সংবাদ

শান্তি ও মানবতার প্রত্যয়ে ‘শমযাত্রা ২০২৬’


বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

শান্তি ও মানবতার প্রত্যয়ে ‘শমযাত্রা ২০২৬’
ছবি : সংবাদ

বিশ্বশান্তি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘শমযাত্রা ২০২৬’। গান, কবিতা, কথামালা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি, সহাবস্থান এবং মানুষের কাছে মানুষের ফিরে আসার বার্তা তুলে ধরা হয় এ আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি দেখতে দর্শকের উপস্থিতিও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।

ভৈরবীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শমযাত্রা ২০২৬’-এর মূল ভাবনা ছিল—হিংসা থেকে শান্তি, বিভাজন থেকে সহাবস্থান এবং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মানুষের কাছে মানুষের প্রত্যাবর্তন। গান, কবিতা, স্মৃতি, প্রশ্ন ও অপেক্ষার মধ্য দিয়ে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে এগিয়ে যায় আয়োজনটি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। এছাড়া বক্তব্য দেন ভৈরবীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইলিয়াস নবী ফয়সাল।

তিনি বলেন, ‘শান্তি শুধু যুদ্ধ না থাকার নাম নয়; শান্তি হলো মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সহাবস্থান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিল্প ও সংস্কৃতি সেই প্রক্রিয়ায় মানুষের অনুভূতি, প্রশ্ন ও বিবেককে নাড়া দিতে পারে। ‘শমযাত্রা’ সেই জায়গা থেকে আমাদের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক যাত্রা; যেখানে আমরা যুদ্ধ ও বিভাজনের বিপরীতে মানুষের কাছে মানুষের ফিরে আসার কথা বলতে চেয়েছি।’

অনুষ্ঠানের শুরু হয় ‘ধ্বনিল আহ্বান’ গান দিয়ে। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় শান্তি, মানবতা, সাম্য, যুদ্ধবিরোধিতা, ভালোবাসা, সহাবস্থান ও মানুষের মর্যাদাকে কেন্দ্র করে রচিত বিভিন্ন গান ও কবিতা।

আয়োজনে অংশ নেয় ভৈরবী, কণ্ঠ বুয়েট, জগন্নাথ আবৃত্তি সংসদ, উদীচী-জগন্নাথসহ বিভিন্ন শিল্পী ও পরিবেশক। একক ও সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে মানবিক অবস্থান, সীমান্ত ও বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষের পরিচয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন।

গান ও কবিতার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের কথামালায় উঠে আসে যুদ্ধ, সীমান্ত, ধর্ম, ক্ষমতা, মানুষের অধিকার, ঘরহারা মানুষের বেদনা এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আয়োজকদের ভাষ্য, ‘শমযাত্রা’ কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য নয়; বরং মানুষের শান্তির জন্য একটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক উচ্চারণ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি ও মানবিকতার প্রত্যাশাকে আরও গভীর ও আবেগঘনভাবে তুলে ধরা হয়। ‘চন্দনী রে, ও চন্দনী’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘শমযাত্রা ২০২৬’।

আয়োজকরা জানান, পৃথিবী বারবার সংঘাত, বিভাজন ও ধ্বংসের মুখোমুখি হলেও মানুষের গান, কবিতা, ভালোবাসা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থেমে থাকে না। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘শমযাত্রা’ শান্তির পথে একটি সাংস্কৃতিক যাত্রা।

গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে শান্তির স্বপ্ন, মানবিকতার বোধ ও সহমর্মিতার শক্তিকে আরও গভীরভাবে জাগিয়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


শান্তি ও মানবতার প্রত্যয়ে ‘শমযাত্রা ২০২৬’

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিশ্বশান্তি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘শমযাত্রা ২০২৬’। গান, কবিতা, কথামালা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি, সহাবস্থান এবং মানুষের কাছে মানুষের ফিরে আসার বার্তা তুলে ধরা হয় এ আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি দেখতে দর্শকের উপস্থিতিও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।

ভৈরবীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শমযাত্রা ২০২৬’-এর মূল ভাবনা ছিল—হিংসা থেকে শান্তি, বিভাজন থেকে সহাবস্থান এবং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মানুষের কাছে মানুষের প্রত্যাবর্তন। গান, কবিতা, স্মৃতি, প্রশ্ন ও অপেক্ষার মধ্য দিয়ে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে এগিয়ে যায় আয়োজনটি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। এছাড়া বক্তব্য দেন ভৈরবীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইলিয়াস নবী ফয়সাল।

তিনি বলেন, ‘শান্তি শুধু যুদ্ধ না থাকার নাম নয়; শান্তি হলো মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সহাবস্থান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিল্প ও সংস্কৃতি সেই প্রক্রিয়ায় মানুষের অনুভূতি, প্রশ্ন ও বিবেককে নাড়া দিতে পারে। ‘শমযাত্রা’ সেই জায়গা থেকে আমাদের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক যাত্রা; যেখানে আমরা যুদ্ধ ও বিভাজনের বিপরীতে মানুষের কাছে মানুষের ফিরে আসার কথা বলতে চেয়েছি।’

অনুষ্ঠানের শুরু হয় ‘ধ্বনিল আহ্বান’ গান দিয়ে। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় শান্তি, মানবতা, সাম্য, যুদ্ধবিরোধিতা, ভালোবাসা, সহাবস্থান ও মানুষের মর্যাদাকে কেন্দ্র করে রচিত বিভিন্ন গান ও কবিতা।

আয়োজনে অংশ নেয় ভৈরবী, কণ্ঠ বুয়েট, জগন্নাথ আবৃত্তি সংসদ, উদীচী-জগন্নাথসহ বিভিন্ন শিল্পী ও পরিবেশক। একক ও সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে মানবিক অবস্থান, সীমান্ত ও বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষের পরিচয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন।

গান ও কবিতার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের কথামালায় উঠে আসে যুদ্ধ, সীমান্ত, ধর্ম, ক্ষমতা, মানুষের অধিকার, ঘরহারা মানুষের বেদনা এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আয়োজকদের ভাষ্য, ‘শমযাত্রা’ কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য নয়; বরং মানুষের শান্তির জন্য একটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক উচ্চারণ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি ও মানবিকতার প্রত্যাশাকে আরও গভীর ও আবেগঘনভাবে তুলে ধরা হয়। ‘চন্দনী রে, ও চন্দনী’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘শমযাত্রা ২০২৬’।

আয়োজকরা জানান, পৃথিবী বারবার সংঘাত, বিভাজন ও ধ্বংসের মুখোমুখি হলেও মানুষের গান, কবিতা, ভালোবাসা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থেমে থাকে না। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘শমযাত্রা’ শান্তির পথে একটি সাংস্কৃতিক যাত্রা।

গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে শান্তির স্বপ্ন, মানবিকতার বোধ ও সহমর্মিতার শক্তিকে আরও গভীরভাবে জাগিয়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম প্রত্যাশা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত