলেন।

অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে ২৬ জন তরুণী উপস্থিত ছিলেন যাদের অধিকাংশের বয়স মাত্র ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও ওই পার্টিতে আটক হয়েছেন। তল্লাশির সময় ঘটনাস্থল থেকে মদের তিনটি বোতল, ইয়াবা ও কুশ নামের একটি ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের যৌনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করতেই পার্টি বন্ধ হয়ে যায় এবং ভয়ে উপস্থিত সবাই তড়িঘড়ি করে ভবনের পাঁচটি ভিন্ন কক্ষে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

মাসিক আয় ও পরিচালনা পদ্ধতি সম্পর্কে ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব পার্টির আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমেই কেবল অংশগ্রহণকারীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন।

প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন করা হতো এবং প্রতিটি আয়োজনের জন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা করে নেওয়া হতো বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এর পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া বাবদ বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এই ডিএমপি কর্মকর্তা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে ছেলেদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিনের কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আটক মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিনদিন কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত