সংবাদ

প্রতি দুই মেয়ের মধ্যে একজনের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ পিএম

প্রতি দুই মেয়ের মধ্যে একজনের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়
ছবি : সংগৃহীত

  • বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের জোর তাগিদ
  • বাল্যবিবাহ রোধ ও শিক্ষায় বাজেট বাড়ানোর আহ্বান
  • রোহিঙ্গা শিশুদের মানবিক সহায়তা বজায় রাখার আকুল আবেদন

বাংলাদেশে প্রায় প্রতি দুইজন মেয়ের মধ্যে একজনের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়, যা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এদের একজন হতে পারতেন বুশরা, যার মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই বিয়ে দেওয়া ঠেকাতে এগিয়ে আসে ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা। তারা বুশরার বাবার সঙ্গে কাজ করে শেষ পর্যন্ত সেই বাল্যবিবাহ বন্ধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বাংলাদেশে তিন দিনের সফরে এসে বুশরার মতো আরও অনেক শিশুর অভিজ্ঞতা ও কষ্টের কথা সরাসরি শুনেছেন। তিন দিনের সফর শেষে তিনি বাংলাদেশের শিশুদের জন্য জরুরি ও টেকসই বিনিয়োগের আকুল আহ্বান জানান।

সফরকালে ক্যাথরিন রাসেল তিনটি বিশেষ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এগুলো হলো বাল্যবিবাহ বন্ধ করা ও মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির ৫ শতাংশ করে বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়ন করা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, ‘মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে তাদের, তাদের সম্প্রদায়ের এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।’

ঢাকার বৃহত্তম অনানুষ্ঠানিক বসতি কড়াইল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি শিশু ও অভিভাবকদের কাছ থেকে সরাসরি জানতে পারেন দারিদ্র্য, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া এবং মৌলিক সেবার সীমাবদ্ধতা কীভাবে তাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে। সেখানে কিশোরীরা নিজেদের স্বপ্নের কথা বলার পাশাপাশি অল্প বয়সে বিয়ে ও স্কুল ছাড়ার নানাবিধ চাপের কথা তুলে ধরে।

বাংলাদেশ মাল্টিপল নির্দেশক ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে ইউনিসেফ জানায়, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় অর্ধেকের অর্থাৎ ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছে। বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা চিরতরে বন্ধ হয় এবং অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহের আইনি ফাঁকফোকর বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়ে ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘বাজেটই অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটায়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।’

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে ইউনিসেফ প্রধান বলেন, ‘সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। তারা তাদের শিক্ষার সুযোগটুকুও হারাতে পারে না। তাদের এবং যেসব জনগোষ্ঠী তাদের আশ্রয় দিয়েছে, সেসব জনগোষ্ঠীর জন্যও বিশ্বকে বিনিয়োগ করতে হবে।’

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আর্থিক সহায়তা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়ার এই সংকটময় সময়ে জরুরি সেবাগুলো সুরক্ষিত রাখতে এবং শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের পিছিয়ে পড়া ঠেকাতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সাহায্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


প্রতি দুই মেয়ের মধ্যে একজনের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের জোর তাগিদ
  • বাল্যবিবাহ রোধ ও শিক্ষায় বাজেট বাড়ানোর আহ্বান
  • রোহিঙ্গা শিশুদের মানবিক সহায়তা বজায় রাখার আকুল আবেদন

বাংলাদেশে প্রায় প্রতি দুইজন মেয়ের মধ্যে একজনের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়, যা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এদের একজন হতে পারতেন বুশরা, যার মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই বিয়ে দেওয়া ঠেকাতে এগিয়ে আসে ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা। তারা বুশরার বাবার সঙ্গে কাজ করে শেষ পর্যন্ত সেই বাল্যবিবাহ বন্ধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বাংলাদেশে তিন দিনের সফরে এসে বুশরার মতো আরও অনেক শিশুর অভিজ্ঞতা ও কষ্টের কথা সরাসরি শুনেছেন। তিন দিনের সফর শেষে তিনি বাংলাদেশের শিশুদের জন্য জরুরি ও টেকসই বিনিয়োগের আকুল আহ্বান জানান।

সফরকালে ক্যাথরিন রাসেল তিনটি বিশেষ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এগুলো হলো বাল্যবিবাহ বন্ধ করা ও মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির ৫ শতাংশ করে বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়ন করা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, ‘মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে তাদের, তাদের সম্প্রদায়ের এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।’

ঢাকার বৃহত্তম অনানুষ্ঠানিক বসতি কড়াইল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি শিশু ও অভিভাবকদের কাছ থেকে সরাসরি জানতে পারেন দারিদ্র্য, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া এবং মৌলিক সেবার সীমাবদ্ধতা কীভাবে তাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে। সেখানে কিশোরীরা নিজেদের স্বপ্নের কথা বলার পাশাপাশি অল্প বয়সে বিয়ে ও স্কুল ছাড়ার নানাবিধ চাপের কথা তুলে ধরে।

বাংলাদেশ মাল্টিপল নির্দেশক ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে ইউনিসেফ জানায়, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় অর্ধেকের অর্থাৎ ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছে। বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা চিরতরে বন্ধ হয় এবং অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহের আইনি ফাঁকফোকর বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়ে ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘বাজেটই অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটায়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।’

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে ইউনিসেফ প্রধান বলেন, ‘সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। তারা তাদের শিক্ষার সুযোগটুকুও হারাতে পারে না। তাদের এবং যেসব জনগোষ্ঠী তাদের আশ্রয় দিয়েছে, সেসব জনগোষ্ঠীর জন্যও বিশ্বকে বিনিয়োগ করতে হবে।’

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আর্থিক সহায়তা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়ার এই সংকটময় সময়ে জরুরি সেবাগুলো সুরক্ষিত রাখতে এবং শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের পিছিয়ে পড়া ঠেকাতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সাহায্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত