হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরতি প্রবাসীদের লাগেজ চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত চক্র বিমানবন্দরে সক্রিয় থেকে যাত্রীদের অমনোযোগিতার সুযোগে মূল্যবান মালামাল নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছিল। সম্প্রতি এই চুরির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর ওমান থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে আসা তিন যাত্রী—মোহাম্মদ হাসান, সাদিক রহমান ও মো. রাকিবের তিনটি লাগেজ চুরি হয়। এ নিয়ে এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি মোঘল অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওমান থেকে আসা ওই ফ্লাইটের যাত্রী জসিমকে চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শনাক্ত করে এপিবিএন। পরে এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি মোঘল বাদী হয়ে গত ২০ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় জসিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে চুরি হওয়া তিনটি লাগেজে প্রায় ৭৫ হাজার টাকার মালামাল ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চক্রটি মূলত ফিরতি প্রবাসীদের টার্গেট করে। বিমানবন্দরে অবতরণের পর যাত্রীরা লাগেজ বেল্টে মালামালের অপেক্ষায় থাকেন। এ সময় যাত্রীদের অমনোযোগিতার সুযোগ নিয়ে চক্রের সদস্যরা একজনের লাগেজ অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলে অথবা নিজেদের ব্যাগের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে বেরিয়ে যায়।
এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়, একই ফ্লাইটের যাত্রী পরিচয় দিয়ে চক্রের সদস্যরা লাগেজ বেল্টের কাছে ঘোরাফেরা করে। যাত্রীদের মধ্যে যারা প্রথমবার বিদেশ থেকে আসছেন বা ক্লান্ত থাকছেন, তাদেরকেই মূলত সহজ টার্গেট বানানো হয়।
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অধিনায়ক (সিও) মো. বশির আহমেদ জানান, শুধু জসিম নয়, সাম্প্রতিক অভিযানে সন্দেহজনক ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে কাজ করে। একজনের মালামাল অন্যজন চুরি করে। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর এপিবিএনের টিম নজরদারি বাড়িয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত আছে।
বিমানবন্দর থানা এবং চাঁদপুরের কচুয়া থানার সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে কচুয়া থেকে মামলার আসামি জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরি হওয়া তিনটি লাগেজও উদ্ধার করা হয়েছে।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, বিমানবন্দর এলাকায় চুরিসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে তারা বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ, জনহয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড, চুরি ও চোরাচালান প্রতিরোধে এপিবিএনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামি শনাক্ত
তবে এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর এপিবিএন জানিয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরার নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।লাগেজ বেল্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এর আগেও বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নানা ছদ্মবেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছিল এপিবিএন। এখন এই চুরির ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে নজর দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরতি প্রবাসীদের লাগেজ চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত চক্র বিমানবন্দরে সক্রিয় থেকে যাত্রীদের অমনোযোগিতার সুযোগে মূল্যবান মালামাল নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছিল। সম্প্রতি এই চুরির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর ওমান থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে আসা তিন যাত্রী—মোহাম্মদ হাসান, সাদিক রহমান ও মো. রাকিবের তিনটি লাগেজ চুরি হয়। এ নিয়ে এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি মোঘল অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওমান থেকে আসা ওই ফ্লাইটের যাত্রী জসিমকে চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শনাক্ত করে এপিবিএন। পরে এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি মোঘল বাদী হয়ে গত ২০ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় জসিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে চুরি হওয়া তিনটি লাগেজে প্রায় ৭৫ হাজার টাকার মালামাল ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চক্রটি মূলত ফিরতি প্রবাসীদের টার্গেট করে। বিমানবন্দরে অবতরণের পর যাত্রীরা লাগেজ বেল্টে মালামালের অপেক্ষায় থাকেন। এ সময় যাত্রীদের অমনোযোগিতার সুযোগ নিয়ে চক্রের সদস্যরা একজনের লাগেজ অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলে অথবা নিজেদের ব্যাগের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে বেরিয়ে যায়।
এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়, একই ফ্লাইটের যাত্রী পরিচয় দিয়ে চক্রের সদস্যরা লাগেজ বেল্টের কাছে ঘোরাফেরা করে। যাত্রীদের মধ্যে যারা প্রথমবার বিদেশ থেকে আসছেন বা ক্লান্ত থাকছেন, তাদেরকেই মূলত সহজ টার্গেট বানানো হয়।
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অধিনায়ক (সিও) মো. বশির আহমেদ জানান, শুধু জসিম নয়, সাম্প্রতিক অভিযানে সন্দেহজনক ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে কাজ করে। একজনের মালামাল অন্যজন চুরি করে। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর এপিবিএনের টিম নজরদারি বাড়িয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত আছে।
বিমানবন্দর থানা এবং চাঁদপুরের কচুয়া থানার সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে কচুয়া থেকে মামলার আসামি জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরি হওয়া তিনটি লাগেজও উদ্ধার করা হয়েছে।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, বিমানবন্দর এলাকায় চুরিসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে তারা বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ, জনহয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড, চুরি ও চোরাচালান প্রতিরোধে এপিবিএনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামি শনাক্ত
তবে এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর এপিবিএন জানিয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরার নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।লাগেজ বেল্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এর আগেও বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নানা ছদ্মবেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছিল এপিবিএন। এখন এই চুরির ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে নজর দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন