সংবাদ

হারিয়ে গেছে পরীমনির জন্মদিনের সেই জৌলুশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

হারিয়ে গেছে পরীমনির জন্মদিনের সেই জৌলুশ
ছবি : সংগৃহীত

একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্মদিন মানেই ছিল এক অন্যরকম চোখধাঁধানো আয়োজন। পাঁচতারা হোটেলের বর্ণিল পরিবেশ, চমৎকার থিম, নান্দনিক পোশাক, জমকালো কেক কাটা আর দেশের নামী-দামি তারকাদের সরব উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল উৎসবমুখর হয়ে উঠত।

তবে সময়ের সাথে সাথে পরীমনির সেই বর্ণিল জন্মদিনের জৌলুশে এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে তার প্রিয় নানার প্রয়াণের পর থেকে তিনি আর কখনো আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণভাবে জন্মদিন উদযাপন করেন না।

১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। পিরোজপুরের শঙ্করপাশা গ্রামে কেটেছে তার শৈশবের দিনগুলো। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারালে বাবা মনিরুল ইসলাম তাকে পিরোজপুরে নানাবাড়িতে রেখে আসেন। সেখানে নানা শামসুল হক গাজীর পরম স্নেহে বেড়ে ওঠেন তিনি।

২০২৩ সালে সেই ছায়াসঙ্গী নানাকে চিরতরে হারানোর পরই পরীমনির জীবনধারায় এবং জন্মদিন উদযাপনের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আসে। বিশেষ ওই দিনটিতে আর কোনো বড় উৎসব বা কেক কাটার কথা তিনি ভাবতে পারেন না।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পরীমনি বলেন, ‘নানু ভাই যাওয়ার পরে আসলে আমি বার্থডে কখনো সেলিব্রেটই করি নাই। আমার মাথায় আসে নাই যে আমি নানু ভাইকে ছাড়া কেক কাটবো, সবাইকে নিয়ে হইচই করবো সেটা আমার মাথায় আসে নাই একদমই।’

তবে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এবার জন্মদিনে কাছের কিছু মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন এই তারকা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার মনে হয় একটু সবাই একসাথে একটা সন্ধ্যা... আপনারা যারা আছেন, আমার কাছের প্রিয় মানুষজন, তাদেরকে নিয়ে একটুখানি একটা সন্ধ্যা তো কাটাতেই পারি।’

ব্যক্তিগত জীবনের এসব অনুভূতির পাশাপাশি পরীমনির রূপালী পর্দার যাত্রা বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে তিনি প্রথমে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শিখতে ভর্তি হন। বিভিন্ন মঞ্চ অনুষ্ঠানে নাচের মাধ্যমে অভিনয়ের সুযোগ পান টেলিভিশন নাটকে। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’, ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’ ও ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে নজর কাড়েন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে শাহ আলম মণ্ডলের পরিচালনায় ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। যদিও এর আগে নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় ‘রানা প্লাজা’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেও নানা জটিলতার কারণে ছবিটি মুক্তি পায়নি।

কেরিয়ারের শুরুর দিকে রোমান্টিক চরিত্রে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পরীমনি। সে সময় অল্পদিনের মধ্যে প্রায় দুই ডজন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দেন তিনি। যদিও এর অনেক সিনেমা শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি।

এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন এই অভিনেত্রী। ‘রূপবান’ চলচ্চিত্রে গ্রামীণ তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করে গ্ল্যামারের বাইরেও নিজের সংবেদনশীল অভিনয়ের পরিচয় দেন। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় রূপা চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।

‘বিশ্বসুন্দরী’তে তৃষ্ণা এবং ‘গুণিন’ সিনেমায় বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘মা’ সিনেমায় সন্তান হারানো এক মায়ের যন্ত্রণা ও সংগ্রামের আবেগ ফুটিয়ে তুলে নিজের অভিনয়জীবনে যোগ করেন ভিন্ন এক অধ্যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


হারিয়ে গেছে পরীমনির জন্মদিনের সেই জৌলুশ

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্মদিন মানেই ছিল এক অন্যরকম চোখধাঁধানো আয়োজন। পাঁচতারা হোটেলের বর্ণিল পরিবেশ, চমৎকার থিম, নান্দনিক পোশাক, জমকালো কেক কাটা আর দেশের নামী-দামি তারকাদের সরব উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল উৎসবমুখর হয়ে উঠত।

তবে সময়ের সাথে সাথে পরীমনির সেই বর্ণিল জন্মদিনের জৌলুশে এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে তার প্রিয় নানার প্রয়াণের পর থেকে তিনি আর কখনো আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণভাবে জন্মদিন উদযাপন করেন না।

১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। পিরোজপুরের শঙ্করপাশা গ্রামে কেটেছে তার শৈশবের দিনগুলো। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারালে বাবা মনিরুল ইসলাম তাকে পিরোজপুরে নানাবাড়িতে রেখে আসেন। সেখানে নানা শামসুল হক গাজীর পরম স্নেহে বেড়ে ওঠেন তিনি।

২০২৩ সালে সেই ছায়াসঙ্গী নানাকে চিরতরে হারানোর পরই পরীমনির জীবনধারায় এবং জন্মদিন উদযাপনের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আসে। বিশেষ ওই দিনটিতে আর কোনো বড় উৎসব বা কেক কাটার কথা তিনি ভাবতে পারেন না।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পরীমনি বলেন, ‘নানু ভাই যাওয়ার পরে আসলে আমি বার্থডে কখনো সেলিব্রেটই করি নাই। আমার মাথায় আসে নাই যে আমি নানু ভাইকে ছাড়া কেক কাটবো, সবাইকে নিয়ে হইচই করবো সেটা আমার মাথায় আসে নাই একদমই।’

তবে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এবার জন্মদিনে কাছের কিছু মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন এই তারকা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার মনে হয় একটু সবাই একসাথে একটা সন্ধ্যা... আপনারা যারা আছেন, আমার কাছের প্রিয় মানুষজন, তাদেরকে নিয়ে একটুখানি একটা সন্ধ্যা তো কাটাতেই পারি।’

ব্যক্তিগত জীবনের এসব অনুভূতির পাশাপাশি পরীমনির রূপালী পর্দার যাত্রা বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে তিনি প্রথমে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শিখতে ভর্তি হন। বিভিন্ন মঞ্চ অনুষ্ঠানে নাচের মাধ্যমে অভিনয়ের সুযোগ পান টেলিভিশন নাটকে। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’, ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’ ও ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে নজর কাড়েন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে শাহ আলম মণ্ডলের পরিচালনায় ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। যদিও এর আগে নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় ‘রানা প্লাজা’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেও নানা জটিলতার কারণে ছবিটি মুক্তি পায়নি।

কেরিয়ারের শুরুর দিকে রোমান্টিক চরিত্রে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পরীমনি। সে সময় অল্পদিনের মধ্যে প্রায় দুই ডজন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দেন তিনি। যদিও এর অনেক সিনেমা শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি।

এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন এই অভিনেত্রী। ‘রূপবান’ চলচ্চিত্রে গ্রামীণ তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করে গ্ল্যামারের বাইরেও নিজের সংবেদনশীল অভিনয়ের পরিচয় দেন। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় রূপা চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।

‘বিশ্বসুন্দরী’তে তৃষ্ণা এবং ‘গুণিন’ সিনেমায় বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘মা’ সিনেমায় সন্তান হারানো এক মায়ের যন্ত্রণা ও সংগ্রামের আবেগ ফুটিয়ে তুলে নিজের অভিনয়জীবনে যোগ করেন ভিন্ন এক অধ্যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত