তুরস্কে সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়ন, একের পর এক স্বাধীন গণমাধ্যম বন্ধ এবং সাংবাদিকদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সুবিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পর থেকেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। অধিকারকর্মীদের মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা, ইন্টারনেটে তথ্যপ্রবাহে সেন্সরশিপ এবং ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ এনে স্বাধীন কণ্ঠ স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রতিবাদকারীরা ‘যথেষ্ট হয়েছে’ এবং ‘আমরা আর শ্বাস নিতে পারছি না’ বলে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে স্লোগান দেন।
ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে কারাবন্দি সাংবাদিকদের ছবি হাতে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেন। সেখানে ক্ষুব্ধ জনতা ‘আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না, অনেক হয়েছে’ এবং ‘চাপের কাছে মাথা নত করব না’ বলে আওয়াজ তোলেন।
পুলিশের হিসেব অনুযায়ী, কেবল ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার কর্মসূচিতেই অন্তত তিন হাজার করে মোট ছয় হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী অংশ নেন। তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, গত দুই মাসেই অন্তত ১১ জন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ চ্যানেল ‘হাল্ক টিভি’তে অভিযান চালিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করে সেখানে সরকারি প্রশাসক বসানো হয়। এর আগে ‘এলজিবিটি প্রচারণার’ অজুহাত তুলে জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘টি২৪’-এর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভ শেষে প্রবীণ সাংবাদিক জাফের আরাপকারলি বলেন, "এই সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নয়। সাংবাদিক ও স্বাধীন গণমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য ও সংবাদ পাওয়ার যে অধিকার সমাজের রয়েছে, সেটি রক্ষারও আন্দোলন।"
নিজে একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়া এই কলাম লেখক আরও বলেন, "সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, সংবাদ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে শাসকগোষ্ঠী সমাজকে ভয় দেখাতে, নীরব করতে ও আতঙ্কিত করতে চায়।"
একইভাবে তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোকহান দুরমুশ সরকারের পরিবর্তিত কৌশলের সমালোচনা করে বলেন, "এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠছে, যেখানে সবকিছু একরকম হয়ে যাবে; একটি কণ্ঠস্বর, সংবাদের একটি উৎস এবং কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত একটি ব্যবস্থা।"
আঙ্কারার বিক্ষোভে বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদমাধ্যম টি২৪-এর সাংবাদিক গোকচের তাহিনচিওগলু বলেন, "সাংবাদিকেরা একটি বার্তা দিতে চান; তারা সাংবাদিকতা করতে চান এবং স্বাধীনভাবে সেই কাজ করার সুযোগ চান।" অন্যদিকে সমাবেশ থেকে কারাবন্দী সাংবাদিক ইসমাইল আরির একটি চিঠি পড়ে শোনানো হয়।
সিনকান কারাগার থেকে পাঠানো সেই চিঠিতে আরি লেখেন, "সাংবাদিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করা ছাড়া অন্য কোনো কারণে আমাকে কারাগারে রাখা হয়নি।"
জীবনের মূল্যবান সময় কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত তারা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষা করবেন এবং কর্তৃপক্ষকে সাংবাদিকদের কাজে হস্তক্ষেপ বন্ধ করে সংবিধান মেনে চলার আহ্বান জানান। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও আঙ্কারার এমন দমনপীড়নে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
তুরস্কে সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়ন, একের পর এক স্বাধীন গণমাধ্যম বন্ধ এবং সাংবাদিকদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সুবিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পর থেকেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। অধিকারকর্মীদের মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা, ইন্টারনেটে তথ্যপ্রবাহে সেন্সরশিপ এবং ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ এনে স্বাধীন কণ্ঠ স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রতিবাদকারীরা ‘যথেষ্ট হয়েছে’ এবং ‘আমরা আর শ্বাস নিতে পারছি না’ বলে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে স্লোগান দেন।
ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে কারাবন্দি সাংবাদিকদের ছবি হাতে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেন। সেখানে ক্ষুব্ধ জনতা ‘আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না, অনেক হয়েছে’ এবং ‘চাপের কাছে মাথা নত করব না’ বলে আওয়াজ তোলেন।
পুলিশের হিসেব অনুযায়ী, কেবল ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার কর্মসূচিতেই অন্তত তিন হাজার করে মোট ছয় হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী অংশ নেন। তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, গত দুই মাসেই অন্তত ১১ জন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ চ্যানেল ‘হাল্ক টিভি’তে অভিযান চালিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করে সেখানে সরকারি প্রশাসক বসানো হয়। এর আগে ‘এলজিবিটি প্রচারণার’ অজুহাত তুলে জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘টি২৪’-এর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভ শেষে প্রবীণ সাংবাদিক জাফের আরাপকারলি বলেন, "এই সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নয়। সাংবাদিক ও স্বাধীন গণমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য ও সংবাদ পাওয়ার যে অধিকার সমাজের রয়েছে, সেটি রক্ষারও আন্দোলন।"
নিজে একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়া এই কলাম লেখক আরও বলেন, "সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, সংবাদ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে শাসকগোষ্ঠী সমাজকে ভয় দেখাতে, নীরব করতে ও আতঙ্কিত করতে চায়।"
একইভাবে তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোকহান দুরমুশ সরকারের পরিবর্তিত কৌশলের সমালোচনা করে বলেন, "এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠছে, যেখানে সবকিছু একরকম হয়ে যাবে; একটি কণ্ঠস্বর, সংবাদের একটি উৎস এবং কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত একটি ব্যবস্থা।"
আঙ্কারার বিক্ষোভে বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদমাধ্যম টি২৪-এর সাংবাদিক গোকচের তাহিনচিওগলু বলেন, "সাংবাদিকেরা একটি বার্তা দিতে চান; তারা সাংবাদিকতা করতে চান এবং স্বাধীনভাবে সেই কাজ করার সুযোগ চান।" অন্যদিকে সমাবেশ থেকে কারাবন্দী সাংবাদিক ইসমাইল আরির একটি চিঠি পড়ে শোনানো হয়।
সিনকান কারাগার থেকে পাঠানো সেই চিঠিতে আরি লেখেন, "সাংবাদিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করা ছাড়া অন্য কোনো কারণে আমাকে কারাগারে রাখা হয়নি।"
জীবনের মূল্যবান সময় কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত তারা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষা করবেন এবং কর্তৃপক্ষকে সাংবাদিকদের কাজে হস্তক্ষেপ বন্ধ করে সংবিধান মেনে চলার আহ্বান জানান। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও আঙ্কারার এমন দমনপীড়নে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন