বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে কর কমানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা বিশ্ব অর্থনীতিকে গভীর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে সতর্ক বার্তা দিয়েছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ (অক্টোবর, ২০২৬)-এর ‘ইনট্যানজিবল ইয়েট রিয়েল: স্পিলওভারস ফ্রম করপোরেট ইনকাম ট্যাক্সেশন’ শীর্ষক বিশেষ অধ্যায়ে করপোরেট আয়কর নীতির কারণে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া নানা ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের বৈষম্যমূলক করপোরেট আয়কর নীতির সুযোগ নিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবাধে মুনাফা স্থানান্তর করছে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস এবং মেধা, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডের মতো বিমূর্ত সম্পদের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে কর ফাঁকি বা কর কমানোর প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণকারী এবং বিশ্ব করপোরেট মুনাফার প্রায় ১৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী এসব বহুজাতিক কোম্পানির এমন কর্মকাণ্ড পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে।
আইএমএফের গবেষণায় দেখা গেছে, ঋণ নিয়ে কৃত্রিমভাবে কর কমানোর এ জাতীয় নীতি সুদের হার বাড়িয়ে তুলছে, যার ফলে অন্যান্য দেশের মূলধনি বিনিয়োগ সংকুচিত হচ্ছে।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, কোনো দেশ যদি অন্য দেশের তুলনায় করপোরেট আয়করের হার মাত্র ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ায়, তবে পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে সেই দেশে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহে জিডিপির প্রায় ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত ভয়াবহ পতন ঘটতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে সংস্থাটির গবেষকরা মনে করেন, বিশ্বজুড়ে কর ফাঁকি ও কর এড়ানোর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও সমন্বিত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। শক্তিশালী কর ব্যবস্থা শুধু যে দেশীয় অর্থনৈতিক উৎপাদন ধরে রাখবে তা নয়, বরং সরকারগুলোর রাজস্ব আয় সুরক্ষায়ও এটি ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে কর কমানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা বিশ্ব অর্থনীতিকে গভীর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে সতর্ক বার্তা দিয়েছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ (অক্টোবর, ২০২৬)-এর ‘ইনট্যানজিবল ইয়েট রিয়েল: স্পিলওভারস ফ্রম করপোরেট ইনকাম ট্যাক্সেশন’ শীর্ষক বিশেষ অধ্যায়ে করপোরেট আয়কর নীতির কারণে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া নানা ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের বৈষম্যমূলক করপোরেট আয়কর নীতির সুযোগ নিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবাধে মুনাফা স্থানান্তর করছে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস এবং মেধা, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডের মতো বিমূর্ত সম্পদের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে কর ফাঁকি বা কর কমানোর প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণকারী এবং বিশ্ব করপোরেট মুনাফার প্রায় ১৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী এসব বহুজাতিক কোম্পানির এমন কর্মকাণ্ড পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে।
আইএমএফের গবেষণায় দেখা গেছে, ঋণ নিয়ে কৃত্রিমভাবে কর কমানোর এ জাতীয় নীতি সুদের হার বাড়িয়ে তুলছে, যার ফলে অন্যান্য দেশের মূলধনি বিনিয়োগ সংকুচিত হচ্ছে।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, কোনো দেশ যদি অন্য দেশের তুলনায় করপোরেট আয়করের হার মাত্র ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ায়, তবে পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে সেই দেশে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহে জিডিপির প্রায় ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত ভয়াবহ পতন ঘটতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে সংস্থাটির গবেষকরা মনে করেন, বিশ্বজুড়ে কর ফাঁকি ও কর এড়ানোর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও সমন্বিত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। শক্তিশালী কর ব্যবস্থা শুধু যে দেশীয় অর্থনৈতিক উৎপাদন ধরে রাখবে তা নয়, বরং সরকারগুলোর রাজস্ব আয় সুরক্ষায়ও এটি ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন