বিশ্বশান্তি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘শমযাত্রা ২০২৬’। গান, কবিতা, কথামালা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি, সহাবস্থান এবং মানুষের কাছে মানুষের ফিরে আসার বার্তা তুলে ধরা হয় এ আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি দেখতে দর্শকের উপস্থিতিও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।
ভৈরবীর
আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শমযাত্রা ২০২৬’-এর মূল ভাবনা ছিল—হিংসা থেকে শান্তি, বিভাজন থেকে
সহাবস্থান এবং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মানুষের কাছে মানুষের প্রত্যাবর্তন। গান, কবিতা,
স্মৃতি, প্রশ্ন ও অপেক্ষার মধ্য দিয়ে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে এগিয়ে যায় আয়োজনটি।
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান
ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। এছাড়া বক্তব্য দেন ভৈরবীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক
ইলিয়াস নবী ফয়সাল।
তিনি
বলেন, ‘শান্তি শুধু যুদ্ধ না থাকার নাম নয়; শান্তি হলো মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সহাবস্থান,
মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিল্প ও সংস্কৃতি সেই প্রক্রিয়ায়
মানুষের অনুভূতি, প্রশ্ন ও বিবেককে নাড়া দিতে পারে। ‘শমযাত্রা’ সেই জায়গা থেকে আমাদের
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক যাত্রা; যেখানে আমরা যুদ্ধ ও বিভাজনের বিপরীতে মানুষের কাছে মানুষের
ফিরে আসার কথা বলতে চেয়েছি।’
অনুষ্ঠানের
শুরু হয় ‘ধ্বনিল আহ্বান’ গান দিয়ে। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় শান্তি, মানবতা, সাম্য,
যুদ্ধবিরোধিতা, ভালোবাসা, সহাবস্থান ও মানুষের মর্যাদাকে কেন্দ্র করে রচিত বিভিন্ন
গান ও কবিতা।
আয়োজনে
অংশ নেয় ভৈরবী, কণ্ঠ বুয়েট, জগন্নাথ আবৃত্তি সংসদ, উদীচী-জগন্নাথসহ বিভিন্ন শিল্পী
ও পরিবেশক। একক ও সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে
মানবিক অবস্থান, সীমান্ত ও বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষের পরিচয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের
আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন।
গান
ও কবিতার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের কথামালায় উঠে আসে যুদ্ধ, সীমান্ত, ধর্ম, ক্ষমতা,
মানুষের অধিকার, ঘরহারা মানুষের বেদনা এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, ‘শমযাত্রা’ কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য নয়; বরং মানুষের শান্তির
জন্য একটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক উচ্চারণ।
অনুষ্ঠানের
শেষ পর্বে সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি ও মানবিকতার প্রত্যাশাকে আরও গভীর ও
আবেগঘনভাবে তুলে ধরা হয়। ‘চন্দনী রে, ও চন্দনী’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘শমযাত্রা
২০২৬’।
আয়োজকরা
জানান, পৃথিবী বারবার সংঘাত, বিভাজন ও ধ্বংসের মুখোমুখি হলেও মানুষের গান, কবিতা, ভালোবাসা
এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থেমে থাকে না। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘শমযাত্রা’
শান্তির পথে একটি সাংস্কৃতিক যাত্রা।
গান,
কবিতা ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে শান্তির স্বপ্ন, মানবিকতার বোধ
ও সহমর্মিতার শক্তিকে আরও গভীরভাবে জাগিয়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম প্রত্যাশা।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্বশান্তি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘শমযাত্রা ২০২৬’। গান, কবিতা, কথামালা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি, সহাবস্থান এবং মানুষের কাছে মানুষের ফিরে আসার বার্তা তুলে ধরা হয় এ আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি দেখতে দর্শকের উপস্থিতিও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।
ভৈরবীর
আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শমযাত্রা ২০২৬’-এর মূল ভাবনা ছিল—হিংসা থেকে শান্তি, বিভাজন থেকে
সহাবস্থান এবং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মানুষের কাছে মানুষের প্রত্যাবর্তন। গান, কবিতা,
স্মৃতি, প্রশ্ন ও অপেক্ষার মধ্য দিয়ে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে এগিয়ে যায় আয়োজনটি।
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান
ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। এছাড়া বক্তব্য দেন ভৈরবীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক
ইলিয়াস নবী ফয়সাল।
তিনি
বলেন, ‘শান্তি শুধু যুদ্ধ না থাকার নাম নয়; শান্তি হলো মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সহাবস্থান,
মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিল্প ও সংস্কৃতি সেই প্রক্রিয়ায়
মানুষের অনুভূতি, প্রশ্ন ও বিবেককে নাড়া দিতে পারে। ‘শমযাত্রা’ সেই জায়গা থেকে আমাদের
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক যাত্রা; যেখানে আমরা যুদ্ধ ও বিভাজনের বিপরীতে মানুষের কাছে মানুষের
ফিরে আসার কথা বলতে চেয়েছি।’
অনুষ্ঠানের
শুরু হয় ‘ধ্বনিল আহ্বান’ গান দিয়ে। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় শান্তি, মানবতা, সাম্য,
যুদ্ধবিরোধিতা, ভালোবাসা, সহাবস্থান ও মানুষের মর্যাদাকে কেন্দ্র করে রচিত বিভিন্ন
গান ও কবিতা।
আয়োজনে
অংশ নেয় ভৈরবী, কণ্ঠ বুয়েট, জগন্নাথ আবৃত্তি সংসদ, উদীচী-জগন্নাথসহ বিভিন্ন শিল্পী
ও পরিবেশক। একক ও সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে
মানবিক অবস্থান, সীমান্ত ও বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষের পরিচয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের
আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন।
গান
ও কবিতার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের কথামালায় উঠে আসে যুদ্ধ, সীমান্ত, ধর্ম, ক্ষমতা,
মানুষের অধিকার, ঘরহারা মানুষের বেদনা এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, ‘শমযাত্রা’ কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য নয়; বরং মানুষের শান্তির
জন্য একটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক উচ্চারণ।
অনুষ্ঠানের
শেষ পর্বে সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি ও মানবিকতার প্রত্যাশাকে আরও গভীর ও
আবেগঘনভাবে তুলে ধরা হয়। ‘চন্দনী রে, ও চন্দনী’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘শমযাত্রা
২০২৬’।
আয়োজকরা
জানান, পৃথিবী বারবার সংঘাত, বিভাজন ও ধ্বংসের মুখোমুখি হলেও মানুষের গান, কবিতা, ভালোবাসা
এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থেমে থাকে না। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘শমযাত্রা’
শান্তির পথে একটি সাংস্কৃতিক যাত্রা।
গান,
কবিতা ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে শান্তির স্বপ্ন, মানবিকতার বোধ
ও সহমর্মিতার শক্তিকে আরও গভীরভাবে জাগিয়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন